» একটি বাস্তব গোয়েন্দাগল্প

প্রকাশিত: ২৩. মে. ২০২০ | শনিবার

মিহির কান্তি চৌধুরী

দুই দিন আগে ১৯ মে ২০২০ রাতে এক গোয়েন্দা গল্পের ছোটখাটো প্রেক্ষাপট আমার বাসায়ই সৃষ্টি হলো। সন্ধ্যা ৭ টায় আমি শিলচর বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলনের ৫৯তম বার্ষিকীতে আমরা হক্কল খাঁটি সিলেটি গ্রুপের বিশেষ লাইভ অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলাম | ১৯৬১ সালের ১৯ মে আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকার শিলচরের একজন নারীসহ এগারো জন বাঙালি মায়ের সন্তান ভাষা রক্ষার জন্য তথা বাংলায় কথা বলার জন্মগত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে এই আয়োজন। তিন পর্বর ১ম পর্ব হোয়াটস আপ গ্রুপের মাধ্যমে ৫ জন । আমার আলোচনা ছিল ২৫ মিনিটের মতো। আমার বক্তব্যের আগে পরে সঞ্চালক উৎসাহব্যঞ্জক কিছু কথা বললেন। নিজের জন্য নয়, দেশের জন্য ভালো লাগলো। ট্রায়াল, সঞ্চালক ও আমার বক্তব্য মিলে প্রায় দেড় ঘন্টা সময়কালীন আমার ছেলেমেয়েরা টেকনিক্যাল টিম হিসেবে কাজ করেছে। বড় মেয়ে মোবাইল টেকনোলজিতে এবং ল্যাপটপে আমার ফেসবুকের টাইমলাইনে আমাকে তাৎক্ষনিক সংযুক্ত করতে এবং ছোট মেয়ে ওয়াইফাই কানেকশান চলে গেলে অন্য মোবাইলে ব্যাক আপ ডাটা নিয়ে ছিল প্রস্তুত। ছেলেদের একজন কলিং বেল এটেনডেন্ট আর একজন ইলেক্ট্রিসিটি এটেনডেন্ট (বিদ্যুৎ চলে গেলে চার্জার ম্যানেজমেন্ট)। সহযাত্রী বরাবরের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সন্তুষ্টচিত্তে আলোচনা শেষ করলাম। অনেক ভালো ভালো মন্তব্যে একজন বাংলাদেশী সম্মানিত বোধ করল। একই বোধ তার পরিবারের সদস্যদের।

ভাবলাম নিজের বক্তব্য একবার শুনি। রাত হয়ে গেছে ১টা বা তার বেশি। লকডাউনের দিনগুলোতে নিশাচর প্রাণীর মতো কাটে। রাত দিনের চেয়ে বেশি আলোকিত। ছেলেমেয়েদের কেউ পড়ছে, কেউ ল্যাপটপে, কেউ বা টিভিতে। আমি আমার ল্যাপটপে আমার বক্তব্যের ব্যবচ্ছেদে বসলাম। কী বললাম, কী বাদ পড়লো, এই বিষয়ে আগামীতে বলতে গেলে কী কী যোগ করা চাই ইত্যাদি। সবাই তখন ড্রয়িং রুমে, সবার ফোনও ছিল সেখানে। হঠাৎ মোবাইল ফোন বেজে উঠল। মিসড কলের মতো কেটেও গেল। রিংটোন আমার মোবাইলের। আমার মোবাইল চেক করে দেখা গেল কোনও কল আসেনি। ছেলেমেয়েরা একটু চিন্তিত হয়ে পড়ল। নিশ্চিতভাবে চোর ঘরে ঢুকেছে। অসাবধানতাবশত চোরের মোবাইল বেজে গেছে, তাই সে তাড়াতাড়ি বন্ধ করে দিয়েছে। প্রথমবারের মতো দুই ছেলেকে সাহসী দেখা গেল। একজন কাঠের লাঠি আর একজন হাতে স্টিলের লাঠি নিয়ে আমাকেসহ খাটের নিচ, দরজার পেছন, রান্নাঘর, একাধিক ওয়াশরুম, একাধিক বারান্দা, একাধিক সিলিং এর স্টোর তন্ন তন্ন করে খুঁজে, তল্লাশি চালিয়ে কাউকে পাওয়া গেল না তবে ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়ল- ঘুমাবার আগে খাটের নিচ চেক করা। মেয়েরা তল্লাশিতে ছিল না তবে উদ্বিগ্ন ছিল। তল্লাশি শেষে সবাই মিলে একটা বৈঠক হলো। সবাই একমত, ফোন কিন্তু বেজেছে, শুনেছে সবাই। বিষয়টির সুরাহা হচ্ছে না তবে কিছু তো একটা আছে – এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। কুলকিনারা হচ্ছে না । হঠাৎ আমার সহযাত্রী এক ক্লু দিলেন। আমি যখন লাইভে ছিলাম তখন ওই টেবিলে রাখা আমার ফোনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর নন্দলাল শর্মা স্যারের ফোন এসেছিল। সাথে সাথে আমার বড় মেয়ে ফোনটি সরিয়ে নিয়ে সাইলেন্ট করে দেয়। আমি উনাকে পরে কল ব্যাক করি। ওই মোবাইলের শব্দ রেকর্ডড হওয়ার কারণে আমি যখন প্রোগ্রামটি দেখছিলাম, তখন শোনা যায়। রিওয়াইন্ড করে টেস্ট করা হলো। সত্যতা পাওয়ায় উদ্বেগের সমাপ্তি ঘটে। পুরো বিষয়টি আমাদের বেশ আনন্দ দিয়েছে।

মিহির কান্তি চৌধুরী; লেখক, গবেষক ও শিক্ষক

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৯৩ বার

Share Button

Calendar

August 2020
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031