অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় ১৫ নম্বর সাক্ষী

প্রকাশিত: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০

অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় ১৫ নম্বর সাক্ষী

সিলেট প্রতিনিধি

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল আমিন বিপ্লবের আদালতে এই মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন মদন মোহন কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কাশেম।

এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলার ১৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করলেন। আবুল কাশেম এই মামলার সুরতহাল প্রতিবেদনের সাক্ষী ছিলেন। অনন্ত বিজয় দাশের মৃত্যুর পর সিলেট এমএজি ওসামানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুরতহাল প্রস্তুত করে পুলিশ। এসময় সাক্ষি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাশেম।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, আবুল কাশেমের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে এই মামলায় ২১ সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জন সাক্ষ্য প্রদান করলেন।

তিনি জানান, এরআগে গত ১৮ নভেম্বর আবুল কাশেমের সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিলো। তবে ওইদিন আসামিদের আদালতে হাজির না করায় পিছিয়ে যায় সাক্ষ্য গ্রহণ।
এরআগে সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর এই মামলায় একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আর ৬ অক্টোবর বিজ্ঞান লেখক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় দুই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল মজিদ খান বলেন, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীসহ ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি আছে। দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্নের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১২ মে সকালে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে নিজ বাসার সামনে খুন হন বিজ্ঞান লেখক ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনন্ত বিজয় দাশ। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলে উগ্রবাদীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

সুবিদবাজারের রবীন্দ্র কুমার দাশ ও পীযূষ রানী দাশের দুই মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে অনন্ত ছিলেন সবার ছোট। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে মাস্টার্স করার পর সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজারে পূবালী ব্যাংকের ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে যোগ দেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের দিনই অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে এতে অভিযোগ করা হয়।

মামলাটি পুলিশ থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর হয়। সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৯ মে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সন্দেহভাজন আটক ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযুক্ত ৬ জন হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন (২৫), খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ (২৭), সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বীরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ (২৫), কানাইঘাটের পূর্ব ফালজুর গ্রামের মান্নান ইয়াইয়া ওরফে মান্নান রাহী ওরফে এবি মান্নান ইয়াইয়া ওরফে ইবনে মঈন (২৪), কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ (২৫) ও সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকায় বসবাসকারী সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমান (৩০)।

এর মধ্যে আবুল, ফয়সাল ও হারুন পলাতক। ফারাবী ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলারও আসামি। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে মান্নান রাহী আদালতে অনন্ত হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর মান্নান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গত বছরের ৭ মে সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই মামলার সর্বশেষ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এরপর সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে বারবার বারবার পিছিয়ে যায় সাক্ষ্যগ্রহণ। ফলে এখন পর্যন্ত এই মামলার আশাব্যঞ্জক কোনো অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘদিন সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলার পর সম্প্রতি মামলাটি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।