শিরোনামঃ-


» আমি চাইনা কারো – স্বেচ্ছাচার

প্রকাশিত: ১২. মার্চ. ২০১৮ | সোমবার

হাসিদা মুন

শ্রদ্ধার জন্য দরকার -ব্যক্তি, এবং তাঁর উপর প্রয়োগ উপযোগী – উপযোগবাদ ( দরকারী বা সংখ্যাগরিষ্ঠের উপকারের জন্য-নৈতিক তত্ত্ব) ।
এই ‘নৈতিক তত্ত্ব’ দৃষ্টিকোণ থেকে সমকালীন নৈতিকতার বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে ।
দিনকে দিন মানুষের চলায় , বলায় কাজে কর্মে নীতিগত বিষয়ের দ্রুত বিলুপ্তি ঘটে যাচ্ছে ক্রমশ । বিষয়টা এখন এমন হয়েছে যে , আমার যা ইচ্ছে করে যাই , তাতে ‘কার কি ‘ ?
সমসাময়িক নৈতিক বিষয়ে অবস্থানের বিরোধিতা প্রস্তাব মূল্যায়ন করার চেষ্টা করে যায় এক শ্রেনীর ‘দাদা / ভাই’ / গডফাদার’ টাইপের মানুষেরা । আর তাদের অপচেষ্টার খারাপ কর্মফলের ফল ভোগ করে যাচ্ছে সাধারণ মানুষজন ।
.
প্রজাতির বৈষম্যের ভিত্তিতে ,বানর , কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর এবং অন্যান্য পশুদের থেকে মানুষ ব্যথা বেদনায় – কষ্ট দুঃখে – আশা আনন্দে বেশী সংবেদনশীল । একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীলও বটে । সে কারণেই মানুষ কাছাকাছি কিংবা পাশাপাশি থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে বলেই সামাজিক হয়ে থাকে । একজন আরেক জনের প্রতি সহমর্মিতা , সহযোগিতা ,এসব কারণেই বন্ধুত্ব গড়ে টিকে আছে । যা কিনা মানুষের নৈতিক – সামাজিক বিধি বিধান হিসাবে ধরা হয় । যেমনঃ কারো বিবাহ বার্ষিকীতে একত্রিত হয়ে আনন্দঘন করে তোলা হয় আবার কারো মৃত্যু বার্ষিকীতে জড়ো হয়ে শোক বা দুঃখকে ভাগ করে নেয়া ।
.
তবে এই অত্যাধুনিক যুগের মাঝবরাবর এসে কিছু সংখ্যক মানুষ এই আনন্দ ও দুঃখকে ভাগকরে না নিয়ে নিজেকে নিয়েই মশগুল থেকে যাচ্ছে , কে মরলো , কেই বা হলো’ , তাতে তার কি এসে যায় ? এমন হয়ে যাওয়াটা অবাক হবার মতো না হলেও ভয়ের কারণ হয়ে উঠছে ক্রমান্বয়ে ।
নৈতিক বিষয়গুলোর প্রধান বিষয় বিশ্বজুড়ে যা দেখা যাচ্ছে , তার ভিতরে প্রকটভাবে যে সমস্ত চাহিদা বোঝায় –

১) বিশ্বের ক্ষুধা
২) পশু অধিকার
৩) গর্ভপাত
৪) আরামের মরণ
৪) পর্নোগ্রাফি ও মাদক
৫) সমকাম বৈধকরণ

ইত্যাদির প্রথা চালু করার কথা থাকলেও এর ভিতর চাপা পড়ে যাচ্ছে –
মানুষে মানুষে সহমর্মিতা
আত্মীয় বা বন্ধুসুলভ আচরণ
মমত্ব বোধের বিভিন্ন দিকগুলো ।

সে কারণেই বাড়ছে বিষণ্ণতা , ধৈর্য সহ্যে অসঙ্গতি , অবমূল্যায়ন সাথে শ্রদ্ধাবোধের অভাব । জনসাধারণের মতি গতিটা এই সময়ে দেখাচ্ছে এমন যে ,
‘যা ইচ্ছা তা হোক / জাহান্নামে যাক ! / সমাজ ,দেশ ও জাতি ! ‘ তাতে আমার কি ?’
.
এই যদি হয় আমাদের নৈতিক দিকের অবস্থা ।
তাহলে আমার যখন দরকার পড়বে অন্য কারো সাহায্যের হাত ‘ তখন কোথায় পাবো ?
পরিশীলিত এবং শৃঙ্খলা-নির্দিষ্ট জনপ্রতিনিধির কাজ কি কোন যন্ত্র দিয়ে তৈরি করিয়ে দেয়া সম্ভব ?
আমাদের ভিতর থেকেই বাছাই যোগ্য ব্যক্তিত্বকে নির্বাচিত করে তাঁর প্রতিনিধিত্বে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নিয়মতান্ত্রিকতার ভিত্তিতে ।
.
মুহূর্তের জন্য চোখবন্ধ করে নিজেকে জিজ্ঞাসা করে দেখি – এ যদি আমার ক্ষেত্রেও হয় ? তখন কি বিষয়টা আমরা এড়িয়ে যেতে পারি ?
আমার কেউ বা আমি দুর্ঘটনায় পড়লে ?
আমার কেউ বা আমি জুলুম বা চাঁদাবাজির শিকার হলে ?
আমার কেউ বা আমি অযথা লাঞ্ছিত / বঞ্চিত হলে ?
এমন অত্যাচার অনিয়মকে ঠ্যাকাতে এক জোড়া’ হাত কিংবা দুই জোড়া হাত যথেষ্ট নয় ……
তখন চাই অনেকগুলো সুসংগঠিত বলিষ্ঠ হাতের সমন্বিত জোর বা প্রচেষ্টা – সমস্ত অনৈতিকতার , সমস্ত বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে !
.
কাজেই আমরা সমাজ তথা – নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই অদূর প্রসারী চিন্তা করি ।
সন্ত্রাসবাদ নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য হতে পারে না
মানুষের যোগ্য মান সম্মান অপরিশোধিত হতে পারে না
অনৈতিক কারণ , ঘুষ – সুদ – কমিশানগ্রহণ মানুষের জন্য সুবিধার না
মুক্ত বাণিজ্য সুবিধাপ্রাপ্ত মাদক বাণিজ্য – সমাজের হিতকর হয়না
নারী – পত্নী লাঞ্ছনা ও শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে অনুপাত বৃদ্ধি সুফলের হতে পারে না !
.
এসব দৃশ্য আমাদের সামনে ঘটে গেলে যদি আমরা তৎপর না হয়ে নির্বিকার হয়ে বসে থাকি , নিঃসন্দেহে ভেবে নিতে হবে , মানুষ হিসাবে – ‘বিকারগ্রস্থ মানুষ ‘ । যার থাকা না থাকা এ জগতে সমান কথা ।
.
নিরপেক্ষতার উদার নীতি ঝুলিয়ে দায় এড়ানোর কোন উপায় নেই ।
শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে সময় ও সমস্যার মুকাবেলা করার লক্ষ্যে এগিয়ে আসতে হবে ।
তর্ক – বিতর্ক না তুলে , একেকজন নৈতিক আদর্শবান বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হয়ে । যদি আমরা দেশ ও জাতির মঙ্গলকামী’ হয়ে থাকি ।
লক্ষ্য ও সমর্থন থাকবে জাতি হিসাবে দেশের- জনসাধারণের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়ে পাশে থাকা নিকট আত্মীয়ের মতো সহানুভূতিশীল মন নিয়ে ।
.
যা কিনা এসময়ে দুষ্কর হয়ে উঠছে …
শিশু অবস্থায় মা ‘ শিখাচ্ছেন মিথ্যা – শিশু মেহমানের জন্য আনা মিষ্টি চায় , মা’ বলেন ‘নাই’
শিশু পরিস্কার বুঝে ফেলে এই মিথ্যাচার । তাঁর শিশুসুলভ মনে গেঁথে যায় মিথ্যা বলার অভ্যাস ।
কোন এক বাবা’ বাসায় থেকেও বলছেন – বাচ্চাকে বলছেন , বলো ‘ তিনি বাসায় নাই ‘
বাচ্চারা এখন খুব ভালো করেই বুঝে নেয় , বাবার ইনকাম এবং অবৈধ ব্যয় , সাথে সাথে সে সবের উৎস ।
এসব থেকে শৈশবেই শিশু শিখছে মিথ্যা এবং গোপনে বাবা – মায়ের প্রতি , পক্ষান্তরে সমাজের মুরুব্বী’ জনগোষ্ঠীর প্রতি অশ্রদ্ধা , এবং সাথে সাথে বাড়ছে আস্থাহীনতা ।
দেশ পাচ্ছে হতবিহ্বল , ধাঁধায় পূর্ণ আদর্শহীন শিশু – আসছে কিছু ভয়ঙ্কর প্রজন্ম !
.
যথেচ্ছ ঘুষ খাচ্ছে ‘বস’ , কর্মচারীর আস্থা ও ভক্তি ক্রমে নষ্ট হচ্ছে ।
যার ফলে নিয়মিত সেও সঠিক সময়ে আসছে না কর্মক্ষেত্রে । নিজেরাও পারলে প্রতিযোগী মনোভাব গঠন করে টু-পাইস’ কামিয়ে নেবার ধান্দা ফিকির করে যাচ্ছে অধীনস্থ কর্মচারীরাও । পিয়ন দারোয়ানেও আজকাল সবার সামনেই ঘুষ চায় । তা নাহলে ফাইল নড়েনা , কাজ আঁটকে থাকে দিনের পর দিন , এভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানস্মুহ তথা মাশুল গুনছে সমগ্রজাতি ।
.
অসৎ কিছু মেয়ে – পুরুষ , অবৈধ অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলছে বিভিন্ন ফায়দার কারণে ।
বহুপ্রেম , বহুকামীতা্র জের হিসাবে ভাঙছে সংসার , পরিবার , সমাজের সুখ শান্তি ।
বাড়ছে- ব্যক্তি বৈশিষ্ট্যে অসহযোগ ….
পারিবারিক কলহে বাড়ছে যুগ যুগান্তের বৈষম্য , ঘৃণা , বিদ্বেষ !

.
সংখ্যাগরিষ্ঠদের আরেক পিঠ হচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় – সবার সার্বিক উপযোজনের বৈচিত্রের জন্য সহযোগী আচার আচরণে উপকার নিহিত ।
তাঁদের নিপীড়ন নির্যাতন করে পরিবেশ পরিবারকে সুস্থ নির্বিঘ্নে রাখা সম্ভব হয়না , নিজেরই অন্তরদহন বৃদ্ধি পায় ।
.
নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির বাস্তবায়ন নিরীক্ষণ করে আশাহত হতে হয় আমাদের দেশের আপামর প্রেক্ষাপটে।
বাড়ছে রাজনৈতিক নেতাদের সেচ্ছাচার , জাল ভোটের মহড়া , মিথ্যা আশ্বাস প্ররোচনা – ভাঙছে দল , তৈরি হচ্ছে তান্ডব বিভেদ , বীতশ্রদ্ধ , হতাহত হচ্ছে অবাধে সহিংসতার প্রকোপে বিব্রত দেশ – জাতি ।
এবার খতিয়ে দেখা যাক ‘কার ক্ষতি’ ?

এই অসম্ভবনিয় ক্ষতি আমার ! কারণ …

আমি যতদিন বেঁচে আছি
এই মাটি আমার
এই নদী – সমুদ্র আমার
এই দেশমাতৃকা আমার
এখানের মানুষগুলোও আমার
এসব বাঁচাতেই আমি সুস্থভাবে বেঁচে থাকি
এর সব কিছু , সব কেউ , সব কারো’- আমার
আমি চাইনা কারো – স্বেচ্ছাচার …

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬১৮ বার

Share Button

Calendar

November 2020
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930