» অস্ট্রেলিয়ার ইমু এখন খুলনায়

প্রকাশিত: ১৫. জানুয়ারি. ২০১৯ | মঙ্গলবার

রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল : অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখি ‘ইমু’ এখন খুলনা জেলার বটিয়াঘাটায়। এক বা দুটি নয়, রয়েছে ১৯০টি ইমু পাখি। ঘরে ঘরে ইমু পাখিকে জনপ্রিয় করা এবং বেকারদেরকে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে পরীক্ষামূলকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এ খামার।
বটিয়াঘাটা থানা সদর থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে কিসমত ফুলতলা এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে ইমু পাখির খামার। রাস্তার পাশে বালু দিয়ে ভরাট করা ১ বিঘা খোলা জায়গায় করা হয়েছে এ খামার। খামারের একপাশে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ২০ ফুট প্রশস্ত একটি পুকুরও রয়েছে। খামারের চারিপাশে রয়েছে নেটের বেড়া। খোলা জায়গায় এ খামারটি গড়ে ওঠায় প্রতিদিন ভিড় করছে বহু দর্শনার্থী।
জানা গেছে, ইমু পাখি উড়তে পারে না। এরা খুবই নিরীহ প্রকৃতির। মুরগির ন্যায় এরা দলবদ্ধ হয়ে মাঠে চড়ে বেড়ায় এবং সেই সাথে ঘাস, পাতা, নুড়ি পাথর খেয়ে থাকে। এরা চরম ঠান্ডা ও চরম গরমের মধ্যে সহজেই অভিযোজিত হতে পারে। বাংলাদেশের তাপমাত্রায় ইমু পাখির কোনো সমস্যা হয়না। একটা ইমু পাখি সাধারণত ১ থেকে দেড় বছর বয়সে শারীরিক পূর্ণতা লাভ করে। ২৫ বছর পর্যন্ত প্রজনন ক্ষমতা থাকে। ২০-২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। ইমু পাখি ৫-৬ ফিট উঁচু হয়। প্রতিটির ওজন ৪০-৬০ কেজি হয়ে থাকে। একটি স্ত্রী ইমু পাখি দেড় থেকে ২ বছর বয়সে প্রজনন ক্ষমতা লাভ করে। সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ এই ৬ মাস ডিম দেয়। এরা বছরে ২৫-৩৫টা পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। ইমু পাখির ডিম সবুজ বর্ণের এবং সাইজে মুরগির ডিম থেকে ১০-১২ গুণ বড় হয়। প্রজননকালে এরা ৩ থেকে ৫ দিন অন্তর অন্তর ডিম পাড়ে। জন্ম নেওয়ার পর ছানা হালকা বাদামীর ওপর রেক রেক দাগ থাকে। ৪ মাস বয়সের পর এর গায়ের রঙ পরিবর্তন হয়ে গাঢ় বাদামী রঙ ধারণ করে। এক বছর বয়সের পর এর গায়ে রঙ বাদামীর ওপর কিছু নিলাভ সবুজ পালক থাকে। দেড় বছর পর গায়ের রঙ বাদামী বর্ণের হয়ে যায়।
বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ইমুকে জনপ্রিয় করতে খামারটি পরীক্ষামূলকভাবে গড়ে তুলেছেন বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আলম খান। তিনি জানান, প্রতি জোড়া ১৬ হাজার টাকা দরে ক্রয় করেন। প্রথমে ২শটি ইমু পাখির বাচ্চা এবং ১২টি উট পাখির বাচ্চা কেনেন। তখন প্রতিটি ইমুর ওজন ছিল ৬শ-৭শ গ্রাম। এখন প্রতিটির ওজন ৪০-৫০ কেজি। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় খাপ খাওয়াতে না পেরে ১০টি উট পাখি মারা গেছে। কিন্তু ইমু পাখি জীবিত রয়েছে ১৯০টি। ইমুর মাংস বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। কারণ এর মাংস ৯৮ ভাগ পর্যন্ত চর্বিমুক্ত। এর চামড়ার নীচে একটি চর্বির আস্তরণ রয়েছে। যা দিয়ে মূল্যবান ওষুধ তৈরি হয়। আমাদের দেশের পরিবেশে ইমুর মৃত্যুহার খুবই কম। তিনি আশা করেন, খুব শিগগিরই বাংলাদেশে ইমুর খামার জনপ্রিয়তা পাবে এবং গ্রাম-গঞ্জের ঘরে ঘরে এ পাখির খামার হবে, বেকার নারী-পুরুষরা স্বাবলম্বী হবে।
খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ম. জাভেদ ইকবাল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, দাপ্তরিক কাজে দাকোপ যাওয়ার পথে ইমু পাখির এই খামারটি চেখে পড়লো। উড়তে অক্ষম ইমুকে এভাবে পালন করা যায় আগে জানা ছিল না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ বঙ্কিম কুমার হালদার জানান, ইমু পাখির মাংস বেশ সুস্বাদু। এর মাংস কোলেস্টেরল ফ্রি। ইমুর মাংস বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। এর মাংস ৯৮ ভাগ পর্যন্ত চর্বিমুক্ত। এর মৃত্যুহার টার্কি, ব্রয়লারের থেকে অনেক কম। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ইমুর খামার বেশ সম্ভাবনাময়।
বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ সুশান্ত কুমার রায় জানান, এটি সম্ভাবনাময় পাখি এবং এর মাংস সুস্বাদু।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৬৭ বার

Share Button

Calendar

August 2019
S M T W T F S
« Jul    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031