শিরোনামঃ-


» এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশেও আসতে পারে করোনাভাইরাস

প্রকাশিত: ২৫. জানুয়ারি. ২০২০ | শনিবার

এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশেও আসতে পারে করোনাভাইরাস । চীনে ছড়িয়ে পড়া রোগটির সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা ।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, এরইমধ্যে নেপাল ও থাইল্যান্ডেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হয়েছে। চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বেশি থাকায় বাংলাদেশও নতুন এই ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এ কারণে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা নিতে হবে। জনগণকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করতে হবে। এটা হেলাফেলা করার বিষয় না। আগামী এক মাসের মধ্যে রোগটি বাংলাদেশেও আসতে পারে ধরে নিয়ে সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

চীনের উহান শহরে প্রথমে দেখা দেওয়া নিউমোনিয়া সদৃশ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। চীনে একদিনের ব্যবধানে মৃতের সংখ্যাও ২৬ থেকে বেড়ে ৪১ হয়েছে।

চীনের বাইরে নেপাল ও থাইল্যান্ড ছাড়াও ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায়ও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।

মহামারি ঠেকাতে নতুন চান্দ্রবর্ষ উদযাপন সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার থেকে চীনের ১০টি শহরে গণপরিবহন ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য ‘নিষিদ্ধ শহর’ ও গ্রেট ওয়ালের একটি অংশও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

চীনা নববর্ষের সপ্তাহব্যাপী ছুটির মধ্যে দেশটির কোটি কোটি মানুষ একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাতায়াত করলে ভাইরাসটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশেও বিমানবন্দরে চীনফেরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিমানবন্দরে চীন থেকে আসা ৯০০ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের কারও শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। এছাড়া আইইডিসিআরে নয়জনকে পরীক্ষা করে কারও শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দরে পরীক্ষাই করোনাভাইরাসে আক্রান্তকে চিহ্নিতে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন দীর্ঘদিন চিকিৎসা গবেষণায় যুক্ত মুশতাক হোসেন।

তার মতে, বিমানবন্দরের পরীক্ষায় অনেক সময় রোগটি ধরা নাও পড়তে পারে। এ কারণে চীন থেকে ফেরার পর কারও জ্বর হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডা. মুশতাক বলেন, স্ক্রিনিংটা কোনো ফুল প্রুফ সিস্টেম না। জীবাণু নিয়ে যদি আসে স্ক্রিনিং করার সময় তার জ্বর পাওয়া যাবে না। ১৪ দিনের মধ্যে যে কোনো সময় তার জ্বর হতে পারে। এ কারণে ফেরার কয়েক দিন পরও জ্বর হলে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করতে হবে।

হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় রুমাল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া এবং সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মুশতাক হোসেন।

রোগাক্রান্তসহ নানা কারণে শারীরিকভাবে দুর্বলদের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, চীনে যারা মারা গেছে তাদের অধিকাংশই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে মারা যাননি। তারা আগে থেকেই নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এ কারণে যারা অসুস্থ তাদের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনও আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তারপরও বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুত থাকা খুবই জরুরি। বিভিন্ন দেশে এসব রোগী গেছে। এখন এটা শুধু উহান বা চীনে সীমাবদ্ধ নেই।

ইতোমধ্যে ভিয়েতনামে একজন রোগী পাওয়া গেছে, যার চীন ভ্রমণের ইতিহাস নেই। কিন্তু তার বাবা চীনে গিয়েছিল। এ কারণে অন্যান্য দেশেও রোগটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।

ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, এখন পর্যন্ত নয়জন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না জানতে আইইডিসিআরে এসেছেন। তাদের পরীক্ষা করে কারো ক্ষেত্রে পজিটিভ পাওয়া যায়নি।

এদের সবাই আবার চীন ফেরত না। অনেকের মধ্যে ভয় ছিল তারা জিজ্ঞেস করেছে।

বিমানবন্দরে পরীক্ষা নিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, এই মুহূর্তে চীন থেকে আসা যাত্রীদেরই পরীক্ষা করা হচ্ছে। কারণ প্রাথমিকভাবে চীন থেকেই রোগটা ছড়াচ্ছে। সে হিসেবে আমরা চীনকেই বেশি ফোকাস করেছি। চীনের কিছু লোকজন অন্য দেশের এয়ারলাইন্সে করে আসে যার মধ্যে হংকংয়ের এয়ারলাইন্সে আসা যাত্রীদেরও আমরা পরীক্ষা করছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা শ্বাসতন্ত্রের রোগের চিকিৎসায় অভ্যস্ত। এ ধরনের রোগী পেলে তাকে আলাদা করে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক জেলা হাসপাতালে রোগীকে আলাদা রাখতে বিশেষ ইউনিট চালু আছে। সেসব ইউনিটকে প্রস্তুত করে রাখার কাজ চলছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১৭ বার

Share Button