» অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাই হলো কাল

প্রকাশিত: ২১. জানুয়ারি. ২০১৬ | বৃহস্পতিবার

এসবিএন স্পোর্টস ডেস্ক: খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে গতকাল বাংলাদেশ অধিনায়ক-কোচ তথা টিম ম্যানেজমেন্ট মিলে অতিরিক্ত ‘এক্সপেরিমেন্ট’ করতে গিয়ে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে হেরে গেল বাংলাদেশ দল।

এক ম্যাচে পাঁচ পাঁচটি পরিবর্তন ছাড়াও রয়েছে ৪ জনেরই অভিষেক। প্রতিপক্ষ যতই দুর্বলই হোক না কেন সিরিজ জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর আর কোনো ক্রিকেট দলের টিম ম্যানেজমেন্ট কি এ ধরনের ঝুঁকি নেবে?

শুধু যে দল গঠনে এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়েছে -তা নয়, গতকাল ম্যাচের পরতে পরতে চালানো হলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পাওয়ার প্লে-র প্রথম ৫ ওভারেই ২ অভিষিক্ত বোলার আবু হায়দার রনি ও মোহাম্মদ শহীদকে দিয়ে বল করানো হলো। আর তার করা ওই ৫ ওভারেই আসে ৫১ রান।

এছাড়াও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে ব্যাটিংয়ের সময়। অষ্টম ওভারের শেষ বলে সৌম্য সরকার যখন আউট হয় তখন ২ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬৯ রান। তখনো টাইগারদের দখলে ছিল ম্যাচ।

কিন্তু চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে নামানো হলো অভিষিক্ত মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। যখন বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল একটি ঝড়ো ইনিংস সেই সময়ে মোসাদ্দেক ১৯ বল খেলে করলেন ১৫ রান। মোসাদ্দেক যখন ব্যাট হাতে নামেন তখন ওভার প্রতি রান দরকার ছিল সাড়ে নয় করে, আর যখন আউট হলেন তখন আস্কিং রানরেট সাড়ে ১৪। অথচ ওই সময়ে অন্যপ্রান্তে প্রায় ১৬০ স্ট্রাইকরেটে রান করছিলেন সাব্বির রহমান। সেখানে মোসাদ্দেকের স্ট্রাইকরেট ৭৯ মাত্র।

ম্যাচের পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে চতুর্থ নম্বরে মোসাদ্দেকের পরিবর্তে সাকিবকে কি নামানো যেত না? এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘অবশ্যই নামানো যেত। এটা হয়েছে দেখার জন্য, ওই পজিশনে ওই খেলোয়াড় কি করে…। কিন্তু আমার মনে হয়, ভবিষ্যতে এই জায়গাগুলোতে চোখ রাখতে হবে। মূল ব্যাপার হচ্ছে, আমরা সবাই জানি যে কোনো পজিশনে সাকিব ব্যাটিং করতে পারে। ওখানে একটা পরীক্ষা ছিল, নতুন যারা এসেছে তারা এই ধরনের পরিস্থিতিতে ওই অবস্থানে কেমন খেলে।’

এখানে কথা থেকে যায়, দলের জয়ের চেয়েও কি, মাশরাফির কাছে ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ বড় হয়ে গেল? এমন প্রশ্ন ওঠা এখন অস্বাভাবিক নয়। কারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্দেশ্যই তো ভালো দল গঠন করা। সেখানে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাই পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ালো।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৭১ বার

Share Button