আজ  থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন দেশের ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী

প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

আজ  থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন  দেশের ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী

নিয়োগবিধি সংশোধন করে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আজ  থেকে কর্মবিরতি চলছে সারাদেশের ২৬ হাজার স্বাস্থ্য পরিদর্শক,সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের।
বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন দাবি আদায় বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ এ কর্মবিরতীর ঘোষণা দেন। তাদের কর্মবিরতির ফলে সারা বাংলাদেশের ১ লাখ ২০ হাজার অস্থায়ী টিকা দান কেন্দ্রে মধ্যে প্রতিদিন ২০ হাজার কেন্দ্র থেকে মা ও শিশু টিকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে।
কর্মবিরতি চলাকালীন সময় টিকাদান কাজবন্ধ করে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা সকাল ৮টা থেকে ৩টা পর্যন্ত স্ব-স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করেছেন।
তাদের দাবিটি হলো “নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ক্রমানুসারে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরির্দশক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের বেতন গ্রেড যথাক্রমে ১১, ১২ ও ১৩তম গ্রেডে উন্নীতকরণ”।
বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন দাবি আদায় বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক শেখ রবিউল আলম খোকন বলেন, আমাদের এ তৃণমূল স্বাস্থ্য সহকারীদের কাজের অর্জনেই আজ বাংলাদেশ টিকাদানে বিশ্বের রোল মডেলে পরিনত হয়েছে। আন্তজাতি অঙ্গনে বাংলাদেশ যতটি পুরষ্কার পেয়েছেন তা আমাদের অর্জনের মাধ্যমে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনেশন এন্ড ইমুনাইজেশন মাননীয় প্রধানমস্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভ্যাকসিন হিরো উপাধিতে ভূষিত করেন। এ সম্মাননা অর্জনে একমাত্র আমাদের স্বাস্থ্য পরিদর্শক,সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীগন।
আমরা দাবি আদায়ের লক্ষে গত একমাস আগে স্বাস্থ্য সহকারীদের পক্ষ থেকে পুরো দেশের জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে স্মারকলিপি প্রদান করি। আমাদের দবিটি ন্যায় সংঙ্গত দাবি।
আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের এক মহাসমাবেশে আমাদের বেতন বৈষম্য নিরসনের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০১৮ সালে ২ জানুয়ারি তৎকালিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন। এছাড়া চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আমরা হাম-রুবেলা ক্যাম্পইন বর্জন করলে স্বাস্থ্য মন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালক মহোদয় আমাদের দাবি সমূহ মেনে নিয়ে যে লিখিত সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করেন। আমরা এসব পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই।
তাই আমরা নিয়োগবিধি সংশোধন করে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আজ ২৬ নভেম্বর থেকে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রের ইপিআই কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি এবং আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন কার্যক্রম থেকেও বিরত থাকব। দাবি পূরণে প্রজ্ঞাপন না হওয়া পযর্ন্ত এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।