» অপ্রতিরোধ্য এক নেত্রী সালমা ইসলাম

প্রকাশিত: ০৩. ডিসেম্বর. ২০১৮ | সোমবার

মাহমুদা রহমান মুন্নী

অপ্রতিরোধ্য এক নেত্রী সাবেক প্রতিমন্ত্রী সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম ।একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন তিনি । ইতোমধ্যে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। এসময় বাতিল করা হয় বিএনপি প্রার্থী আবু আশফাকের মনোনয়নপত্র।
তবে বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চাইলে আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। এই পর্বের পর ১০ ডিসেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
রাজধানী ঢাকার পাশ্ববর্তী বহুল আলোচিত ঢাকা-১ দোহার-নবাবগঞ্জ আসনে প্রার্থী হিসেবে লড়বেনসালমা ইসলাম। বিগত ৫ বছর তূণমূল জনসাধরণের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়ন মূখী কার্যক্রম ব্যস্থবায়ন করায় এবারও তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা তাকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী করবে এমনটাই ধারনা স্থানীয় সচেতন মহলের।

সালমা ইসলামের সমর্থক তৃণমূলের নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অবহেলিত দোহার নবাবগঞ্জের পরিবর্তনের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছিলো। অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। অবহেলীত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যবপক ভূমিকা পালন করেছেন। তাই তাদের আস্থা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের প্রতিই।

উপজেলার কৈলাইল গ্রামের গৃহবধু রাশেদা বেগম বলেন,রাজধানী ঢাকার সাথে প্রত্যন্ত গ্রাম্য এলাকা দোহার ও নবাবগঞ্জের ব্যাপক তফাৎ ছিল। গ্রাম্য এলাকায় সড়কসহ নদীতে সেতু তৈরী হওয়ায় দ্রুত উৎপাদিত পণ্য উপজেলা সদরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে পারছেন তারা। ফলে অনেকের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরে আসছে। এছাড়া সাংসদ সালমা ইসলাম তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যপক ভূমিকা পালন করেছেন বলেও জানান তিনি।

নয়নশ্রী ইউপির কুমার গোল্লা গ্রামের সমাজকর্মী কনিকা রাণী হালদার বলেন, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের গণ উন্নয়নমূখী কার্যক্রমের বদলে এখন পাল্টে গেছে এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক চিত্র। পুরুষের পাশাপাশি নারী সমাজও এখন উপার্জনমুখী কাজে সম্পৃক্ত হয়েছে। শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার জন্য এখন আর শহর মূখী হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।

দোহার চর মাহমুদপুর এলাকার আবুল কালাম বলেন, আমাদের এই অঞ্চলের অনেকই মন্ত্রী,এমপি হয়েছেন। কেউ আমাদের কথা দিয়ে কথা রাখেনী। সালমা ইসলাম দোহার উপজেলাধীন আওরঙ্গবাদ-বাহ্রা বাজার ঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণমূলক প্রকল্পে ২১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছেন যা এখন চলমান। এছাড়া ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দোহার উপজেলাধীন নারিশা বাজার ও মেঘুলা বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদীর বাম তীর অস্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ সম্পাদন।

১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দোহার উপজেলা ও প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলাধীন শোল্লা ইউনিয়নের পাতিলঝাপ-চকরিয়া-কোন্ডা ও কৈলাইল ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম-মালিকান্দা প্রান্তে কালিগঙ্গা নদীর ডান তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ প্রক্রিয়াধীন। যা দোহার ও নবাবগঞ্জবাসীকে বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষা করবে। এখন আমরা নির্ভয়ে বসবাস করছি। নবাবগঞ্জ টিকরপুর এলাকার বাসিন্দা

আসলাম খাঁন বলেন, সাংসদ সালমা ইসলাম জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে জিনজিরা-কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ- দোহার-শ্রীনগর আ লিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণে দাবি জানান। বর্তমানে ৪৬৯ কোটি টাকা ব্যায়ে মহাসড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ চলমান রয়েছে। ১২২টি সড়কের কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে ৫৩টি কাঁচা সড়ক নির্মাণ। ৯৫টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ। ৩টি বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্র স্থাপন। বিভিন্ন নদী ও খালে ১৫টি ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া নয়নশ্রী ও চুড়াইন ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কৃষক ও গ্রামীণ মজুর, শ্রমিকসহ শিক্ষা ও চিকিৎসার উন্নয়নে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কাজ করায় দোহার ও নবাবগঞ্জের প্রতিটি গ্রাম ও পাড়া মহল্লায় তার গণভিত্তি ও সর্বোচ্চ সমর্থক রয়েছে। এ বিপুল সংখ্যক সমর্থকের দাবির মুখে এ আসনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে তার ঘনিষ্টরা জানিয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫৭ বার

Share Button

Calendar

February 2019
S M T W T F S
« Jan    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728