» একুশে বইমেলায় “মাহফুজ উল্লাহ’র এ কী কেবলই প্রেম

প্রকাশিত: ০৭. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | শুক্রবার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার: বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও পরিবেশ সাংবাদিকতার জনক, মিডিয়ার অন্যতম খ্যাতিমান সর্বজন শ্রদ্ধেয় সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট বহু গ্রন্থ প্রণেতা মরহুম অধ্যাপক মাহফুজ উল্লাহ ছিলেন দেশের সর্বস্থরের মানুষের কাছে একজন সৎ সাহসী ,কলম যোদ্ধা,রণাঙ্গনের বীর ও কলমসৈনিক জনপ্রিয়তার তুঙ্গে দেশের মানুষের কাছে ছিলেন এক প্রিয়প্রাত্র ।

বিশেষ করে বিএনপির দুর্দিনের সময়ে চারিদিকে যখন দলের অবস্থা খারাপ অন্যদিকে দলের চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী। এমতাবস্থায় নেতাকর্মীদের ও সাংগঠনিক অবস্থা অমাবস্যায় কালো মেঘের ছায়ায় ঢাকা ও বজ্রপাতের ন্যায় সরকারের রোষানলে আক্রমণের আঘাতে দল, বাড়িঘর ছাড়া যখন শুরু হয়েছে ঠিক সেই সময়ে এই কলমসৈনিক মরহুম মাহফুজ উল্লাহ দূর্বিষহ বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থাকে ঐক্যবন্ধ ভাবে ধরে রাখার জন্য গভীর বাহিরে ও গিয়ে সেই আপ্রাণ প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে দলকে সংঘবদ্ধ করেছেন।

সাংগঠনিক অবস্থাকে আর-ও বেগবান শক্তি সঞ্চয় করার জন্য যাতে নেতাকর্মীদের উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয় সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি এমন একটি বিষয় উপহার দিলেন দল বিএনপি ও সারাদেশব্যাপী নেতাকর্মীদেরকে সেই বিষয়টি হচ্ছে ” হার লাইফ – হার স্টোরি ” নামক একটি আত্মজীবনী।

এই আত্মজীবনী হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসবৃত্তিক অন্যতম এক শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ । বইটি সারাদেশব্যাপী নেতাকর্মী সহ সর্বস্থরের মানুষ ও গণমাধ্যমসহ দেশবিদেশে আলোচিত একটি তথ্য বহুল বই। মানুষের হৃদয়ে গভীরে লিপিবদ্ধ করে রাখতে সক্ষম হয়েছেন মাহফুজ উল্লাহ ।

বেগম খালেদা জিয়ার এই আতœজীবনী বইটি অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দেশের খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান দি- ইউনিভার্সেল একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ” হার লাইফ – হার স্টোরি ” বইটি প্রকাশিত করতে ইউনিভার্সেলের মহা পরিচালক এ. এস. এম. শিহাব উদ্দীন ভুঁইয়া যে ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে সেই বিষয়টি সম্পুর্ণ ভাবে লিখে শেষ করা সম্ভব না। শিহাবের সাথে আমি গত একুশে গ্রন্থমেলায় আমাদের উপরে অনেক ঝড়তুফানের আক্রমণ চলেছিল বেগম খালেদা জিয়ার এই আত্মজীবনী প্রকাশ করার কারণে । মরহুম মাহফুজ উল্লাহ তিনি ছিলেন সর্বগুণে গুণান্বিত বলিষ্ঠ ন্যায়পরায়ন সদালাপী একজন কলমসৈনিক। সেই সাথে দলমতের উর্ধে সকলের নিকট ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।

প্রয়াত মাহফুজ উল্লাহ আমাকে ২০১৮ সালের একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে দুটি বই প্রকাশনার জন্য দিয়েছিলেন” ১- মুক্ত জীবন রুদ্ধ প্রাণ – ২- রাজনৈতিক ছড়া -! এই দুটি বই তিনি আমাকে প্রকাশনার সময় বইটির স্বত্ব ( কপিরাইট ) আমার নামে দিয়েছেন এবং বলেছিলেন এই দুটি বই তোমাকে আজীবনের জন্য দিলাম । বই দুটি প্রকাশনা হয়েছে আমাদের দি ইউনিভার্সেল একাডেমি থেকে।

আজ ৭ ফেব্রæয়ারি ২০২০ শুক্রবার, গতবছর এই দিনে ৭ ফেব্রæয়ারি একুশে গ্রন্থ মেলায় ” একি কেবলই প্রেম ” প্রকাশ করি দি ইউনিভার্সেল একাডেমি থেকে। এই বইটি আজ একবছর পূর্ণতা লাভ করেছে। গত বছর একুশে গ্রন্থ বইমেলায় এই বইটি পাঠক দর্শক ও শ্রোতাদের নিকট অনেক সাড়া জাগিয়েছিল, খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল । সেই হিসেবে এবার ও একুশে গ্রন্থ বইমেলায় এই বইটি যেন পাঠক দর্শক শ্রোতারা সংগ্রহ করেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ দি ইউনিভার্সেল একাডেমি ” প্যাভিলিয়ন ( চার ) বইটি পাঠকরা সংগ্রহ করার জন্য বিশেষ আহবান জানাচ্ছি ।
এতে মরহুম মাহফুজ উল্লাহ’র শ্রমের মূল্য কিছুটা ও পূর্ণতা পাবে বলে মনে করি।

ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্বরণে ফেব্রæয়ারি জুড়ে চলে বইমেলা। বাঙালির প্রাণের এ বইমেলা এখন ঐতিহ্য। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দীর এক অংশে প্রতিবারেরর মতো পয়লা ফেব্রæয়ারি থেকে মাসব্যাপী শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। বাংলা ভাষাভাষী মানুষ বইমেলার জন্য একটি বছর অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকেন। এবারও একুশে বইমেলায় প্রিয় লেখক মাহফুজ উল্লাহ’র লেখা ” এ কী কেবলই প্রেম ” দেবব্রত বিশ্বাসের অপ্রকাশিত চিঠি–নাম এই উপন্যাস বইটি প্রকাশ করেছে দেশের প্রকাশনা সংস্থা দি ইউনিভার্সেল একাডেমি।

এ কী কেবলই প্রেম উপন্যাসের কিছু বিষয়ে আলোচনা- ও লেখকের সাথে স্মৃতিচারণ পটভূমি সম্প্রসারণ-

বইটি আজ একবছর পূর্ণতা লাভ করেছে গতবছরের মতো এবারও আশাবাদী বইটির জনপ্রিয়তা নিয়ে।

বাংলাদেশের এক নারীর সঙ্গে দেবব্রতের এক অদ্ভুত যোগাযোগ ঘটে ১৯৭৪ সালে, চিঠির মাধ্যমে। সেই যুবতী ১৯৭৪ সালে চিঠি লিখেছিলেন দেবব্রতকে, আর এই চিঠির যোগাযোগ অব্যাহত থাকে ১৯৮০ সালের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

এই আতœপরিচয় গোপনীয় নারী ও দেবব্রত কি পরস্পর ভালোবেসে ছিলেন, না এটা শুধুই ছিল এক অতৃপ্ত বাসনা। ধারাবাহিক ভাবে চিঠিগুলো পড়লে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ও পাঠকের ভিন্ন ভিন্ন উপলব্ধি হবে। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশী নারীর পরিচয়টা গোপনীয় রয়েছে, চিঠিগুলো প্রকাশেও তার কিছুটা আপত্তি ছিল। দেবব্রতের অনুভূতিগুলো তিনি একান্ত নিজের করে লালন করতে আগ্রহী। তাই যেখানে লেখিকার নাম সেটা মুছে দেওয়া হয়েছে। তবু দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এবং দেবব্রতের মৃত্যুর ৩৫ বছর পরে চিঠিগুলো পাঠক পড়ে দেখতেই পারেন। বইয়ের শেষ দিকে প্রতিলিপি অংশে চিঠিগুলো ক্রমিক নম্বর দিয়ে ধারাবাহিকভাবে সাজানো আছে। দেবব্রতের চিঠি যিনি পেয়েছেন তিনি রাজধানীর কেউ নন, স্বল্পপরিচিত এক মহকুমা ও পরে জেলার অধিবাসী। এতে মুল- চিঠির বানান অপরিবর্তিতই থেকেছে।

এতে লেখক নিরপেক্ষভাবে বিষয়টিকে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছেন পাঠকদের দৃষ্টিতে। মুল্যবান এই উপন্যাস বইটি পাঠকমাত্রকেই নাড়া দেবে বইটির বিষয় ভাবনার কারণে। বাঙালির ভাষাথসংস্কৃতি তার নববর্ষ বিগত বছরের প্রাপ্তি শুন্যতাকেও আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন এই উপন্যাসে তার লেখেনির মাধ্যমে। উগ্রবাদ ও ধর্মাদ্ধতার বিরুদ্ধে ‘ গোরা ‘ উপন্যাসের দর্শন যে আজও প্রাসঙ্গিক সেটি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছেন লেখক। বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘ চিলেকোঠার সেপাই ‘ সম্পর্কে মুল্যায়ন করতে গিয়ে ঔপন্যাসিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের শিল্পমানস অনায়াস দক্ষতায় ধরেছেন যেভাবে ঠিক- সেইভাবে লেখক মাহফুজ উল্লাহ এই উপন্যাসে ব্যক্তি বিশেষ নয়, গণনায়কত্বই এ উপন্যাসের প্রাণ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। একথা জোড় দিয়ে বলা যায় উপন্যাস ভাবনা ও সাবিত্রী উপাখ্যান ও উপান্যাস সম্পর্কে চিন্তা- ভাবনা স্ফটিকস্বচ্ছ পরিচয় দিয়েছেন লেখক। এরপর এ আলোচিত উপন্যাসটি সম্পর্কে নির্মোহ আলোকপাত করেছেন তিনি। মানুষের মানবিকতাকে নাড়া দিয়েছেন। সমাজকে পরিবর্তনের প্রয়াস চালিয়েছেন। শ্রমঘনিষ্ট জনগণের সঙ্গে শিল্প–সাহিত্য – সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘষটানোর ক্ষেত্রে দৃঢ়- প্রত্যয়দীপ্ত এই ” এ কী কেবলই প্রেম ” উপন্যাসটির লেখক সাঁকো বাঁধায় নিপুন কারিগর তিনি মাহফুজ উল্লাহ।

লেখক মাহফুজ উল্লাহ সাহিত্যের একজন অন্যতম জনপ্রিয় লেখক। জনপ্রিয় লেখক সম্পর্কে যা বলতে চাই তা হচ্ছে এখন ফেব্রæয়ারি বইমেলা এলেই দেখি, পত্র-–পত্রিকায় যে বিজ্ঞাপন গুলো হয় সেখানে এক শ্রেণীর লেখক নিজেদের লিখে যাচ্ছেন জনপ্রিয় লেখক, জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক, জনপ্রিয় অমুক, জনপ্রিয় তমুক,। এর ফলে আসল সত্য বাস্তব জনপ্রিয় জিনিসটা ও এখন এমন একটা পর্যায়ে গেছে যে, প্রত্যেকে জনপ্রিয় লেখক। যার ফলে জনপ্রিয়তা কিংবা জনপ্রিয় লেখকের ইমেজটা এখন এক ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রকৃত অর্থে চাই যেমনঃ শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়, বাংলা- সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। তিনি কি খারাপ লেখক? তারাশস্কর, মানিক, বিভূতি এদের প্রত্যকের বই বছরের পর বছর ধরে চলছে। নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের বই বিক্রি হচ্ছে ! বিক্রি হচ্ছে জীবনানন্দের বই বিক্রি হচ্ছে, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বই বিক্রি হচ্ছে । বিক্রি হচ্ছে হুমায়ুন আহমেদ, সেলিনা হোসেন, হাসান আজিজুল হকের বই । এখন আমার কথা হচ্ছে জনপ্রিয় লেখা কিংবা অজনপ্রিয় লেখা বড় নয় । বড় হচ্ছে ভালো লেখা এবং মন্দ লেখা । কে ভালো লিখছে সেটা ভাববার বিষয়, আর কে মন্দ লিখছে সেটা ভাববার বিষয়।

এ কী কেবলই প্রেম- বর্তমান সময়োপযোগী এই উপন্যাসটির লেখক হচ্ছেন বাংলাদেশের মিডিয়া জগতের এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাহফুজ উল্লাহ। তিনি ছাত্রাবস্থায়ই সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার ১৯৭২ সালে জন্মলগ্ন থেকেই এ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাঝে চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন কাজ করেন। তারিসাথে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বাংলা- ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন এবং রেডিও ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। তিনি মাহফুজ উল্লাহ আন্তজার্তিকভাবে পরিচিত একজন সক্রিয় পরিবেশবিদ। বাংলাদেশে তিনিই সর্বপ্রথম পরিবেশ সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি আন্তজার্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন আইইউসিএন- এর পরিচালনা বোর্ডের নির্বাচিত সদস্য- ( ২০০৮ – ২০১২) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্য ( ২০১৩ -২০১৬) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এক কথায় বইমেলাকে লেখক – পাঠকের মিলনমেলা বললেও ভুল হবে- না । লেখকদের পাশাপাশি পেশাজীবী বিভিন্ন সংগঠনের মান্ষুও মেলায় আসেন মাতৃভাষার টানে। বাংলা- সাহিত্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কারণে নানা ব্যস্ততার মধ্যেও একটি বারের জন্য হলেও বইমোলায় ছুটে আসেন। তাই প্রতিটি স্টলে কিংবা ফাঁকা জায়গার সামনে দাঁড়িয়ে আলাপচারিতায় দেখা যায়। এর বাইরেও বইমেলায় প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, আলোচক, চিকিৎসক, অভিনেতা – অভিনেত্রী, রাজনৈতিক ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবি মাংস্কৃতিক কর্মী- এবং খেলোয়াড় সহ অন্য পেশাজীবী মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে মেলাপ্রাঙ্গণ। বইমেলায় আগত পাঠক, দর্শক, শ্রোতাসহ সবাইকে আহবান জানাই ” বর্তমান সময়োপযোগী এই উপন্যাসটি আজই সংগ্রহ করুন আপনার সু-প্রিয় প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠান ” দেশের সুনামধন্য প্রকাশনা ” দি ইনিভার্সেল এবাডেমি – সোহরাওয়ার্দী মাঠ- প্রাঙ্গণ প্যাভিলিয়ন – ( চার )

প্রতিবেদক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার – প্রকাশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা, সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ( ডিইউজে ) ও গণমাধ্যমকর্মী। ( ৭ ফেব্রæয়ারি ২০২০ শুক্রবার )

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৬৭ বার

Share Button

Calendar

September 2020
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930