শিরোনামঃ-


» অপরাধ বাড়ছে যে সব কারণে

প্রকাশিত: ২৯. জুলাই. ২০২০ | বুধবার

অপরাধের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে । করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে লকডাউনের মধ্যে গত এপ্রিলে দেশের থানাগুলোতে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছিল । কিন্তু এলেও পর আবার তা বাড়ছে।

জুন মাসে দেশের ৬৬০টি থানায় যেসব মামলা হয়েছে, তার এক তৃতীয়াংশই দায়ের করা হয়েছে মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায়।

নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও বিভিন্ন পারিবারিক অপরাধের ঘটনাও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। আবার মহামারীর মধ্যে অনেক ঘটনা থানা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না বলে অপরাধ বিশ্লেষকদের ধারণা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বেই ডমেসিটিক ভায়োলেন্স বেড়ে গেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। মহামারীর মধ্যে অনেক ঘটনার তথ্য পুলিশ পর্যন্ত যাচ্ছে না।
তবে বাংলাদেশের মত অনুন্নত দেশে অপরাধের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়, সেটা নিয়ে ‘প্রশ্ন আছে’ বলে মন্তব্য করেন জিয়া রহমান।

তিনি বলেন, অপরাধের সাথে দারিদ্র্যের সম্পর্ক আছে। মহামারীর কারণে অনেকের চাকরি চলে গেছে, অনেকে পেশা হারিয়েছেন, বেকার হয়েছেন। এটা সাথে অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মহামারীর সঙ্কট মোকাবিলা করতে গিয়ে তাদের মামলা তদন্তের গতিও কিছুটা কমে এসেছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের সব থানা মিলে গত জানুয়ারি মাসে মামলা হয়েছিল ১৮ হাজার ৬টি। ফেব্রুয়ারি মাসে এই সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৪৭২টি।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হয় মার্চ মাসে। সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে শুরু হয় লকডাউনের বিধিনিষেধ। এ মাসে দেশে মামলার সংখ্যা কমে হয় ১৭ হাজার ১৫০টি।

এপ্রিলে পুরোদমে লকডাউনের মধ্যে সারা দেশে মোট মামলার সংখ্যা এক ধাক্কায় ৯ হাজার ৯৮টিতে নেমে আসে।

মে মাসে কয়েক ধাপে বিভিন্ন বিধিনেষেধ তুলে নেওয়া হলে মানুষের চলাচল বাড়ে। ৩১ মে সব অফিস খুলে দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়ে যায়।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মে মাসে সারাদেশে মামলার সংখ্যা এপিলের চেয়ে প্রায় আড়াইহাজার বেড়ে হয় ১১ হাজার ৫০০। জুন মাসে তা আরও বেড়ে ১৩ হাজার ১৯২টিতে পৌঁছায়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, মহামারী প্রতিরোধে পুলিশকে থাকতে হয়েছে সামনের কাতারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের নিয়মিত কাজে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

লকডাউনের মধ্যে আমাদের নিয়মিত কাজের গতি কমে গিয়েছিল, জুলাই মাসে আবার আগের অবস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে।

লকডাউন শিথিল হওয়ার পর নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, মারামরির অভিযোগ এপ্রিল-মে মাসের চেয়ে বেশি আসছে বলে জানান এই পুলিশ পরিদর্শক।

লকডাউনের সময় রাস্তায় লোকজন কম ছিল। প্রায় সব শ্রেণির মানুষ ঘরে থাকতে বাধ্য হয়েছে। এটার একটা প্রভাব তো অপরাধ আর মামলার সংখ্যায় পড়েছে। তবে যেসব অভিযোগ এসেছে, গুরুত্ব বুঝে তার তদন্ত এবং আসামি ধরার ক্ষেত্রে কোন ছাড় আমরা দিইনি।

আইন ও শালিস কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে দেশে ৬০১টি ধর্ষণ, স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্যুর ১০৭টি ঘটনা ঘটেছে। যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে ১০৩টি, যার কারণে ৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। শিশু নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে ৬৮০টি।

এই ছয় মাসের মধ্যে জানুয়ারি মাসে যেখানে ৯৮টি ধর্ষণের তথ্য এসেছিল সেখানে ফ্রেব্রুয়ারিতে ৯২টি এবং মার্চে ৬৭টি ঘটনার তথ্য এসেছে আসনের পরিসংখ্যানে।

এরপর এপ্রিলে ৭৬টি, মে মাসে ৯৪টি ধর্ষণের ঘটনার তথ্য এলেও জুনে তা এক লাফে বেড়ে ১৭৪টি হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জুন মাসে ২৭টি ডাকাতি, ৭৯টি দস্যুতা, ১০১৪টি নারী নির্যাতন, ২০৬টি শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে সারা দেশে। আর মাদক আইনের মামলা হয়েছে ৪ হাজার ১৪৫টি।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, লকডাউনের সময় বাইরে লোক সমাগম কম ছিল, তখন অপরাধও কম হয়েছে। এখন অবস্থা বদলাচ্ছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩০ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031