» আপন মানুষটির বিদায়ে গভীর বেদনা অনুভব করছি

প্রকাশিত: ০৪. জানুয়ারি. ২০১৯ | শুক্রবার


হাসানআল আব্দুল্লাহ

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন একজন সৎ রাজনীতিবিদ এবং যতোদূর জানি তিনি অনেকটা সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্যে তিনি নিজের বাড়ি বিক্রি করেছিলন বলে খবরে এসেছিলো, অথচ যে সরকারের মন্ত্রী ছিলেন তিনি সেই সরকারের কাছে হাত পাতেননি। বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলামের সুযোগ্য সন্তান তিনি। মার্জিত, ভদ্র ও সহনশীল। এই বিদগ্ধ রাজনীতিকের সাথে আমার একবারই দেখা হয়েছিলো। ২০০৫ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কে আমার একটি অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিলেন শ্রদ্ধেয় শাহরিয়ার কবিরের সাথে। এটি ছিলো শহীদ কাদরীকে নিয়ে লেখা আমার বই “সময়ের সম্পন্ন স্বর”-এর প্রকাশনা উৎসব। তিনি তাঁর বক্তৃতায় কাদরীর সাথে কাটানো লন্ডনের আটপৌরে দিনগুলোর হাস্যরস সমৃদ্ধ চমৎকার বর্ণনা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “কিন্তু এই বইয়ে কাদরীর লন্ডন বসবাসের অংশ একেবারেই অনুপস্থিত।” অনুরোধ করেছিলেন পরবর্তী সংস্করণে সংযোজন করতে। আমার বইটি ছিলো মূলত কাদরীর সাথে বারো বছর ধরে কথোপকথন ও তাঁর সাক্ষাৎকারগুলোর উপস্থাপন। মজার ব্যাপার হলো কাদরী কখনো এইসব আলাপে তাঁর জীবনের লন্ডন অংশ তুলে আনেননি। ব্যাপারটি তখন আমাকে অবাক করলেও পরবর্তী সময়ে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বুঝতে পেরেছিলাম যে অতীতের উল্লেখযোগ্য ঘটনা বা ঘটনাবলি ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুলে যাবার চমৎকার একটি প্রবণতা জীবনের পরতে পরতে জুড়ে দিতে পেরেছিলেন এই কবি। কাদরীর এই ভাবপ্রবণতা আবিষ্কার করার ব্যাপারে ভিন্ন পরিবেশে প্রথমে হুমায়ুন আজাদ, অতঃপর ওই অনুষ্ঠানে আলোচনার ভেতর দিয়ে সৈয়দ আশরাফ আমার চোখ খুলে দিয়েছিলেন। পরে, অবশ্য তিনি আওয়ামীলীগ-এর সাধারণ সম্পাদক হলেন, মন্ত্রী হলেন। প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাঁর সাথে দেখা হওয়ার আর কোনো সুযোগ আসেনি। টিভির খবরাখবর বা কদাচিৎ অন্য কোনো অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য শুনে সর্বদাই তাঁকে আপন মনে হতো। সেই আপন মানুষটির বিদায়ে গভীর বেদনা অনুভব করছি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮২ বার

Share Button

Calendar

June 2019
S M T W T F S
« May    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30