» মৌলভীবাজারে উপজেলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ

প্রকাশিত: ২৪. জানুয়ারি. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার


মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার:
গত ৩০ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশব্যাপী সফল
ভাবে সম্পন্নের পর এবার নির্বাচন কমিশনের টার্গেট একটি সফল উপজেলা পরিষদ
নির্বাচন নিয়ে। প্রথম বারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আসন্ন
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

মৌলভীবাজারে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে দেশের প্রধান দু,টি
রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ শুরু
হয়েছে এরই মধ্যেই। সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয়
প্রার্থী নেছার আহমদ বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর থেকে দলটির নেতাকর্মীরা
রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। অপর দিকে দীর্ঘ একযোগ দিধাবিভক্ত থাকলেও একাদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি প্রার্থী নাছের
রহমানের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কেন্দ্রীক নানা অভিযোগ আর
নির্বাচনে পরাজয়ের পর চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

এরকম প্রেক্ষাপটে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা পরিষদের আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে
সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য
প্রার্থীদের পক্ষে ইতি মধ্যেই সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্চেন
এসব প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা। আর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে জনপ্রিয়
থাকা বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি
মিজানুর রহমান আসন্ন নির্বাচনে ফের প্রার্থী হতে দলীয় সিদ্ধান্তে
অপেক্ষায় অনেকটা নিরব থাকলেও নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে তাঁর এমনাই
জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি অংশ
নিলে তাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান
উপজেলা চেয়ারম্যান ভিপি মিজানুর রহমান মিজান অংশ নেবেন বলে জানান জেলা
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান
চেয়ারম্যান ভিপি মিজান। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচন
করার ইচ্ছা আমার আছে তবে স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় নির্বাচন
সুষ্টু নিয়ে সন্ধেহ আমাদের। তিনি আরো বলেন যেহেতু আমি দলের সাধারণ
সম্পাদক তাই এবিষয়ে সেন্ট্রালের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন কিছু বলার সুযোগ নেই।
ভিপি মিজান বলেন আমার দল দীর্ঘদিন যাবত ক্ষমতার বাহিরে তার পরেও আমি গত
৫বছর দলমত নির্বিশেষে এডিপিসহ স্থানীয় খাত থেকে গ্রামীণ অবকাটামো ,ব্রিজ,
কালবার্ট এবং রাস্থাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি, বিশেষ করে মৌলভীবাজার
সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে সাড়া দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন
হয়েছে।

অপর দিকে এপর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে
ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন চান প্রায় পাঁচ প্রার্থী।
মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচ প্রার্থী হলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি
মুহিবুর রহমান তরফদার, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও চেম্বার
সভাপতি কামাল হোসেন, জেলা যুবলীগ সভাপতি নাহিদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ
রেজাউর রহমান সুমন ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আলহাজ্ব নাজমুল হক
নজমুল। এসব প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন জেলা আওয়ামীলীগের
যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন। ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাচনে নিয়ে
সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে তার অনুসারী দলীয় নেতাকর্মীরা প্রচারণা চালিয়ে
আসছেন। আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে  চমক দেখাতে পারেন তিনি। ২০১৪ সালের
উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করা রাজনীতিবীদ কামাল হোসেন এ
প্রতিবেদককে বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে আমি আসন্ন উপজেলা নির্বাচন করবো

                                                                     ।

নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা নিশ্চিত করে জেলা যুবলীগ সভাপতি নাহিদ আহমদ
বলেন, আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দলীয় ফোরামে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে
দল যাকে মনোনয়ন দিবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করে যাব। উপজেলা নির্বাচনে অংশ
নিয়ে বিজয়ী হলে শিক্ষা খাতে নানান উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি
বলেন যেহেতু দল ক্ষমতায় তাই এই উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন আমরা শেখ হাসিনার কাছে ঋণি, কারন তাঁর কারিশমা একাদশ সংসদ
নির্বাচনে বিজয়ের অন্যতম কারন। তিনি বলেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে ১০টি
মেঘা প্রকল্প চলমান সেগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের চিত্র সম্পুর্ন পাল্টে
যাবে। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি
আলহাজ্ব নাজমুল হক নজমুলও দলীয় মনোনয় প্রত্যাশী, দলীয় মনোনয়ন পেলে উপজেলা
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা তিনি নিশ্চিত করেন।

বিগত ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেয়া এরশাদ
সরকার আমলের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির আগামী উপজেলা
নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেননা বলে জানিয়েছেন এ প্রতিবেদককে। গত উপজেলা
নির্বাচনের কিছুদিন পূর্বে বিএনপিতে যোগ দিয়েই জেলা বিএনপির সভাপতি ও
সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের সু-নজরে আসেন সামাজিক ন্যায় বিচারের
খ্যাতি অর্জন করা জনপ্রিয় এই সাবেক চেয়ারম্যান। নির্বাচনের কিছুদিন
পূর্বেই বিএনপিতে যোগ দিয়ে আলোচনায় আসেন আব্দুল মছব্বির । ঐ সময় নাসের
রহমানের সমর্থন নিয়ে তাঁকে নাসের রহমানের বাড়িতে মিষ্টি মুখ করিয়ে
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করা হয়।

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইতিমধ্যে জানিয়েছেন
ফেব্রুয়ারিতে তফসিল ঘোষণা করে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে পাঁচ ধাপে প্রায়
৫শ’ উপজেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ শুরু করা হবে। এ ক্ষেত্রে সদর উপজেলাগুলোর
সকল কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন
কমিশন। যেসব উপজেলার মেয়াদ পূর্ণ হবে আরো পরে, সেগুলোতে পরবর্তীতে
ভোটগ্রহণ হবে।

উল্লেখ্য: ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ  চতুর্থ দফায় অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ
নির্বাচনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় বিএনপি প্রার্থী মো: মিজানুর রহমান
মিজান (ভিপি মিজান) আনারস প্রতীকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে
চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী মিজানুর রহমান মিজানের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪৩ হাজার ২শ
৬৯ ভোট , তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত মুহিবুর রহমান
তরফদার দোয়াত-কলম প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সর্বমোট ৩১ হাজার ১শ ৮৮ ভোট
পান।

গত নির্বাচনে সদ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে চারজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন
ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
তাতে চেয়ারম্যান পদে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান
সমর্তিত প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির, জেলা
আওয়ামীলীগের বর্তমান যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও চেম্বার সভাপতি কামাল হোসেন
ও আওয়ামলীগ সমর্তিত প্রার্থী ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মুহিবুর রহমান
তরফদার নির্বাচনে অংশ নেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৯২ বার

Share Button