» আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে নেতা কর্মীদের মধ্যে ব্যপক কর্ম চাঞ্চল্য

প্রকাশিত: ১১. ডিসেম্বর. ২০১৯ | বুধবার

আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে নেতা কর্মীদের মধ্যে এখন ব্যপক কর্ম চাঞ্চল্য । প্রতিদিন কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পদপ্রত্যাশী নেতারা হাজিরা দিচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, একযোগে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠান হওয়ায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের এবার কপাল খুলছে। আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর। ইতোমধ্যে পাঁচটি সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও মৎস্যজীবী লীগ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত এক মাসে এসব সংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন ছাত্রলীগের সাবেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা। তারা নজর কাড়তে চান দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে। ৯টি সহযোগী সংগঠনের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও কৃষক লীগের প্রতি ছাত্রলীগের সাবেক তরুণ নেতাদের আগ্রহ একটু বেশি। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা পাওয়ায় মৎস্যজীবী লীগের প্রতি এখন নতুন করে সাবেক ছাত্রনেতাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে এসব সংগঠনের বেশির ভাগ সম্মেলন দীর্ঘদিন না হওয়ায় সাবেক ছাত্রনেতাদের অনেকেই পদবঞ্চিত ছিলেন। আবার কেউ কেউ সহযোগী সংগঠনে ভিড়তে না পেরে রাজনীতি ছেড়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। অনেকেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে থাকলেও ছাত্রজীবন শেষে প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থেকেছেন। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে থাকলেও ছাত্রজীবন শেষ করে সহযোগী সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাননি, আবার কেউ কেউ পছন্দমতো পদ না পেয়ে পুরোপুরি নিজেকে রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোযোগী হয়েছেন। তাদেরই একজন রাশেদুল ইসলাম শাফিন।

তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রায় এক দশক ছাত্ররাজনীতির ইতি টানলেও সহযোগী সংগঠনগুলোর কোনোটাতেই ভিড়তে পারেননি তিনি। দীর্ঘদিন পর সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন হওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। যুবলীগ কিংবা স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতি দিয়েই আবার রাজপথে সক্রিয় হতে চান তিনি। রাশেদুল ইসলাম শাফিন বলেন, ছাত্রজীবনে ওয়ান-ইলেভেনের সময় নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে রাজপথে মিছিল, মিটিং, মানববন্ধনসহ সব কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলাম। ছাত্ররাজনীতি শেষ করে মূল দলে যুক্ত না থাকলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে থাকি। এখন নেত্রীর সুনজরের প্রত্যাশায় আছি।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন সামিউল বাসীর সামী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রজীবন শেষ করে প্রায় এক দশক কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও এখন আবার সক্রিয় হয়েছেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। কৃষকলীগের রাজনীতির প্রতি তার ঝোঁক রয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে এখন তার সরব পদচারণা। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাত ও কৃষকের উন্নয়নের জন্যই কৃষকলীগের রাজনীতি করতে চাই। সুযোগ পেলে এই অঙ্গনে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিব।

শুধু শাফিন, সামী নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন প্রিন্স ও ওমর শরীফের মতো অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করছেন সহযোগী সংগঠনের পছন্দমতো কোনো পদ পেতে কিংবা মূল দলে ভিড়তে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন অথবা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন তারাও দৌড়ঝাঁপ করছেন তাদের পছন্দমতো পদ পাওয়ার জন্য। তারাও আশায় বুক বাঁধছেন সহযোগী সংগঠন কিংবা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে এবার তাদের ঠাঁই হবে।

এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগকে বলা হয় ছাত্রলীগের পুনর্বাসন কেন্দ্র। যারা বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ করে আসছে, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছে তাদেরকে এখানে ঠাঁই দেয়া হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না। তিনি বলেন, সর্বোপরি নেত্রী যেভাবে বলবেন সেভাবেই কমিটি সাজানো হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি বলেন, অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সাবেক ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। যারা বিভিন্ন সময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, রাজনীতিতে সক্রিয় তাদের মূল্যায়ন করা হবে। তবে বিতর্কিতদের কমিটিতে ঠাঁই হবে না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের আগের কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক বেশ কয়েকজন নেতা পদ পেয়েছেন। সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে কেউ যদি অভিজ্ঞতা ও বয়স অনুযায়ী এখানে কোনো পদে আসার সুযোগ পাওয়ার দাবি রাখে তাহলে অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সভাপতি মো: বজলুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২০ ও ২১ ডিসেম্বর। এটা নিয়ে এখন আমরা ব্যস্ত আছি। তিনি বলেন, আমাদের এখানে সাবেক ছাত্রনেতাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে। গত কমিটির অনেকেই ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা অনেকেই আছি, যারা বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ করে আসছি। সময়ের পরিক্রমায় এখন নেত্রী আমাকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০৬ বার

Share Button