» অপকর্মের দায় প্রধানমন্ত্রী নিতে নারাজ: মানিক

প্রকাশিত: ০৮. নভেম্বর. ২০১৯ | শুক্রবার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার ঢাকা: শুধুমাত্র দলীয় লুটেরাদের বিরুদ্ধে নয় ,নিজ আত্বীয় স্বজনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার এই যুদ্ধ ঘোষণা তৃণমুল থেকে শীর্ষ পর্যায়ে ত্যাগী নেতা কর্মীদের কাছে তো রয়েছেই এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষেরাও শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক এ ভুমিকা’কে দ্যর্থহীনভাবে প্রসংশা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ডিএসসিসির ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক। তিনি বলেন নিজ দলের অপরাধীদের অপকর্মেও প্রধানমন্ত্রী আপোষহীননীতি গ্রহণ করেছেন, এতে কোনো ছাড় দেওয়া হবেনা বলেও ঘোষণা দিয়েছেন । সে জন্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ ভুমিকা অব্যাহত থাকলে জনতার হৃদয়ে তার মর্যাদার আসনটিও স্থায়ীভাবে শক্তিশালী হবে বলে মনে করে দেশের জনগন। মানিক বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় সভা সমাবেশে এমনকি সরকারী কর্মকর্তাসহ সর্বত্রই বক্তৃতা বিবৃতির মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন দুর্নীতিতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি দলীয় নেতাকর্মী কিংবা আত্মীয় স্বজনের কারো অপকর্মের দায় সরকার প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নিতে নারাজ। এই আপোষহীন মনোভাব ব্যক্ত করার কারনে আজ দুর্নীতিবাজরা হুশিয়ার হয়েছে। যুগান্তরকারী এ অভিযান শুরু করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর কাছে জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানী তোপখানায়- “ওয়ার্ক ফোর জার্নালিস্ট” আয়োজিত দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রেক্ষাপট শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ডিএসসিসি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সংগঠনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান মানিক প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন “ওয়ার্ক ফোর জার্নালিস্ট” এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিএফইউজে ও ডিইউজে সদস্য মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার। এতে আরো বক্তব্য রাখেন উক্ত সংগঠনের সদস্য সচিব মাহি আল ফয়সাল খান, বিএফইউজের সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন, এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ স্বপ্নীল সরকার, ডাক্তার শাকিলুর রহমান, মোঃ শফিকুল ইসলাম সুজন, এ্যাডভোকেট নুরুন নবী উজ্জল ও আশফাকুল ইসলাম সুজন প্রমুখ।

মানিক বলেন , নিরাপদ ও নতুন জীবনমান নিশ্চিত করতে নানান উন্নয়ন মূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরলসভাবে আমি আমার ২৬ নং ওয়ার্ডকে সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই এলাকার মানুষের আত্মসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে জনগনের চাহিদা অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সামাজিক নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করেত এলাকার জনগণকে সংগঠিত করে নানা রকম সামাজিক অপরাধকে প্রতিরোধ করে চলেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন সেবা পেয়ে সন্তুষ প্রকাশ করে এলাকাবাসী জানান বর্তমান সরকারের সময়ে আমি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাটের সংস্কার এবং পুন:নির্মান করে এলাকাবাসীর ভোগান্তি দুর করতে সক্ষম হয়েছি। এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার থেকে আসা বিভিন্ন সেবা সামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে জনসেবাকে আমি এবাদত মনে করি। মানিক বলেন দুর্নীতির উই পোকার সমূলে বিনাশ চাই। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা বলেছেন দুর্নীতি হলো উই পোকা। এই উই পোকা উন্নয়নকে ধ্বংষ করে। উই পোকা যদি ধরে তাহলে সবখেয়ে তুষে পরিণত করে। একটা ঘরের খুটি বাইরে থেকে হয়তো মযবুত দেখা যাচ্ছে কিন্তু ভেতর ধরেছে উই পোকা। খুটির বাইরের রংটাই হয়তো আছে ভেতরটা একেবারেই ফাঁপা, একদিন সামান্য বাতাসে সম্পূর্ণ ঘর ধসে পরে যাবে। সেই আলোকে প্রধানমন্ত্রী ঠিক ভাবেই বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রাখতে এই দুর্নীতির উই পোকার সমূলের বিনাশ চান।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন প্রগতি, শান্তি ও অগ্রগতির প্রধান চার শত্রুকে চিহ্নিত করেছেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতি এসবের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত চলবে। এই চার শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইটা কেবল সরকার করবে, সরকার প্রধান করবেন, তা নয় এতে সর্বস্থরের মানুষকেই এই লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে সেই সাথে “ওয়ার্ক ফোর জার্নালিস্ট” এই সংগঠনসহ সবাইকে এই লড়াইয়ের সমর্থনে এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের বহু বছরের আচরিত বদঅভ্যাস থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অলিদ তালুকদার বলেন, আমাদের স্বাধীকার সংগ্রামে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পেছনে যে আকাঙ্খা গুলো প্রেরণা ও নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে তার অন্যতম ছিল গণতন্ত্র ও বাক ব্যক্তির স্বাধীনতা। মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা তথা মুক্ত গণমাধ্যম অর্থনৈতি, মুক্তির সুশাসন, প্রতিষ্ঠা। পোষণ বঞ্চনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু বিজয় অর্জনের প্রায় পাঁচদশক পরও আমাদের একই ধরনের লক্ষ্য অর্জনে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। সভ্য সমাজে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম হাত ধরাধরি করে চলে কিন্তু আজ গণমাধ্যমের উপর খড়গ নেমেছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৬৩ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031