» আজ সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যার ১৩ বছর

প্রকাশিত: ২৭. জানুয়ারি. ২০১৮ | শনিবার

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ১৩ম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার (২৭ জানুয়ারি)। ২০০৫ সালের এদিনে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় তিনিসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় কমপক্ষে শতাধিক লোকজন আহত হন।

হত্যাকাণ্ডের সাড়ে নয় বছর পর সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হয়েছে । তবে ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার পায়নি নিহতের স্বজনরা। শুনানি হয় কিন্তু বিচারের মুখ তারা দেখতে পাননি তারা।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভায় শেষে ফেরার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন এএমএস কিবরিয়া ও তার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন এবং সিদ্দিক আলী।

এছাড়া আহত হন কমপক্ষে শতাধিক নেতাকর্মী।
ঘটনার রাতেই হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান সংসদ সদস্য বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুইটি মামলা করেন।

মামলার তদন্তে কাজ করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু স্বাভাবিক তদন্ত নয়, দলীয় বিবেচনায় মামলাটি পরিচালিত হতে থাকে।

সিআইডি’র তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান মামলাটি তদন্ত করে ১০ জনের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের ২০ মার্চ প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কিন্তু মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান ২০০৬ সালের ৩ মে সিলেট দ্রুত বিচার আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন খারিজ করলে ১৪ মে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সরকারের প্রতি ‘কেন অধিকতর তদন্ত করা যাবে না’ মর্মে রুল জারি করেন। এই রুলের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ১৮ মে লিভ টু আপিল করে সরকার। আপিল বিভাগ সরকারের আপিল খারিজ করেন।

এরপর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এই মামলার অধিকতর তদন্ত শুরু হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামকে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তিনি ২০১১ সালের ২০ জুন আরও ১৪ জনকে আসামি করে আলোচিত এই মামলার অধিকতর তদন্তের অভিযোগপত্র দাখিল করেন। হত্যাকাণ্ডের সাড়ে ছয় বছর পর এসময় লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি হান্নানসহ ২৪ জনকে আসামি করে অধিকতর তদন্তের অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

২০১১ সালের ২৮ জুন কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া চার্জশিটের ওপর হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল আদালতে আবারও নারাজি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার মূল নথি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে থাকায় বিচারক রাজিব কুমার বিশ্বাস উপ-নথির মাধ্যমে আবেদনটি সিলেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডের অধিকতর তদন্তের অভিযোগপত্রের নারাজি আবেদন গ্রহণ করেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক দিলীপ কুমার বণিক। তিনি সিনিয়র পুলিশ অফিসারের মাধ্যমে মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন। এরপর সিআইডি’র এএসপি মেহেরুন নেছা দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাড়ে নয় বছর পর ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তারের আদালতে নতুন ১১ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

অন্তর্ভুক্ত আসামিরা হলেন- সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জি কে গউছ, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি তাজ উদ্দিন, মুফতি সফিকুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, বদরুল, মহিবুর রহমান, কাজল আহমেদ, হাফেজ ইয়াহিয়া। একই সঙ্গে পূর্বের চার্জশিটভুক্ত ইউসুফ বিন শরীফ, আবু বক্কর আব্দুল করিম ও মরহুম আহছান উল্লাহকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।

এরপর ২০১৫ সালের জুনে মামলাটি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়। এরপর এখানে বিচার কার্য চলছে। বর্তমানে চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ। ৪৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আর বিস্ফোরক মামলাটি হবিগঞ্জ আদালতে রয়েছে। দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নিহতের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা বিচারের মুখ দেখেনি।

তাদের দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে বিচার না হলে কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে কিনা সন্দেহ আছে।

মামলার বাদী হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ খান বলেন, কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড সারা বিশ্ববাসীকে জাগিয়ে দিয়েছিল। বর্তমান সরকার প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আশা করি, দ্রুতই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হবে।

সৌজন্যে: ভোরের কাগজ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩১৭ বার

Share Button