» আজ বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ; আকাশে দেখা যাবে “রিং অফ ফায়ার”

প্রকাশিত: ২১. জুন. ২০২০ | রবিবার

অঞ্জন করঃ

আজ একুশে জুন ২০২০। সকাল ৯টা ৪৬ মিনিট ৬ সেকেন্ডে কঙ্গোর ইম্পফোল্ডো শহরে সূর্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ শুরু হবে কঙ্গোর বোমা শহরে ১০টা ৪৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে। সর্বোচ্চ গ্রহণ ভারতের যোশীমঠ শহরে দেখা যাবে ১২টা ৪০ মিনিট ৬ সেকেন্ডে। কেন্দ্রীয় গ্রহণ শেষ হবে ফিলিপিনের সামার শহরে ২টা ৩১ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। আর সূর্যগ্রহণ শেষ হবে ফিলিপিনের মিন্দানাও শহরে ৩টা ৩৪ মিনিটে। আকাশে উদিত হবে ‘’রিং অব ফায়ার” যা বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণের একটি বিশেষত্ব। এই সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একত্রিত হয়৷ যার ফলে চাঁদ সরাসরি সূর্যের সামনে চলে আসে৷ আর সেটা পৃথিবী থেকে দেখা যায়৷ কিন্তু এক্ষেত্রে চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যকে ঢাকে না৷ এর কারণ হল চাঁদ সূর্যের থেকে অনেকটা দূরে থাকে৷ যার ফলে আকাশে সূর্যের থেকে চাঁদের আকার ছোটো হয়৷ সেই কারণেই চাঁদের চারপাশ দিয়ে সূর্যের সূক্ষ্ম রিংটি দেখা যায়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারি আবহাওয়াবিদ রোনাকী খোন্দকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে বাংলাদেশের আকাশেও আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই গ্রহণ ঢাকা বিভাগে গ্রহণ শুরু হবে, বেলা ১১টা ২৩ মিনিট শুরু হবে, শেষ হবে ২টা ৫২ মিনিটে। সিলেটে- ১১টা ২৭ মিনিটে শুরু হবে, শেষ হবে- ২টা ৫৪ মিনিটে। ময়মনসিংহে- ১১টা ২৩ মিনিটে শুরু হবে, শেষ হবে ২টা ৫১ মিনিটে। চট্টগ্রামে- ১১টা ২৮ মিনিটে শুরু হবে, শেষ হবে- ২টা ৫৫ মিনিটে। খুলনায়- ১১টা ২০ মিনিটে শুরু হবে, শেষ হবে- ২টা ৫০ মিনিটে। বরিশালে ১১টা ২৩ মিনিটে শুরু হবে, শেষ হবে ২টা ৫২ মিনিটে। রাজশাহীতে ১১টা ১৭ মিনিটে শুরু হব, শেষ হবে ২টা ৪৭ মিনিটে এবং রংপুরে ১১টা ১৭ মিনিটে শুরু হবে, শেষ হবে ২টা ৪৮ মিনিটে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকায় কেন্দ্রীয়গ্রহণ হবে ১টা ১২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে, ময়মনসিংহে ১টা ১২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে, চট্টগ্রামে ১টা ১৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে, সিলেটে ১টা ১৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে, খুলনায় ১টা ৯ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে, বরিশালে ১টা ১২ মিনিটি ৩২ সেকেন্ডে, রাজশাহীতে ১টা ৬ মিনিটি ২৬ সেকেন্ডে এবং রংপুরে ১টা ৭ মিনিট ২০ সেকেন্ডে কেন্দ্রীয় সূর্যগ্রহণ হবে।

আজ বছরের দীর্ঘতম দিন, যা কর্কটক্রান্তি দিবস নামে পরিচিত। এই দীর্ঘতম দিনে যদি আকাশ মেঘমুক্ত থাকে তাহলে সারাদেশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোন দর্শকের কাছে কিছু সময়ের জন্য সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায় তখন সেই ঘটনাকেই সূর্যগ্রহণ বলা হয়। অমাবস্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা ঘটে। পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাচঁটি সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে দুইটি সূর্যগ্রহণ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয়। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ শেষ সূর্যগ্রহণ হয়। এইদিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয় এবং রিং অফ ফায়ার তৈরি হয়। আরব ভূখণ্ড থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়।

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণও পূর্ণ সূর্যগ্রহণের মতোই৷ এই সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একত্রিত হয়৷ যার ফলে চাঁদ সরাসরি সূর্যের সামনে চলে আসে৷ আর সেটা পৃথিবী থেকে দেখা যায়৷ কিন্তু এক্ষেত্রে চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যকে ঢাকে না৷ তাই এটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ নয়৷ এর কারণ হল চাঁদ সূর্যের থেকে অনেকটা দূরে থাকে৷ যার ফলে আকাশে সূর্যের থেকে চাঁদের আকার ছোটো হয়৷ সেই কারণেই চাঁদের চারপাশ দিয়ে সূর্যের সূক্ষ্ম রিংটি দেখা যায়৷ ‘রিং অফ ফায়ার’ খুবই বিরল একটা দৃশ্য। চাঁদ সূর্যের ৯৯.৪% গ্রাস করবে। নাসার মতে, তা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সামনে। ১৯৩৮ সালে এই ঘটনা ঘটেছিল, তারপর ২০২০-তে দেখা যাচ্ছে এই দিনে সূর্য গ্রহণ। এরপর ২০৩৯-এ এই সংযোগ পুনরায় দেখা যাবে।

সূর্যগ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই আমাদেরকে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। এই সূর্যগ্রহণ দেখার সময় যে সতর্কতাগুলি অবলম্বন করা উচিত তা হল, খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত নয় আইএসও সার্টিফায়েড চশমা বা ক্যামেরা ব্যবহার করতে হবে ৷ এই চশমা ব্যবহারের ফলে চোখের ক্ষতি এড়ানো যায়। ক্যামেরা থেকে ছবি স্ক্রিনে প্রোজেকশনের মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ দেখা সবচেয়ে সুরক্ষিত। সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য এক্স রে ফিল্ম বা সাধারণ সান গ্লাসের ব্যবহার না করাই ভালো ৷ রঙিন কাচও সূর্যগ্রহণ দেখার উপযোগী নয় ৷

গ্রহণ নিয়ে সমাজে অনেক ধরনের কুসংস্কার আছে। ঐ সময়ে খেতে নেই, তৈরি করা খাবার ফেলে দিতে হয় ইত্যাদি। গ্রহণ দেখাও অনেকের কাছে নিষেধ। সূর্যকে গিলে ফেলা রাহুর ভয়ে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে বলে জ্যোতিষীরা দাবী করেন। কিন্তু আজকের দিনে আমরা যখন পরিষ্কার বুঝতে পারি পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে চাঁদ এসে যাওয়ার ফলে গ্রহণ হচ্ছে, তাই নতুন জীবাণুর জন্ম, রশ্মির বেশি প্রভাব ইত্যাদির ভিক্তি অবান্তর।

সাধারণত বলা হয়, সূর্য গ্রহণের সময় জল বা কোনও খাবার খাওয়া উচিত না। তবে বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে চলে আসা এই প্রথার ওপর কাজ করে চলেছেন। ভারতীয় নিউট্রিশনিস্ট এবং ম্যাক্রোবায়োটিক হেলথ কোচ শিল্পা অরোরা মনে করেন, এটা এমন একটা সময় যখন আপনি নিজের পরিপাক তন্ত্রসহ শরীর ও মাথাকেও আরাম দেন।” এই সময়টা-তে প্রচুর শক্তির সৃষ্টি হয় সেই সঙ্গে দৃঢ় কম্পন দেখা যায়। সূর্য গ্রহণের সময় ধ্যানে মগ্ন থাকা ও শান্ত থাকাটা খুবই জরুরি।”, ”নিজের শরীরকে আরাম দেওয়ার জন্য হালকা তরল পানীয়, শেক ও জুস্ পান করতে পারেন। পৃথিবীর কম্পন শক্তি এই সময় বেশি থাকার জন্য আপনি লাভবান হবেন ও মানসিক দিক দিয়েও স্বচ্ছতা লাভ করতে পারবেন। আর এক কথায় বলতে গেলে, গ্রহণের সময় খাওয়া, স্নান করা, বাইরে বের হওয়াতে কোনও বাধা নেই।

অঞ্জন কর : লেখক, কবি

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩০৭ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031