» আমাদের পারভেজ হোসেন

প্রকাশিত: ১৮. জুলাই. ২০২০ | শনিবার

আহমাদ মাযহার

সেই ১৯৮২ সালে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ যখন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ডাকাতিয়া বাঁশি বাজালেন, পারভেজ হোসেনের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের শুরু তখনই; সায়ীদ স্যারের বাঁশির সুরজালে তখন সেও ধরা পড়েছিল কিনা! অবশ্য তার আগেই আগেই সাহিত্য ওকে খেয়ে নিয়েছিল। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আমার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর সেই যে শুরু তা আর শুধু সাহিত্যের বন্ধুত্বে সীমিত থাকে নি; জীবনের দৈনন্দিনতার বিচিত্র বাস্তব-ঝড়ের মধ্যেও রইল বেঁচে। মেঘে মেঘে আমাদের বেলা ঘনিয়ে আসছে। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে থাকি বলে এর ওর খবর দিয়ে মনে করিয়ে দেয় আমারও বয়স বাড়ছে। না, আমার বয়সের কথা বলছি না। বলছি আমার অযান্ত্রিক ও অন্তর্জাল-অনগ্রসর বন্ধু পারভেজ হোসেনের কথাই। ও যে ষাটে পৌঁছে গেছে সে খবর ফেসবুক আমাকে মনে করিয়ে দিতে পারেনি। ফলে দিনের অর্ধেকটা সময় পেরিয়ে গেল তা না মনে করে।
আধুনিক মানুষ কীভাবে এতটা অনগ্রসর হয় জানি না। সে বলে এই না জানাতেই নাকি ওর আধুনিকতা সজীব থাকে! আসলে তারুণ্যের উৎসাহ দিয়ে ষাটীয় প্রবীণতাকে সে অতিক্রম করতে পারেনি। কিন্তু তাতে কী! ওর বউ মালা আছে না! স্মার্ট মালা আছে বলেই না অন্তত ওর দিনান্তে, আমার মধ্যাহ্নে খবরটা জানতে পারলাম।
হ্যাঁ সেই পারভেজ হোসেনের কথা বলছি আমাদের সময়ের একজন উল্লেখযোগ্য গল্পকার হিসেবে যে পরিচিত। ‘ক্ষয়িত রক্তপুতুল’ (১৯৯৩), ‘বৃশ্চিকের জাল ও অন্যান্য গল্প’ (১৯৯৬), ‘বিষকাঁটা’ (২০০৮), ‘যে জীবন ফড়িঙের দোয়েলের’ (২০১০), ‘ডুবোচর’ (২০১০) ওর ছোটগল্প-সংকলন। একটা নভেলাও আছে ‘হরণ’ (২০১৫) নামে। আশির দশকের আলোচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলোর একটি ‘সংবেদ’-এর অন্যতম সম্পাদক আমার বন্ধুটি। এখনো বাংলা একাডেমি পুরস্কার না পেলেও (পেয়ে যাবে আশা করি) বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য দুটি সাহিত্য-পুরস্কার পেয়েছে। তার গল্প-সংকলন ‘যে জীবন দোয়েলের ফড়িঙের’-এর জন্য জেমকন পুরস্কার ২০১০, আর গল্প-সংকলন ‘ডুবোচর’-এর জন্য প্রথম আলো বর্ষসেরা বই ১৪১৯ (২০১২) তার ঝুলিতে জমা আছে। তবে পুরস্কার বড় কথা নয়, ভালো ও সৎ লেখক হিসেবেই সমাজে সে গৃহীত–এটাই বড় কথা।
আমার এই বন্ধুটি তো অনেক বছর ধরে ‘সংবেদ প্রকাশনী’র মাধ্যমে নিয়মিত অন্যদের বই বের করে চলেছে। কিন্তু নিজের বই ওর বেশি বের হয় না। কারণ গণ্ডায় গণ্ডায় বই বের করার ধাত ওর নেই। ওর সংবেদ প্রকাশনীও ইয়োরোপ-আমেরিকার ‘স্মল প্রেস’ স্বভাবী একটি প্রকাশনা সংস্থা। বেছে বেছে ভালো ভালো বইই সংবেদ প্রকাশনী থেকে সে বের করে। ওর ‘স্মল প্রেস’ সংবেদ নিয়ে এখানে দুচার কথা বলতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু তোলা রইল পরের জন্য।
প্রায় চল্লিশ বছরের সহযাত্রী জীবন আমাদের। কত জনের কত ছবি তুলেছি। কিন্তু আমার এই বন্ধুটির বেশি ছবি তোলা হয়ে ওঠেনি। মনে হয়েছে আছিই তো একসঙ্গে। যে কোনো সময়ই তো তোলা যাবে! ভাগ্যিস ১৯৮৪-৮৫-৮৬-৮৭ সালে কিছুকাল ফটোগ্রাফির পোকায় ধরেছিল আমাকে। স্বাভাবিক অক্ষমতায় তা এক সময় অবসিত হলেও ভাগ্যিস তার দু-একটি চিহ্ন রয়ে গেছে এখনও। আজ পারভেজের ষাটপূর্তির লগ্নে এই দিয়েই শুভেচ্ছা জানাই তাকে! এই ছবিগুলো ১৯৮৪ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে তোলা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৬ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031