» অপরূপা বারমিংহাম

প্রকাশিত: ১৫. ডিসেম্বর. ২০১৯ | রবিবার


চৌধুরী হাফিজ আহমদ
যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম একটা এলাকার মধ্যে বিশাল ও অন্যতম দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এর নাম বারমিংহাম যা ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিভাগের অন্তর্ভুক্ত , অনেক অনেক কারনে বারমিংহাম পরিচিত এর মধ্যে কিছু কিছু আকর্ষণ রয়েছে যার কারনে প্রায় ৫০ মিলিয়ন পর্যটক ভ্রমন করেন বৎসরে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে প্রায় ৩ মিলিয়ন আসেন বেড়াবার উদ্দেশ্যে । প্রায় ৬ থেকে ৭ টি ইউনিভার্সিটিতেই রয়েছে নিয়মিত কয়েক মিলিয়ন ছাত্রের আনাগোনা , কলেজ রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শতের অধিক , চারিদিকে এমন করে সাজানো হয়েছে যার কারনে বলতেই হবে অপরুপা বারমিংহাম । হাতের কাছে প্রায় সব কিছুই সহজ লভ্য , মুল শহরে রয়েছে মিউজিয়াম যাহাকে বলা হয় অন্যতম মাষ্টার পিস , রয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন , সি লাইফ , দেখার মতো প্রাচীন স্তাপত্য , চিড়িয়াখানা , তিঙ্ক ট্যাঙ্ক , কারুকার্যয় ময় লাইব্রেরী , এন ই সি , ন্যাশন্যাল ইনডোর এরিনা থিয়েটার , বিশাল বিশাল স্টেডিয়াম ,এয়ারপোর্ট , সকল ধর্মের লোকদের সম্মিলন স্তল , যোগাযোগ মাধ্যমের এক বিশাল ন্যাটওয়ারক , এশিয়ান ইউরুপের পৃথিবীর সকল দেশের নাগরিকদের জন্য রয়েছে বিশাল বিশাল বাজার । বারমিংহাম সম্পর্কে চমৎকার অভিজ্ঞ্যতা রয়েছে বিশ্ব বলয়ে – লয়েডস ব্যাংক – এইচ এস বি সি ব্যাংক ( পুরাতন নাম মিডল্যান্ড ব্যাংক ) এর জন্মস্তান – ক্যাডবারি চকলেট – বার্ড কাস্তারড – এইচ পি সস -টাইপু চা – বালতি কারি – জুয়েলারি কোয়ার্টার যা সোনা রুপা মনি মুক্তার জন্য বিখ্যাত সহ অনেক কিছুর জন্য শুধু খ্যাতি নয় একমাত্র অবস্তান ধরে রাখতে সক্ষম হচ্চছে যুগ যুগ ধরে । প্রায় হাজার একর বিশাল আয়তনে আছে ছোট বড় মিলিয়ে ৭০০ পার্ক , ইউরুপের মধ্যে একমাত্র বড় পার্ক বলে খ্যাত ছুটন পার্ক সহ আছে বিশাল শপিং সেন্টার – একমাত্র সিটি কাউন্সিল তাও কথিত আছে ইউরুপের মধ্যে সবচেয়ে বেশী কর্মী যাহাদের । বৎসরে ৮৫০ থেকে হাজার খানেক সমাবেশ এক্সিবিশন এর দায়িত্ব পালন করে এন ই সি , প্রায় ৭০ এর মত উৎতসব পালন করে এই এলাকার লোকেরা , খুব শিগগীর হতে যাচ্ছে কমনউয়েলথ গেইম ২০২২ এখানেই , অতীতে এখানে হয়েছে আন্তর্জাতিক ভাবে অনেক খেলা ও সম্মিলন , এখানে বাংলাদেশীদের অবস্তান ও কম নয় প্রায় ৫ লক্ষাদিক হবে আশে পাশের এলাকা মিলিয়ে , পাকিস্তানি , ইন্ডিয়ান , আফ্রিকান , চায়নিজ , আমেরিকান , ইউরুপিয়ান প্রায় সব মিলিয়ে স্তানিয়দের সমান হয়ে যাবে , মুসলমানদের জন্য এই এলাকা এক বিশাল ঘাঁটি , এখানে রয়েছে প্রায় ৩০০ মাসজিদ ২০০ এর মত মক্তব মাদ্রাসা , এমন কি রয়েছে ডজন খানেক ইসলামিক স্কুল , মেয়েদের জন্য রয়েছে আলাদা কলেজ ও স্কুল । মন্দির গুরুদুয়ারা ও কম নয় , চলতে পথে চোখে পরে । অতীতে অত্র এলাকা ছিল ইন্ডাস্ট্রি বেষ্টিত এখন সেই অবস্তা নাই তবু ঐতিজ্য ধরে রাখছে জাগুয়ার ল্যান্ড রবার ,রোল রয়েস ইত্যাদি নাম করা ব্র্যান্ড ,একা জুয়েলারি কোয়ার্টার জোগান দিচ্ছে চাহিদার প্রায় অর্ধেক , সারা দেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্তার রয়েছে এক মহা সম্মিলন , রেল বলুন আর বাস এমন কি নৌ পথের ও রয়েছে মহা সম্মিলন এত এত নদী ও খালের সংযোগ এখানে যা ভেনিস থেকে ও বেশী প্রায় ই বিভিন্ন জাতি সম্প্রদায় নৌকা বাইচ এর প্রতিযোগিতা করে জাক জমক ভাবে ,এই এলাকা সমতল বলে এখানে অনেক কৃষি কাজ হয় এতে সসবজি সহ খামার আছে অনেক , এখানে সামাজিক ভাবে বসবাস করা সহজ , লন্ডনের মত ভীরে নেই দ্রব্য মুল্য সহ সাধারন জীবন যাপন এখনো সাধ্যের ভিতরেই রয়েছে ,ভ্রমন পিপাসুরা এই এলাকায় প্রায় প্রতিটি শহর ঘুরে ঘুরে তাদের মনের পিপাসা মিতঠায় – এলাকা ঘিরে রয়েছে বিখ্যাত উইলিয়াম সেক্সপিয়ার এ জন্ম শহর কোভেন্ট্রি রাগবি ইত্যাদি এত এত বিখ্যাত বিশাল ব্যক্তিরা যাহারা এই এলাকাকে পরিচিত করেছেন বিশ্ব দরবারে যার সংখ্যা অনেক অনেক , আবার এই এলাকাতে রয়েছে অনেক তীর্থ স্তান ওয়াল্টার এবট – অ্যালফ্রেড বার্ড -মাথু বল্টোন – পগুস ক্যায়সার – রিচারড কাডবারি – থেকে নিয়ে বর্তমান ক্রিকেটার মইন খান । এত এত প্রতিভা বান এই এলাকায় এসেছেন এবং সমৃদ্ধ করেছেন নিজেকে যার অনেক লম্বা লিস্ট তবু উল্লেখ্য হচ্ছেন জোসেফ চেম্বারলিন এর মত ব্যক্তি – এর মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায় কম নয় , বাণংলাদেশী সমাজে অনেক আছেন যাহারা এখন সুনামের সাথে মুল ধারায় কাজ করে যাচ্ছেন ,এই এলাকা থেকে সংসদে প্রায় ৩ জন সদস্য নির্বাচিত হয়েচছেন এর মধ্যে সাঈদা ওয়ারসী ও বর্তমান অর্থ মন্ত্রী সাজিদ জাভেদ অন্যতম , রাজনীতিতে এশিয়ান রা এখন এই এলাকায় বেশ সরব , এবং প্রায় প্রথম কাতারেই আছেন , বিগত স্তানিয় নির্বাচনে প্রায় ডজন খানেক কাউন্সিলে প্রতিধন্ধিতা করেচছেন বাঞংলাদেশী যদিয় জিতেচছেন ২ জন । সব দিক দিয়েই বারমিংহাম এখন সয়ং সম্পূর্ণ এই চর্চা অব্যাহত থাকলে এই এলাকা হয়ে যাবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে , বর্তমানে ভ্রমন পিপাসুরা যে ভাবে ভীর জমাচ্ছেন এতেই বুঝা যাচ্ছে ভবিস্যত উজ্জ্বল , নগরীর মেয়র সাংসদ সবাই বলতেছেন বারমিংহাম বর্তমান সময়ে ব্যবসার জন্য হচ্ছে এক চমৎকার জায়গা , ব্যবসায়ীরা ও ভীর করছেন এই এলাকায় ইনভেস্ট করতে , নাম করা অনেক ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে ই এখানে অবস্তান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন -এর মধ্যে এশিয়ায় জনপ্রিয় রতন টাটা — মিতেল – আফজাল – সহ রয়েছেন পরিচিত গায়িকা আশা বসলে ।বর্তমান সময়ের উপযোগী করে যেমন করে সাজানো হচ্ছে এতে বলতেই হবে অপরূপা বারমিংহাম । এলাকা সমতল ও গোটা দেশের মধ্যবর্তী বলেই বলা হয় মিদল্যান্ড – এখানে আছে বনভুমি থেকে জঙ্গল , শহর থেকেই আধা ঘণ্টা ড্রাইভ করলে দেখা যাবে ফরেস্ট সেখানে বিশাল এলাকা জুরে আছে জঙ্গল ও বন্য প্রাণী শুকনা মৌসুমে বিকেলে হাটতে খুব ভালই লাগে , অনেকেই অত্র এলাকাকে বেছে নেয় চলাচলের সুবিধার্থে । মৌসুম এত ভাল থাকে প্রায় সব ঋতুতে তাই পর্যটক দের আনাগোনা লেগেই থাকে একমাত্র কম হল সমুদ্র নাই বলে , সমুদ্র দেখতে হলে প্রয়োজন প্রায় দের ঘণ্টা ড্রাইভ নতুবা সব কিছুই হাতের নাগালে । খুব শীগগির বারমিংহামে লাগছে কঞ্জাসচন চার্জ শুধু মাত্র শহরের ভিতরে যেতেই দিতে হবে গাড়ি প্রতি টাকা যার নাম দেয়া হয়েছে ক্লিন এয়ার জোন । রাতের জিবনে ও রয়েছে বারমিংহামের অবস্তান – এখানে হোটেল রয়েছে অসঙংখ্য ৫ তারকা থেকে এয়ার বি এন বি চারিদিকে , রিসোর্ট রয়েছে শতের কাছাকাছি , অন্যান্য এলাকার চাইতে মুল্য বেশী নয় ।এই এলাকায় আরও আছে বহু পুরাকীর্তি ক্যাসল মন্দির গির্জা মসজিদ , চলতে পথে এই সব স্তাপনা জানান দিচ্ছে যার যার স্বকীয়তা , হান্ডস ওয়য়ারথে দেখা যায় শিখ দের বিশাল স্বর্ণ গুরু দোয়ারা – আবার স্মলহীত এলাকায় দেখা যাবে বিসশাল বিশাল মাসজিদ , ক্যাথিড্রাল নামে রয়েছে বিশাল বিশাল গির্জা সবাই যার যার মতো সজাগ রয়েছে ,সামাজিক অর্থনীতিক রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে বারমিংহাম অনন্য ভুমিকা পালন করছে , ছাত্রদের জন্য এই এলাকা হচ্ছে আশীর্বাদ এখানে ইউনিভারসিটি গুলাতে বসে বিশ্ব মেলা প্ৃথিবীর এমন কোন দেশ নাই যেখান থেকে ছাত্র আসেনা – শিক্ষা জীবন থেকেই খুজছে তাহাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ প্রেম পিপাসুদের তীর্থ স্তান হচ্ছে উইলিয়াম সেক্সপিয়ারের জন্ম এলাকা – বহু বহু শাখা প্রশাখা এখান থেকেই পাচ্ছে স্তির হবার দিশা , এখানে আসে পর্যটকরা দলে দলে ,তাহাদের পদচারনায় ক্যাসল গুলা মুখরিত – আমি অনেক কে জিগ্যেস করেছি এখানে আসার কারন জবাবে প্রায় সবাই বলেছেন খুব সহজ কিন্তু মন জয় করার মতো যায়গা দেখতেই প্রেমে পরে যাই – আল্লাহ তায়ালা অনেক জাতি গোসটি পয়দা করেছেন এবং তিনি ই দিয়েছেন সব কিছুতে সুন্দরযতা তাহার কুদরতি নিদর্শন রেখেই তিনি আবার ধ্বংস করেছেন বহু বহু জাতি গুষ্টি – গোটা বিলেত ঘুরলে দেখা যাবে সেই রকম অনেক নিদর্শন , প্রাচীন প্রাচীন তথ্যে দেখা যায় অর্থাৎ পৌরাণিক কাহিনী তে পাওয়া যায় অনেক অবিশ্বাস্য তথ্য এতে বুঝাই যায় এই সব এলাকায় জন বসতি বহু বহু হাজার বছর আগেকার । এখনো অনেক এলাকায় রয়েছে সতর্কতা অবলম্বনের নোটিস যেখানে প্রবেশে বাধা , অতীতের কালে খণ্ড খণ্ড রাজ্য ছিল ক্যাসলের সু উচ্ছচ প্রাচীর দেখলে বুঝা যায় এদের কীর্তি ছিল শাসক এবং শোষণের এই এলাকায় সব চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গত হওয়া বিসশ্ব যুদ্ধ হিটলারের বাহিনীর আঘাতে আঘাতে মিডল্যান্ড ক্ষত বিক্ষত সেই সব ধং্বংসাবশেষ এখন হয়ে গেছে অত্র এলাকার পযটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ ,ব্রিটিশ রা চালাক তাই এখান থেকে ও কামাই করছে দেদারসে – গোটা এলাকার প্রধান প্রধান আকর্ষণ দেখতেই লাগবে ২ সপ্তাহ , আমি এই এলাকায় থাকি এবং পচছন্দ করি তাই আপনাদের সবাইকেই আমন্ত্রন জানাই আসুন এবং দেখে যান এই এলাকা হয়তো উপকৃত হয়ে দেখা ও জানার জগত কে চমকে দিতে প্র পারে ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৬৯০ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031