আব্বাকে মনে পড়ে

প্রকাশিত: ৩:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২০

আব্বাকে মনে পড়ে

সৈয়দা সানজিদা শারমিন

আব্বা নেই । ৫ বছর হয়ে গেলো গত ১৪ই সেপ্টেম্বর। মনে হচ্ছে এই তো সেইদিন-যেদিন তিনি মন্ত্রী হয়েছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার খবর শুনে মৌলভীবাজারজুড়ে মানুষের মাঝে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায়।

রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, দলের জন্য অন্তঃপ্রাণ যে কয়েকজন নেতা রাজনীতি করে গণমানুষের কাছে পৌঁছেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম সৈয়দ মহসীন আলী। মৌলভীবাজারের ৩৬, শ্রীমঙ্গল রোডের বাড়ি আর মন্ত্রীপাড়ার ৩৪, মিন্টো রোডের বাড়ি দুটিকে সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল করেছিলেন। দুটি বাড়িই দিবারাত্রি মানুষের আনাগোনায় ভিড়পূর্ণ থাকত। মৌলভীবাজারের বাড়িতে সব রুমেই থাকত মানুষ। কোনটা বেডরুম আর কোনটা ড্রয়িংরুম কেউ বুঝতই না।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত থাকতেন আব্বা। মানুষ মনে করত মহসীন আলীর কাছে যাওয়া মানেই সব সমস্যার সমাধান। এইভাবে তিনি সাধারণ মানুষের সাথে মিলেমিশেই সারাজীবন কাটিয়েছিলেন। আজকালকার  দিনে মহসীন আলীর মতো উদার মানবিকগুণসম্পন্ন রাজনীতিবিদ কি আমরা দেখি?

দেশ ও মানুষের জন্য জীবন বিলিয়ে দেয়ার অন্য উদাহরণ সৈয়দ মহসীন আলী। অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভরণ-পোষণ করতেন তিনি। নিজের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা অসহায়দের দিয়ে দিতেন। ২০১৭ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে  মরনোত্তর স্বাধীনতা পদক প্রদান করেন।

তিনি নিত্য এলাকার মুচি, মেথর, হরিজনদের নিয়ে কাজ করেছেন। কখনও শ্রেণী বৈষম্য করেননি। সকল  ধর্মালম্বীদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। বড়দিনে খ্রিস্টান  মিশনে কেক নিয়ে সবার সাথে মেতে উঠতেন আনন্দে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী হওয়ার পরে বহুমুখী বাস্তব প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। পতিতা, হিজড়া  জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য কাজ করেছেন। চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ভাতা চালু করেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা সহ্য করতে পারতেন না। প্রায় প্রতিটি বক্তৃতায় মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ করতেন। স্কুলে-কলেজে গেলে ছেলেমেয়েদের সাথে দেশাত্ববোধক গান গেয়ে তাদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতেন।

মন্ত্রী হওয়ার পর মাঝে মাঝে যে কোনো স্কুলে চলে যেতেন। স্কুল ঠিকমতো চলছে কিনা নিজে তদারকি করতেন। স্কুলের উন্নয়নে অনুদানও দিয়ে আসতেন। আমার একটি স্মৃতি মনে পড়ছে। আমি মাঝে মাঝে দেখতাম আব্বা শিক্ষক নিয়োগের সময় কয়েকজনের ইন্টারভিউ নিতো। আমি একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম কোনো তিনি ইন্টারভিউ নেন  যারা শিক্ষক হতে চায় তাদের। তিনি বলেছিলেন একজন ভালো শিক্ষক সমাজের অনেক কিছু চেঞ্জ করতে পারে আর ভালো মানুষ গড়তে পারে।

\

লেখকঃ যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা