আমার কিন্তু বিশ্বাস হচ্ছে না এই খবরটা !

প্রকাশিত: ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৬, ২০১৯

আমার কিন্তু বিশ্বাস হচ্ছে না এই খবরটা !

আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার

যখন দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যেতে থাকা অনগ্রসর মস্তিস্কের নীতিহীন শাসকের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার মতো মেধা, ঐক্য ও ক্রোধ জনতার মধ্যে থাকে না, তখন, ১৮০০০ মাদ্রাসা তাদের বাজেটে অনুমোদন পায়।
আমার কিন্তু বিশ্বাস হচ্ছে না এই খবরটা।
বাংলাদেশে ইতিমধ্যে মাদ্রাসা মসজিদ-সংযুক্ত মাদ্রাসার মতো কুরান পাঠালয় এর সংখ্যা কমবেশি তিনলাখ বা এর উপরে। এটা বিশ্বব্যাংকের একটা রিপোর্ট এ পড়েছি ২০১৫ তে। বেসরকারী উৎস বলছে. শুধু না কি ক্বওমী মাদ্রাসাই ৩৯৬১২। সেখানে বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮০ হাজার মাত্র। তার মধ্যে প্রাইমারী ও উচ্চা বিদ্যালয় কতো তা সুনিশ্চিত করে বলা হয় নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাইমারী ও সেকেন্ডারীর ওয়েবসাইটে গিয়ে বিদ্যালয় কতোগুলো এ তথ্য পাইনি। সেখানে তথ্য দেয়া আছে কতো লক্ষ ছাত্র ছাত্রী আছে সে তথ্য।
চলনবিল অঞ্চলে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, বিলের চারধারে সেকেন্ডারী বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারীর পর মেয়েরা স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে স্রেফ একটা কারণে, বিদ্যালয়ে কোনও বসার কক্ষ নাই, বাথরুম নাই, তারা তাদের পিরিয়ডের কালে বাথরুমে যেতে পারে না, বেশি ভেজা, বা শুকিয়ে যাওয়া ন্যাপকিন না বদলালে হাঁটতে অসুবিধা হয়। ছেলেরা বুঝে ফেলে। হাসাহাসি করে। স্রেফ এই সাইকোলজিক্যাল-সোশ্যাল কারণে মেয়েরা স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়, অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসে, আত্মহত্যা করে মরে যেতে চায়, ক্ষুব্ধ থাকে জীবন নিয়ে। এই বিদ্যালয়গুলোর সংখ্যা না বাড়িয়ে, উন্নয়ন না ঘটিয়ে ধর্ম দিয়ে, রাজনীতির নোংরামী দিয়ে আগামী প্রজন্মের জীবনকে একটা তামাশায় পরিনত করে ফেলা শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও মাদ্রাসা দেয়ার প্রতিশ্রুতির মানে হলো – গভীরতর হতাশা। দেশকে একটা ফেইলড মান্ধাতা আমলের কলোনী রাষ্ট্র চরিত্র দিতে কি এত মানুষ রক্ত ঢেলে স্বাধীন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল?

ধর্মের রাজনীতি দিয়ে এই যে দেশটাকে আফগানিস্তান হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, সেকুলার বাংলাটাকে যে তিলে তিলে সরকারী দল বিরোধী দল এই স্বার্থপর বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিবিদরা যে গভীর অন্ধকার গর্তের দিকে ঠেলে নিয়ে চলেছে, আপনারা কিছুই করবেন না? আপনার কি ভবিষ্যত বাংলার সন্তানদের কাছে দায়বদ্ধতা অনুভব করেন না? আপনারা কি একেবারেই নীতি, বিবেক শূণ্য হয়ে পড়েছেন?

লেখক ঃ প্রশিক্ষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব