» আব সে খানা মে পেঁয়াজ বন্ধ কারদো ঃ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৪. অক্টোবর. ২০১৯ | শুক্রবার

” মুঝে মালুম নেহি, কিউ আপনে পেঁয়াজ বন্ধ কর দিয়া! ম্যায়নে কুক কো বোল দিয়া, আব সে খানা মে পেঁয়াজ বন্ধ কারদো।” সম্প্রতি পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত । এতে করে উপমহাদেশজুড়ে হেঁসেলে কি হচ্ছে রসিকতার সুরেচ সেদিকে কটাক্ষ হানলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই হিন্দী ভাষণের বাংলা তর্জমা হলো ,আমি জানি না, কেন আপনারা পেঁয়াজ বন্ধ করে দিলেন। আমি রাঁধুনীকে বলে দিয়েছি, এখন থেকে রান্নায় পেঁয়াজ বন্ধ করে দাও।
ভবিষ্যতে রপ্তানি বন্ধের মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারত সরকার যেন প্রতিবেশীদের আগে থেকে জানিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগটুকু দেয়, সে আহ্বানও তিনি জানিয়েছেন।

চার দিনের ভারত সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার নয়া দিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলে বাংলাদেশ-ভারত বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর এই হিন্দী বচনে সাড়া দেন হাসি আর করতালিতে।

কেবল বাংলাদেশ নয়, কাঠমান্ডু থেকে কলম্বো- দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশকেই পেঁয়াজের যোগানের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক ভারতের ওপর নির্ভর করতে হয় অনেকাংশে।

বৃষ্টি আর বন্যায় এবার পেঁয়াজের ফলন মার খাওয়ায় ভারত সরকার গত ২৯ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ বেড়ে ১২০ টাকায় পৌঁছায়। প্রতিদিনের রান্নায় বহুল ব্যবহৃত এই সামগ্রীর এমন দামে ক্রেতাদের মনে তৈরি হয় উদ্বেগ, বাজারে তৈরি হয় অস্থিরতা।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার মিশর, তুরস্ক ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানির পাশাপাশি অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করতে পাইকারি বাজারগুলোতে অভিযান শুরু করে। টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে ট্রাকে করে ‘ন্যায্য মূল্যে’ পেঁয়াজ বিক্রি হয়।

নিজেদের বাজার সামলাতে ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, তাদের প্রব্লেম। তাদের কোনো প্রব্লেম হলে দে ডোন্ট কেয়ার অ্যাবাউট দেয়ার নেইবার। তারা দাম বাড়িয়ে দেয় অথবা ট্যাক্স বসায় অথবা এক্সপোর্ট ব্যান করে।”

আর শুক্রবার বাংলাদেশ-ভারত বিজনেস ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,ভারত আগে থেকে নোটিস দিলে বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে কেনার ব্যবস্থা করতে পারত। ভবিষ্যতে এমন কিছু করলে আগে জানালে ভালো হয়।

ভারতের শিল্প ও রেলপথ মন্ত্রী পিযূস গয়াল, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, অ্যসোসিয়েটেড চেম্বারস অব কমার্স অব ইনডিয়ার (অ্যাসোচাম) সভাপতি বালকৃষাণ গোয়েঙ্কাসহ দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪১ বার

Share Button

Calendar

October 2019
S M T W T F S
« Sep    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031