শিরোনামঃ-


» এক মানবিক চিকিৎসক দম্পতির জন্য ভালবাসা

প্রকাশিত: ১৭. জুন. ২০২০ | বুধবার

আলী আদনান

গত ১৮ মে আমি ও অামার স্ত্রী সারাদিন নানা ব্যস্ততায় বাইরে কাটিয়েছি। সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে বাসায় ফিরি। ইফতারের পরপরই আমার স্ত্রীর জ্বর এসে যায়। রাত থেকে শুরু হয় জ্বরের তীব্রতা। মাঝে মধ্যে কাশি। পরেরদিন সে জানালো তার পায়ে ব্যথা। একপর্যায়ে সে বললো সারা গায়ে ব্যথা। আর তো বসে থাকা যায় না। ঠিক করলাম, মহাখালী গিয়ে টেস্ট করাব।

এটা ভাবতে ভাবতেই ফোন করলাম, ডা. মামুন আল মাহতাব ভাইয়াকে। ( চেয়ারম্যান, হেপাটোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) তিনি আমাদের কাছে স্বপ্নীল ভাই নামে পরিচিত। তাকে সবকিছু খুলে বললাম। তিনি সবশুনে বললেন, আদনান, ওনাকে ( আমার স্ত্রীকে) আইসোলেশনে দিয়ে দাও। আইসোলেশনে থাকুক। কিছু নিয়ম মানুক। জ্বর কাশি হলেই ‘করোনা’ এটা ভাবার কারণ নেই। এটা বলে স্বপ্নীল ভাইয়া সামান্যকিছু ওষুধ এবং কিছু নিয়মকানুন দিলেন। ফোন রাখার আগে বললেন, ” ভয় পেওনা, আমাকে আপডেট জানাবে। পরিস্থিতি যে দিকেই যাক না কেন, অামাকে সাথে সাথে জানাবে”। দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন চিকিৎসকের এমন আশ্বাসবাণী পেয়ে আমার মধ্যে বেশ সাহস এল ।

এর মধ্যে শুরু হলো আমার জ্বর। মাঝে মধ্যে পায়ে ব্যথা। মামুন আল মাহতাব ভাইয়ার নির্দেশনা মেনে চলা শুরু করলাম। প্রতি রাতেই ওনার সাথে ফোনে কথা হতো। এমনও সময় গেছে, ব্যস্ততার জন্য ফোন রিসিভ করতে না পারলে রাত সাড়ে বারোটার দিকে কল ব্যাক করেছেন। খোঁজ খবর নিয়েছেন। সবচেয়ে যেটি করেছেন, সেটি হলো,মমতা মাখা কন্ঠে আমাদেরকে সাহস দিয়েছেন। যখন তিনি সাহস দিতেন তখন তাকে অামার মনে হতো, অতি অাপন একজন। যার উপর নির্ভর করা যায়। যার প্রতিটা বাক্যে সাহস পাওয়া যায়।

চার পাঁচ দিনের মধ্যে আমরা দু’জনেই সুস্থ হয়ে উঠলাম। হতে পারে অামাদের করোনা হয়েছিল। কিন্তু কাবু করতে পারেনি। হতে পারে অামাদের অন্য কোন ভাইরাস জ্বর হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু সময় খারাপ অামরা ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু অামি মুগ্ধ হয়েছিলাম, মাহতাব ভাইয়ার অান্তরিকতায়। ওনার দেওয়া সাহস ছিল অামাদের সবচেয়ে বড় ওষুধ।

আজ সেই মামুন আল মাহতাব ভাই নিজেই করোনা আক্রান্ত। একই সাথে আক্রান্ত হয়েছেন তার স্ত্রী ডা. নুজহাত চৌধুরী। ( শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর কণ্যা)। আক্রান্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। শুধু রুটিন মাফিক জীবনে তারা ব্যস্ত থাকেননি। বরং সবনিয়ে প্রথম থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন করোনা চিকিৎসায়। এই চিকিৎসক দম্পতি অামাদের ভালবাসার জোর দাবিতে সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন- কায়মনো বাক্যে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

( লেখকঃ সাংবাদিক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা)

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৫৯ বার

Share Button