» আমরা মানুষের এই বিকৃত রুচিকে উৎসাহ দিচ্ছি

প্রকাশিত: ২৫. নভেম্বর. ২০১৭ | শনিবার

জেসমিন চৌধুরী

একটা উলঙ্গ লোক মরিয়া হয়ে কাউকে ঘুষি মারছে, একটা ছাগলের বাচ্চা একটা শিশুর লিঙ্গ চুষছে- এগুলো কি দেখার মত কিছু?

ফেসবুক ইনবক্সে এবং হোয়াটসআপে প্রায়ই নানা ধরনের ভিডিও পাই- ‘ফানি ভিডিও, না দেখলে মিস’। প্রথম প্রথম আগ্রহবশত খুলে দেখতাম। একসময় বুঝে গেলাম এগুলোর বেশিরভাগই কারো না কারো প্রতি অবমাননাকর, এবং নিরব প্রতিবাদ হিসেবে এগুলো খোলা বন্ধ করে দিলাম। কিন্তু আমার ধারেকাছের মানুষরাও এসব ভিডিও পান, এবং অনেক সময় আমাকে ঘাড়ে ধরে দেখিয়ে দেন।

যে দুটো ভিডিওর কথা বলছিলামঃ

একটা ভিডিওতে দু’জন লোক মারামারি করছে। এক পর্যায়ে অপেক্ষাকৃত মোটা লোকটার লুঙ্গি খুলে পড়ে গেল। ভিডিওতে তার অনাবৃত পুরুষাঙ্গ দেখা যাচ্ছে, কিন্তু সে নির্বিকার ভাবে অন্য লোকটাকে ঘুষি মারার চেষ্টা করে চলেছে। যারা ভিডিও করছে তারা খিলখিল করে হাসছে।

আমার হাসি পেল না বরং যিনি জোর করে ভিডিওটি দেখালেন তার উপর ভীষণ বিরক্ত হলাম। এরকম একটা ভিডিও কেন আমাকে পাঠানো হবে, বা জোর করে দেখানো হবে? এ থেকে আমার কী পাওয়ার আছে? মোবাইল ফোন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আগের যুগে মানুষ মারামারি থামানোর চেষ্টা করত, কাউকে বিপদে দেখলে এগিয়ে যেত, এখন কেউ দুরবস্থায় পড়লে উপস্থিত সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে রেকর্ড করতে। লাইক, কমেন্টের এমনই নেশা!

আরেকটি ভিডিওতে একটা দুই/তিন বছরের দিগম্বর ছেলে দাঁড়িয়ে আছে, এবং একটা ছাগলের বাচ্চা তার ছোট্ট লিঙ্গটাকে দুধের মত করে চুষছে। বাচ্চাটা ভয়ে, আতঙ্কে চেঁচিয়ে কাঁদছে। ছাগলটাকে থামাতে এগিয়ে যাচ্ছে না কেউ, বরং বিকৃত মানসিকতার ভিডিওকারীরা হাসিতে ফেটে পড়ছে।

আমি রাগে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। এরকম একটা অভিজ্ঞতা একটা শিশুর জন্য ট্রমাটিক হতে পারে, মানসিকভাবে তার প্রচন্ড ক্ষতি করতে পারে। কথাটা ভাবছে না কেউ।

এসব ভিডিও শেয়ার করার এবং দেখার মাধ্যমে আমরা মানুষের এই বিকৃত রুচিকে উৎসাহ দিচ্ছি। আমার মতে যারা এধরনের দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করে, যারা শেয়ার করে, যারা উপভোগ করে তারা সবাই মানসিকভাবে বিকৃত এবং এই বিকৃতির মাত্রা দিনে দিনে বাড়ছে। আমাকে ইনবক্সে যে কোনো ধরনের ভিডিও পাঠালেই ব্লক খাবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৪৩ বার

Share Button

Calendar

September 2018
S M T W T F S
« Aug    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30