» ইসলামি গণআন্দোলণ ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপন্থা

প্রকাশিত: ১৩. এপ্রিল. ২০১৯ | শনিবার


সালাহ্ উদ্দিন ইবনে শিহাব

বাংলাদেশে ইসলামি গণআন্দোলনের চেহারা সুরত স্পষ্ট হলেও এর প্রয়োজনীয়তা ইসলামি সংগঠনগুলো স্পষ্টভাবে সামনে আনতে পারছেন না। এমনকি ধর্মতাত্ত্বিক বিষয় বস্তুর বাইরে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের ভালো-মন্দের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততা, সঠিক ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপন্থা নির্ধারণে তারা অনেকটা নিস্পৃহ। ডায়েচে বা ওয়াজের মঞ্চে ধর্মীয় ফিলোসফির যে আলোচনা করা হয় তার সাথে মাঠে কর্মক্ষেত্রে সংযোগ ঘটাবার কোন কর্মসূচি নেই।

কুরআনে আছে, হাদিসে আছে বলা এক জিনিস আর এর আলোকে সমাজ গঠন করা অপর জিনিস। এর দায় ইসলামি গণআন্দোলনের কর্মীদের। যদি সমাজের সাথে এই সম্পৃক্ততাকে বাড়ানো যেতো, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সাথে মিশে যাওয়া যেতো তাহলে আন্দোলন বহুলাংশে সফল হতো।

এদেশে ইসলামি আন্দোলনের নেতারা বারবারই ইজতেহাদি বিষয়কে গৌণ করে দেখেছেন। কর্মসূচি ও কাজের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ইসলামের উপর আঘাত এলে এদেশের মানুষ যেভাবে ঈমানি জযবায় উত্তেজিত হয়ে প্রতিবাদ করেন, শাসকদের টনক নড়িয়ে দেন। কিন্তু এর রেশ শেষ হয়ে এলে তারা একদম ঘরে উঠে যান। সমাজজীবনের অন্যায়, দুর্নীতি, অপশাসন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা অসফল হয়েছেন।

সমাজের বড় অংশ শ্রমজীবী, কৃষিজীবী, কুলি, মজুর, জেলে, তাঁতী ও মিডল ক্লাস। তাদের মধ্যে শুধু সাওয়াব ও আকিদার বয়ান করলেই ইসলামি আন্দোলনের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং ইসলাম যে বাস্তবিক অর্থেই স্বভাব ধর্ম, সমাজের সাথে যে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে তার বাস্তব নমুনা কর্মের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে।

আজ ধর্ষন বা ব্যভিচার মহামারি আকার ধারণ করছে। বিকৃত যৌনাচার বাড়ছে। কই এর বিরুদ্ধে ধর্মতাত্ত্বিক বয়ান তো কম হলো না। কিন্তু এগুলো বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে এর সয়লাব হচ্ছে। এর কদর্য রূপ মসজিদের হুজরা থেকে মাদরাসার বোর্ডিং পর্যন্ত স্থান নিয়েছে। এইক্ষেত্রে ইসলামি আন্দোলনের কর্মী হিসাবে আমাদের দায়িত্ব কি? আমরা কি অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে ও নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াতে পারছি।

যিনা-ব্যবিচার, অপকর্মকে এই সমাজের এক শ্রেণির সুশীলরা উস্কে দিয়েছেন। পারস্পরিক বুঝাপড়ার নামে, উদার মানসিকতার নামে, দুজনে একাকি সময় কাটানোর নামে। কিন্তু তাদের কাজ তারা করেছে। ইসলামি আন্দোলনের কাজ কী শুধু মুখে মুখে ধর্মের ফিলোসফি বয়ান করা? নাকি এর বিষ বৃক্ষ উপড়ে ফেলার কর্মসূচি গ্রহণ করা।

মোটকথা, ইসলামি ছাত্র আন্দোলন বলেন আর ইসলামি গণআন্দোলন বলেন তাদেরকে কর্মসূচিগত পরিবর্তন আনতে হবে। ইজতেহাদি মানসিকতা নিয়ে সমাজকে বুঝতে হবে। ইসলাম মানুষের জীবনের ধর্ম এ বাস্তবতা কর্মের মাধ্যমে বুঝাতে হবে। এ না হলে আল্লাহর দ্বীনের সৌন্দর্য, ইসলামের সমাজ বাস্তবতা মানুষের কাছে ইউটোপিয়া বা কল্পরাজ্য হিসাবে মনে হবে।#

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৬ বার

Share Button

Calendar

April 2019
S M T W T F S
« Mar    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930