শিরোনামঃ-


» অলি আহমদ এখন কোন জোটে আছেন ?

প্রকাশিত: ২৯. জুন. ২০১৯ | শনিবার

এলডিপি সভাপতি কর্ণেল অলি আহমদ এখন কোন জোটে আছেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ । তিনি বলেন , ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে যেমন ঐক্য নাই তেমনি ২০ দলীয় জোটের মধ্যেও ঐক্য নাই। আর তাদের মধ্যে যে ঐক্য নাই, সেটির বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে কর্ণেল অলি আহমদের আলাদা জোট গঠন করা।

শুক্রবার (২৮ জুন) চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের সাথে অনৈক্য প্রকাশ করায় এলডিপি সভাপতি কর্ণেল অলি আহমদকে আমার অভিনন্দন। তবে, এখন তিনি কোথায় আছেন সে প্রশ্ন থেকে যায়। তিনি কি নিজে ঘোষিত জোটের নেতা হিসেবে আছেন, নাকি বিশ দলীয় জোটের নেতা হিসেবে আছেন, নাকি ঐক্যফ্রন্টের নেতা হিসেবে আছেন- রাজনীতির মাঠে এটা একটা বড় প্রশ্ন । আশাকরি তিনি তার পরিচয় জনগণের সামনে তুলে ধরবেন।’

আওয়ামীলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম।

তথ্যমন্ত্রী এসময় বলেন, ‘জিয়াউর রহমান রাজনীতিবিদদের কেনা-বেচার হাট বসিয়ে বিএনপি গঠন করেছেন। সেই হাটে যারা বিক্রিত হয়েছিলেন তাদের মাঝে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়েছেন। সে কারণে দেখতে পাচ্ছি বিএনপি অফিসে ১০ই জুন থেকে বিক্ষোভ চলছে। ১৮ দিনের বেশি সময় ধরে নিজেদের অফিস যেখানে সাধারণ কর্মীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছে, তারা নাকি সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন করবে!’

‘যারা নিজেদের কর্মীদের তুষ্ট করতে পারেননা, শৃঙ্খলার মধ্যে রাখতে পারেননা, তারা দেশের মানুষকে কিভাবে খুশি রাখবেন এবং দেশ কিভাবে পরিচালনা করবেন?’, প্রশ্ন রাখেন ড. হাছান।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যেখানে রাজনীতির জন্য আমাদের পূর্বসুরিরা জীবন দিয়েছেন সেখানে আজকে আমরা সামান্য স্বার্থ ত্যাগ করতে পারিনা। দলের মধ্যে লেখাপড়া ও আদর্শের চর্চা করার অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাস, দলের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। আমাদের সাথে বিএনপির পার্থক্য সেখানেই আমরা দলের সাধারণ সমর্থক ও কর্মীরা মনে করি আমাদের প্রথম পরিচয় বাঙ্গালী তারপর দ্বিতীয় পরিচয় হচ্ছে কে মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান। আর যারা বিএনপি করেন তাদের প্রথম পরিচয় মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ। দ্বিতীয় পরিচয় হচ্ছে তারা বাংলাদেশি নাকি বাঙ্গালী তা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে থাকেন। এটাই হচ্ছে তাদের সাথে আমাদের মূল পার্থক্য।’

জাতির পিতার জীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করে মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সংসার পেতেছিলেন কিন্তু সংসার কখনো করেন নাই। সংসার করতে না পারার কারণ হলো তিনি একটা বড় সময় থাকতেন জেলে। একবার বঙ্গবন্ধুকে আদালতে হাজিরার জন্য আনা হলে ছোটভাই শেখ কামালকে নিয়ে দেখতে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন শেখ কামাল জানতেন না বঙ্গবন্ধু তার বাবা। শেখ হাসিনা তাকে বাবা বলে ডাকছিলেন তখন শেখ কামাল বলেছিলেন, হাসু আপু আমি কি তোমার বাবাকে বাবা ডাকতে পারি ? এই ছিল বঙ্গবন্ধুর সংসার। জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার সহকর্মীরা রাজনীতি করেছিলেন। রাজনীতি, মানুষ ও দেশের তরে অকাতরে জীবন দিয়েছেন। ‘

আওয়ামী লীগকে একবিংশ শতাবব্দীর একটি দল হিসেবে গড়তে হবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দল যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যদি থাকতে চায়, জনগণকে খুশী রাখতে হবে। তাদের খুশী রাখতে হলে আমাদের বিনয়ী হতে হবে। জনগণ আমাদের ভোট না দিলে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব পর নয়। দেশ পরিবর্তন করতে হলে একটি দলের ক্ষমতার ধারাবাহিকতা থাকা দরকার। আমাদের সমস্ত আচার আচরণে মানুষ যাতে আমাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকে। যারা বিএনপি ও তাদের ঘরনার রাজনীতি করেন তাদের সাথে আমাদের কর্মীদের পার্থক্যের প্রমাণ রাখতে হবে এবং রাজনৈতিক চেতনা ও উৎকর্ষতা বজায় রাখতে হবে।’

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৩০ বার

Share Button

Calendar

November 2020
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930