» আমেরিকার অর্থনীতিও ঝুঁকিতে,দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা

প্রকাশিত: ৩১. মে. ২০২০ | রবিবার

আমেরিকার লকডাউন ও অর্থনীতির গতি প্রকৃতি নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন ইলিনিয়েস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে কর্মরত সারিকা দেব । তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ২৫৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি আমেরিকায় মারা গেছেন। আমেরিকার বেকারত্বের হার ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। সোমবার পর্যন্ত বেকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ মিলিয়ন (৩ কোটি ৬০ লাখ) লোক। এর মধ্যে বাংলাদেশিও আছে। অন্যান্য দেশের অর্থনীতির মতো আমেরিকার অর্থনীতিও ঝুঁকির সম্মুখীন। তবে আমেরিকার সরকার বেশকিছু ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন স্টিমুলাস প্রজেক্ট নামে একটা পদক্ষেপ নিয়েছে। যাদের আয় কম তাদেরকে সেখান থেকে এককালীন অনুদান দিয়েছেন। যারা বেকার তাদেরকে প্রতি সপ্তাহে ৬০০ ডলার করে চেক দেওয়া হচ্ছে। এটা কোন রাজ্যে ৪ আবার কোনো রাজ্যে ৬ মাসের জন্য দেওয়া হচ্ছে। এই দুর্যোগকালীন সময়ে অবশ্যই এই টাকার তাদের জন্য উপকার হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, উদ্যোক্তাদেরকে পিপিপিতে (পেচেক প্রটেকশন প্রোগ্রাম) অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যেক্তাদেরও প্রচুর পরিমাণে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এখন যারা বৈধভাবে আমেরিকায় আছেন এবং ব্যবসা করেন বা চাকরি করেন তারা তেমন খারাপ অবস্থা নেই। তবে যারা অবৈধভাবে আমেরিকার বড় শহরগুলোতে আছেন তারা কোনো অনুদান পাচ্ছেন না। কেননা তারা আমেরিকার শ্রমশক্তির অন্তর্ভূক্ত নয়। তবে তারা দাতব্য সংস্থ্যার মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন বা কিছুটা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন।

সামগ্রিক অর্থে বলতে গেলে দক্ষ কর্মীরা এখন পর্যন্ত বেতন পাচ্ছেন আবার অনুদানও পাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত খাদ্য ঘাটতি নিয়ে তারা কোনো অসুবিধার মধ্যে নেই। তবে লকডাউন উঠে গেলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যারা অতিরিক্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আবার তারা হয়তো নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন না। তারা টিকে থাকতে পারবেন না। যারা চাকরি করছেন তাদের অনেকে অসুবিধায় পড়বেন। যেমন- জেসিপেনির মতো বড় প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। অনেক বাংলাদেশি সেখানে কাজ করে। তাদের সবারই চাকরি চলে যাবে। অবশ্যই লকডাউনের বড় প্রভাব আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপর পড়বে।

ইমিগ্রান্টদের নিয়ে আমেরিকার পলিসি নিয়ে তিনি বলেন, কিছু ইমিগ্রান্ট আছেন যারা এখনও গ্রিনকার্ড পাননি। বিভিন্ন ধরণের ইমিগ্রেশন ভিসায় আছেন। তারা আসলে খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ট্রাম্পের পলিসি কী হবে তারা বুঝতে পারছেন না। যদি হঠাৎ করে বলে যে দেশে গ্রিনকার্ডধারী বা আমেরিকান সিটিজেনই শুধু থাকতে পারবেন। এ অবস্থায় যারা এখনো গ্রিনকার্ড পান নাই, তারা অবশ্যই ভয়ের মধ্যে আছেন। যদিও তারা বেশ দক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে আছেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন এধরণেরও আছেন অনেকে। কিন্তু তারা খুবই ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমি শুনেছি জুনের মাঝামাঝি থেকে ট্রাভেল ব্যান তুলে নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮৭ বার

Share Button

Calendar

July 2020
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031