শিরোনামঃ-


» আপ্তাব উদ্দিন ঃ কালজয়ী এক শিক্ষানুরাগী

প্রকাশিত: ২১. নভেম্বর. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার

সৌমিত্র দেব
বিশ শতকের শুরুতেই যে কয়জন মানুষ শিক্ষা নিয়ে ভেবেছেন এবং শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের অন্যতম হলেন আপ্তাব উদ্দিন । তখনো এ দেশের মুসলমান সমাজ ইংরেজী সিক্ষাকে ভালোভাবে গ্রহণ করে নি । কিন্তু আপ্তাব উদ্দিন ছিলেন এ ব্যাপারে অগ্রসর একজন মানুষ । তাঁর মতো উদার মনোভাবের মানুষের কারণেই সে সময় পিছিয়ে পড়া মুসলমান সমাজ মূলধারায় ফিরে আসতে পেরেছিল । গড়ে উঠেছিল মুসলমান মধ্যবিত্ত সমাজ ।যারা পরবর্তী কালে পাকিস্তান আন্দোলন করেছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধেরও নেতৃত্ব দিয়েছে ।
শিক্ষার ক্ষেত্রে মৌলভীবাজার জেলার অনেক ঐতিহ্য রয়েছে । তবে ইংরেজী শিক্ষার ক্ষেত্রে যিনি

মৌলভীবাজার জেলায় পথিকৃতের ভুমিকা পালন করেন তিনি হরকিংকর দাস উকিল । তিনি মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, আলীআমজদ বালিকা বিদ্যালয় ও রাজনগর পোটিয়াস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা । ১৯১৭ সালে উপেন্ড নাথ ঘোষ ও গিরিন্দ্র নাথ ঘোষ মৌলভীবাজারে কাশিনাথ এম ই স্কুল স্থাপন করেন। ১৯৩৯ সালে স্কুলটি হাই স্কুলে উন্নিত হয়। বর্তমানে দুটি প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত হয়ে স্কুলটির নামকরণ করা হয় কাশিনাথ আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। বর্তমানে স্কুলটি স্কুল এন্ড কলেজে রূপান্তরিত হয়েছে ।শিক্ষাঙ্গণে মৌলভীবাজারের অবদান একটা সময় সারা দেশেই আলোচিত ছিল । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ব্যাচের প্রথম ছাত্রী ছিলেন লীলা নাগ । তিনি পরবর্তী কালে নারীশিক্ষা মন্দিরসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ইংরেজি বিভাগে ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট হয়েছিলেন মৌলভীবাজারের আলতাফ হোসেন । তিনি পরবর্তী কালে করাচী থেকে প্রকাশিত উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা ডন এর সম্পাদক হয়েছিলেন । তাদেরি আলোয় আলোকিত হয়ে আপ্তাব উদ্দিন মৌলভীবাজার শহর থেকে একটু দূরে শ্যামরায়ের বাজারে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সিংকাপন আপ্তাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ।
আপ্তাব উদ্দিনের সঙ্গে সে সময়কার একজন লেখক ও শিক্ষাবিদ কাজি ইমদাদুল হকের তুলনা করা যায় । কাজী ইমদাদুল হকের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় গ্রামের স্কুলে ও পারিবারিক পরিবেশে। গ্রামে থাকাকালীন সময় তাঁর কাজী আতাউল হক বই পড়ার আগ্রহ কপোতাক্ষ নদের নদীর উপরে রাড়ুলী গ্রামের রায় পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হন এবং বিভিন্ন বই পড়ার সুযোগ লাভ করেন। রায় পরিবারে সদস্য জগৎ বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এ সময় তিনি পুত্রকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার মনস্থ করেন। বন্ধুবর প্রফুল্য চন্দ্র রায়ের উৎসাহ ও পরামর্শে কাজী ইমদাদুল হককে ১৮৯০ সালে খুলনা জেলা স্কুলে ৫ম শ্রেণীতে ভর্তি করেন। ১৮৯৬ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে এন্ট্রাস পাস করেন। ১৮৯৮ সালে কলকাতা মাদরাসা থেকে এফএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়কালীন তিনি পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন শাস্ত্রে অনার্স নিয়ে ডিগ্রি ক্লাসে ভর্তি হন। কিন্তু পরীক্ষার আগে অসুস্থতার কারণে অনার্স পরীক্ষা দেয়া সম্ভব হয়নি। এরপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ক্লাসে ভর্তি হন। কিন্তু তিনি পরীক্ষার আগেই বেঙ্গল সিভিল সার্ভিসে নির্বাচিত হয়ে ১৯০৩ সালে কলকাতা মাদরাসার অস্থায়ী শিক্ষক পদে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর পূর্ববঙ্গ ও আসান প্রদেশ গঠিত হওয়ায় ১৯০৬ সালে আসামে শিলংয়ে শিক্ষা বিভাগে ডিরেক্টরের অফিসে উচ্চমান সহকারী পদে চাকরি গ্রহণ করেন। আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে সুদর প্রবাসে তিনি নিজেকে খাপ-খাওয়াতে না পেরে এবং স্বাস্থ্যহীনতার কারণে দেশে ফিরে আসেন। এ সময় পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রবেশে শিক্ষা বিভাগে ডিরেক্টর ছিলেন মি. শার্প। কাজী ইমদাদুল হক শার্প সাহেবের স্নেহ দৃষ্টি লাভ করেন এবং ১৯০৭ সালে ঢাকা মাদরাসার শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন। তখন তার মাসিক বেতন ছিল ৫০ টাকা। পূর্ববঙ্গ আসাম প্রদেশের শিক্ষা বিভাগের শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল সংস্কার সাধনে নতুন শিক্ষা প্রণালী প্রবর্তনে উদ্যোগী হন। শিক্ষার্থীদের কাছে ভুগোল শিক্ষা বিভাগে আকর্ষণীয় করা যায় সে বিষয়ে কাজী ইমদাদুল হক বিশেষ চিন্তাভাবনা করেন। তার ভুগোল শিক্ষার একটি আদর্শ শিক্ষা প্রণালী শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। সেখানে ভুগোল বিষয়ে শিক্ষাদানে বিশেষ দক্ষতা দেখান এবং ভুগোল বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। কিছুকাল পরে এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ১৯১১ সালে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং সেন্টারে ভুগোলের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। তিনি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যাক্ষ মি. বিসের আগ্রহে বিটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে বিটি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১৪ সালে তিনি প্রাদেশিক এডুকেশন সার্ভিসে উন্নতি হয়ে ঢাকা বিভাগের মুসলিম শিক্ষার সহকারী স্কুল ইন্সপ্টেরের পদে ময়মনসিংহে অবস্থিত কার্যালয়ে নিযুক্ত হন। ১৯১৭ সালে কলকাতা টিচার্স ট্রেনিং স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯২১ সালে ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি প্রথম কর্মদক্ষ পদে নিযুক্ত হন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন।এই আলোচনা থেকে দেখা যায় আপ্তাব উদ্দিন বড় হয়েছেন ভিন্ন ভাবে । কাজি ইমদাদুল হকের মতো শিক্ষার পরিবেশ তিনি পান নি । তবু শিক্ষা বিস্তারে বিশাল ভুমিকা রেখেছেন ।

জন্ম ও বংশ পরিচয়

মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলা একাটুনা ইউনিয়নের শ্যামরাবাজারের বড়মান একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম । সেখানকার এক সম্ভ্রান্ত (মিরাশদার) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আপ্তাব উদ্দিন ।আরবি “আপ্তাব” শব্দের অর্থ- সূর্যের আলো । শিক্ষার আলোয় তিনি আলোকিত করেছেন নিজের এলাকাকে । তখন সিলেটের ভূমি ব্যবস্থায় জমিদার, তালুকদার, পাট্টাদার, মিরাশদার ছিলেন। মিরাশদা্রেরা মূলত জমিদার । ১৮৭০ সালে মরহুম মুহাম্মদ বাহাদুর ও মরহুম হাফসা বেগমের সংসারকে আলো করে জন্ম গ্রহণ করেন আপ্তাব উদ্দিন (মিরাশদার)। তাঁর দাদা সরদার মোহাম্মদ ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী । মামা শেখ রেহান উদ্দিন ছিলেন বড়মান গ্রামের আরেক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। ব্রিটিশ আমল আঠাশ মৌজার বিচারকের একজন। বাবা ও মায়ের সুত্রে দুটি সম্ভান্ত পরিবারের রক্তের উত্তরাধিকারী ছিলেন অপ্তাব উদ্দিন (মিরাশদার) তিনি ছেলে বেলাতেই লেখা-পড়া কর্মকান্ডে বুদ্ধিদীপ্ত ও চৌকশ হিসাবে সকলের নজর কাড়েন। ছয় বোনের পরিবারে একমাত্র ভাই হওয়ায় সবাই তাকে আদর করে হুরু মিয়া বলে ডাকতেন । আজ ও অই অঞ্চলে আপ্তাব উদ্দিন (মিরাশদার)কে মানুষ হুরু মিয়া বলে ডাকেন।

তখনকার আমলে অনেকের জমিদারী ছিল, যাদের একটি জমিদারী ছিল তারা কিভাবে একটি জমিদারী থেকে পাঁচটি জমিদারীর মালিক হওয়া যায় সে চিন্তায় বিভোর থাকতো। তখনকার জমিদাররা শোষন করেছে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষকে কিন্তু আপ্তাব উদ্দিন( মিরাশদার) ছিলেন অন্যরকম । তিনি জনহিতকর কাজ করেছেন । প্রতিষ্ঠা করেছেন হাই স্কুল, প্রাইমারী স্কুল, বাজার, মসজিদ, রাস্তাঘাট ।
ব্রিটিশ আমলে আঠারো মৌজার অন্যতম বিচারক ছিলেন আপ্তাব উদ্দিন (মিরাশদার) । তাঁর ন্যায় বিচারের খ্যাতি ছড়িয়ে আছে এলাকা জুড়ে । একজন ন্যায় বিচারক শিক্ষানুরাগী ও দানশীল ব্যাক্তি হিসাবে জেলা জুড়ে তার যে সুনাম রয়েছে তা অম্লান হয়ে থাকবে ।

আপ্তাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়:

১৯২৮ সালে শ্যামরাবাজারে এম ই মাদ্রাসা (নিম্ন মাধ্যমিক ম্বুল) প্রতিষ্ঠা করেন বদান্য ব্যক্তি আপ্তাব উদ্দিন (মিরাশদার)। জানা গেছে শ্যামরা্যের বাজারে ঙ্কুলটি প্রতিষ্ঠার আগে স্কুলটি সিংকাপন এলাকার কূতি সন্তান মৌলভী আব্দুর রহমান সিংকাপনে এম ই মাদ্রাসা নামে স্কুলটির যাত্রা শুরু করে। তখন তাকে সিংকাপনের কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ছাড়াও আপ্তাব উদ্দিন মিরাশদার নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। একটি স্কুলের যাত্রা শুরু করলেই তো হয় না, একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হলে ভুমি এবং স্থাপনা নির্মাণ করে দিতে হয় সরকারি গেজেটের অর্ন্তভূক্ত করতে হলে। তাই এলাকার মানুষজন জমিদার ও বদান্য ব্যাক্তি আপ্তাব উদ্দিনের কাছে যান স্কুলটির জন্য শ্যামরায়ের বাজারে জমি দান ও স্থাপনা নির্মাণ করে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আপ্তাব উদ্দিন (মিরাশদার) দাতা ছিলেন বলে স্কুলের জন্য প্রয়োজনীয় ভুমি ও স্থাপনা নির্মাণ করতে সম্মতি প্রকাশ করেন। তাই স্কুলটি স্থানান্তর করে আপ্তাব উদ্দিনের ভুমিতে র্নির্মাণ করা হয়।

এম ই মাদ্রাসা (নিম্ন মাধ্যামিক স্কুলে) শ্যামরাবাজারে নিজের জায়গা দিয়ে ভবন নির্মান করে তৈরি করে দেন বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় স্থাপনা । তার নামানুসারে সিংকাপন আপ্তাব উদ্দিন এম ই মাদ্রাসা (নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল) নামে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করতে তিনি আরো জায়গা দান করে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মান করে বিদ্যালয়টিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করে, তখন বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় সিংকাপন আপ্তাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় । এ প্রাচীন বিদ্যালয়টি সর্বদিক থেকে স্বয়ং সম্পূর্ণ স্কুল হিসাবে বিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে আছে জেলা জুড়ে। বিদ্যালয়টি হাটি, হাটি, পা, পা, করে সাফল্যের চূড়ান্ত চূড়ায় এখন উপনীত। বিদ্যালয়টিকে আপ্তাব উদ্দিনের ছেলে অকিল উদ্দিন আহমদ (মধু মিয়া) ও নাতিরা কলেজে রুপান্তরিত করতে আরো জমি দান করেন এবং সার্বিক কর্ম কান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আপ্তাব উদ্দিন (মিরাশদার) এর নাতি নিয়াজ আহমদ লিটন।
জানা যায় স্কুলটিকে কলেজে রূপান্তরিত করতে আপ্তাব উদ্দিনের ১০ ছেলের মধ্যে একমাত্র জীবিত ছেলে অকিল উদ্দিন মিরাশাদার শ্যামরাবাজারে স্কুলের পাশে আরো জমি দান করে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের নামে, স্কুলটিকে কলেজে রূপান্তরিত করতে । আপ্তাব উদ্দিনের নাতিরা ও এলাকার মানুষজন জানান স্কুলটিকে কলেজে রুপান্তরিত করতে জমি ছাড়াও আপ্তাব উদ্দিনের পরিবার আরো নগদ দশ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্র“তি ব্যাক্ত করেছেন। এছাড়া শ্যামরাবাজার এলাকার লন্ডন প্রবাসিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসিরা আরো টাকা দিয়ে স্কুলটিকে কলেজে রুপান্তিরিত করার জন্য প্রতিশ্র“তি ব্যাক্ত করেছেন। খবর নিয়ে জানা গেছে স্কুলটিকে কলেজে রুপান্তরিত করতে সকল প্রশাসনিক কর্মকান্ড সমাপ্তের পথে। অচিরেই স্কুলটি কলেজে রুপান্তরিত হবে।

আপ্তাব উদ্দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্যামরা বাজার ও রাস্তা স্থাপন:

তিনি শুধু আপ্তাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ই প্রতিষ্ঠা করেননি। ১৯১৫ সালে তিনি শ্যামরাবাজার ভুমি দিয়ে ও স্থাপনা নির্মাণ করে আপ্তাব উদ্দিন (মিরাশদার) প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্। এছাড়া শ্যামরায়ের বাজারটি ক্রয় করে সত্বধিকারি হন আপ্তাব উদ্দিন মিরাসদার । শ্যামরাবাজারটি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ব্রিটিশ আমলের এক প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বাজার। সেই বাজারটি দান করার পাশাপাশি এই বাজারে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজ আদায় করার জন্য বাজারে একটি মসজিদও দান করেন মহানুভব আপ্তাব উদ্দিন। এখানেই শেষ নয়, এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে মৌলভীবাজার-কুলাউড়া রোডের সাবেক আমতলা থেকে বড়মান, বানগাঁও ও শ্যামরাবাজার হয়ে গন্ডেহরি, সাজুউড়ি, কুইসার গ্রামের পূর্বদিক পর্যন্ত নিজের জমি দানসহ রাস্তা তৈরি করে দেন । তার এ মহৎ কর্মে আরো ভুমি দান করে তার সন্তানেরা রাস্তাটিকে প্রশস্ত করে নির্মান করে দেন ।

আপ্তাব উদ্দিনের সংসার জীবন:

সাংসারিক জীবনে আপ্তাব উদ্দিন (মিরাশদার) ছিলেন দশ ছেলে ও এক মেয়ের জনক, তিনি প্রথম বিয়ে করেন সদর থানার চাঁদনিঘাট ইউনিয়নের গুজারাই খার বাড়ি । তার প্রথম সহধর্মিণী এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে অকালে মৃত্যু বরণ করলে দ্বিতীয় বিয়ে করে খোদেজা বানুকে। যোগ্য সহধর্মীনি খোদেজা বানু ছিলেন বড়মান গ্রামের সম্ভান্ত মুসলিম একটি পরিবারে মেয়ে । এই এলাকার ঐতিহ্যবাহী শেখ বিরাইম বংশের উত্তরাধিকারী হাজি মাহমুদ এর বড় ছেলে শেখ মিঞার একমাত্র মেয়ে খোদেজা বানু । স্বামী আপ্তাব উদ্দিনের সকল ভালো কাজের পাশে থেকে উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সার্বিক সহযোগিতা করে গেছেন খোদেজা বানু। আপ্তাব উদ্দিন (মিরাশদার) ১৯৭৩ (১৯৭৩) সালে এ পৃথিবীর মোহ ছেড়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে দশ ছেলে দুই মেয়ে নাতি-নাতনিসহ অসংখ্যা গুনগ্রাহি রেখে গেছেন।
স্বামী চলে যাবার দীর্ঘ ২৩ বৎসর পর ১৯৯৫ সালে মৃত্যুর পথযাত্রী হন মহিয়সি নারী খোদেজা বানু। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১১৫ বৎসর।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৪০ বার

Share Button

Calendar

December 2019
S M T W T F S
« Nov    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031