» আতঙ্কগ্রস্তরা গাঢাকা দিলেও উন্নয়ন কাজে মনযোগী কাউন্সিলর মানিক

প্রকাশিত: ২৫. অক্টোবর. ২০১৯ | শুক্রবার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার :

ছাত্রলীগ, যুবলীগ এরপর সেচ্ছাসেবকলীগ থেকে শুরু হওয়া চলমান শুদ্ধি অভিযানে উদগ্রীব এমপি-মন্ত্রী-নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল কর্মিরা পর্যন্ত। ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে শুরু হওয়া এই অভিযানে যারা এতদিন নিজেদেরেকে ধরা ছোয়ার উর্দ্ধে মনে করতেন তারাও শামূকের মত ভয়ে কুকড়ে আড়ালে-আবডালে লুকিয়ে পড়েছেন। যারা ইতিমধ্যে নিজেদেরেকে অপরাধী বলে মনে করছে অথচ তাদের নাম এখনো কোথাও প্রকাশ হয়নি তারা চেষ্টা করছে দেশ ছেড়ে পালাতে। বিষয়টি সরকারী দলের সর্বোচ্চ মহলে জোরে-শোরে আলোচিত হওয়ায় তারাও চাইছেন চলমান শুদ্ধি অভিযানকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছানোর পর তার ইতি টানতে। সে পর্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত নিরাপরাধ নেতাদেরকে অভয় দিয়ে দায়ীদেরকে বিএনপি জামাতের সাথে ট্যাগ লাগিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে দেশে ও বিদেশে প্রচার প্রপাগন্ডায় জড়িয়ে পড়বে।
খবরে প্রকাশ, ক্যাসিনো ও মাদক কারবার, টাকা পাচার, দখল, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের অন্তত অর্ধশত ওয়ার্ড কাউন্সিলর এখন গোয়েন্দা নজরদারীতে। এর পাশাপাশী সরকার বিগত ছয়মাস যাবত ধরে দেশজুড়ে লুটেরা ও চাঁদাবাজ শ্রেণীর নেতাদের সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত্ব সংগ্রহ করেছে একাধিক গোয়েন্দাসংস্থা মাধ্যমে। সরকারের উন্নয়ন গণতন্ত্রকে যারা বাধাগ্রস্ত করেছে তারা সংশোধিত না হলে সময়ে সময়ে সরকারের চলমান অভিযানে তাদেরকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষত: হাইব্রীড নেতাদের বিরুদ্ধে কঠিণনীতি গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া বিতর্কিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও এলাকাভিত্তিক যে সমস্ত নেতারা সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে জনগণের উপর জমিদারী স্টাইলে ভয়-ভীতি-দুর্নীতি, চাঁদাবাজী এলাকা ভিত্ত্বিক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে তাদেরকে পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ তালিকায় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় যাদের নাম এসেছে তার অধিকাংশই অনুমান নির্ভর। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটির (ডিএনসিসি) ৫ জন ও দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) ৭ কাউন্সিলর। এদের মধ্যে ডিএসসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশ্রাফুজ্জামান (ফরিদ), ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তফা জামান পপি, ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন, ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী তরিকুল ইসলাম সজীব, ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক।
এর মধ্যে ডিএসসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর একেএম মমিনুল হক সাঈদকে গত সপ্তাহে তাকে তার পদ থেকে অপসারণ করেছে মন্ত্রণালয়। জানা যায়, তিনি সিঙ্গাপুর পালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে ডিএনসিসির কাউন্সিলরদের মধ্যে ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবাশ্বের হোসেন, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান (ইরান), ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম (হাসু)’র নামও থাকতে পারে।
অনুসন্ধানকালে তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তালিকাভুক্ত কাউন্সিলরদের অধিকাংশই মিডিয়ায় মুখ খুলতে নারাজ। কেউ কেউ গা ঢাকা দিয়েছেন। অফিস বা বাসায় তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। সেবাগ্রহীতারাও তাদের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না। ওয়ার্ড সচিব বা কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে চলছে সেবা কার্যক্রম।

শুদ্ধি অভিযানের বিপরীত হচ্ছে ডিএসসিসির ২৬ নং ওয়ার্ড, সরেজমিন ঘুরে দেখা যাচ্ছে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক সর্বক্ষণ তার কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এলাকার বাসিন্দারা ও সাধারণ জনগণ তাদের সেবাগুলো ঠিক মতো পাচ্ছেন। এতে কোনো ভাবেই এ ওয়ার্ডের নাগরিকদের কোনো সমস্যা ঝামেলায় পড়তে হয়নি। বিগত কয়েকদিন কাউন্সিলর মানিকের বিরুদ্ধে পত্র পত্রিকায় যে সমস্ত অভিযোগ আসছে সেই বিষয়টি এলাকার বাসিন্দারা ও সাধারণ জনগণ সেই বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি । সাধারণ জনগণ এর কাছ থেকে জানা যায় কতিপয় কিছু কুচক্রী মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তাদের কাউন্সিলর মানিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে । মানিকের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ গুলো মেনে নিতে পারেননি এই ২৬ নং ওয়ার্ড আজিমপুর ও লালবাগ এলাকার জনগণ । সরেজমিন ঘুরে এ প্রতিবেদক মানিকের বিষয়ে কোনো অভিযোগ খুঁজে পাননি।

তবে, ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক সম্পর্কে তার প্রতিদ্বন্দী প্রতিপক্ষ যে মিথ্যা প্রপাগন্ডা চালাচ্ছে তা এলাকাবাসী নাকচ করে দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কতিপয় ব্যক্তিগণ জানায়, অনেকেই এখন শত্রুতাবসত: ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া দিচ্ছে। তবে, গোয়েন্দা সূত্রগুলো কোন কিছু নিশ্চিত না হয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় সূত্রে জানা যায়।

রেডটাইমস ডটকম ডট বিডির এ প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাৎকালে হাসিবুর রহমান মানিক বলেন – সন্রাস ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমি আমার ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমান জনপ্রতিনিধি কাউন্সিল হিসেবে বরাবরই সোচ্চার আছি আগামীতে ও সে ভাবে থাকবো।
তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, সন্রাস এবং দূর্নীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান বাধা । এ বাধা দূর করা না গেলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া যাবে না । তাই তিনি সর্বপ্রথম তাহার নির্বাচিত ২৬ নং ওয়ার্ড আজিমপুর ও লালবাগ এলাকার মাটি থেকে সন্রাস ও দূর্নীতি বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন । মানিক বলেন যে কোনো মুল্যে আগে তার ওয়ার্ডকে দূর্নীতিমুক্ত করার স্বপ্ন দেখতে থাকেন । এ নিয়ে অত্র এলাকার বিভিন্ন সমাজের প্রতিটি স্তরে বিস্তার লাভ করেছেন । তাই দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে আগে জনগণকে দূর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে বলে মনে করেন মানিক । আর এ জন্য গড়ে তুলতে হবে সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৭৩ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031