» এটা নজিরহীন আমাদের পরিবারে

প্রকাশিত: ১১. মার্চ. ২০১৮ | রবিবার

দীপ্র দত্তরায়

নানু পিসির সাথে এর আগে শেষ দেখা হয়েছিল ঠাকুমায়ের শ্রাদ্ধর সময়।
নানু পিসি (শ্রীমতী বনানী রায় /ঘোষ) আমার বাবার বড় পিসি শ্রীমতী রেণুকা দত্ত রায় /রায়ের বড় মেয়ে। নানু পিসির স্বামী শ্রী বেণু গোপাল ঘোষ আমার ঠাকুমা শ্রীমতী মিনা ঘোষ /দত্ত রায়ের ছোট কাকু। তিনি আমাদের বেগুন বাড়ির মদন মোহন ঘোষের সসন্তান হলেও সেই বাড়ির থেকে কোনো আর্থিক সাহায্য উপভোগ করেননি। নানু পিসির দুই সন্তান বাবিল মামাদাদু ও বুবুল দাদা। বাবিল মামাদাদু আমার বাবার থেকে বয়সে দশ বছর বড় এবং বুবুল দাদা আমার বাবার থেকে বয়সে ছোট।দুইজনেই আমার বাবার মামা (এবং আমার ঠাকুমার খুড়তুত ভাই) এবং আমার বাবা ওদের দুইজনেরই মামা হয়।তবুও বয়সের তফাতের প্রতি সম্মান রেখে বাবিল মামাদাদু ও বুবুল দাদা বলে সম্বোধন করি এবং বাবা বাবিল মামা ও বুবুল বলে সম্বোধন করে। ওরা দুইজনেই আমার ঠাকুমাকে সোনাদি বলে ডাকতো আবার ওদের মা ও আমাদের নানু পিসি আমাদের ঠাকুমাকে ছোট মামি বলে ডাকতো বড় পিসি ঠাকুমা /রেণুকা দিদুনে /সুন্দর দিদুনের সন্তান হওয়ার হেতু।

নানু পিসির কাছে অষ্টগ্রাম,কিশোরগঞ্জে কাটানো কিছু সময়ের কথা জানার ইচ্ছে ছিলো খুব। তবে পিসির তা আর মনে নেই।পিসি আমার প্রপিতামহ শ্রী প্রেম রঞ্জন দত্ত রায় এবং আমার প্রমাতামহ দুইজনকেই দেখেছে। এটা নজিরহীন আমাদের পরিবারে। প্রেম বাবু যখন মারা যান তখন আমার ঠাকুরদা নবম শ্রেণীর ছাত্র এবং প্রমাতামহ নাকি তারও অনেক আগে মারা যায়।

পিসির সাথে দেখা করার খুব ইচ্ছে ছিলো। পিসির পাশে বসে আমার ছবি একটাও তোলা হয়নি এর আগের সাক্ষাতে বেলঘরিয়ার বাড়িতে ঠাকুমায়ের শ্রাদ্ধর সময় । আমি পিসির সাথে বাবার ছবি তুলতেই বেশি ব্যাস্ত ছিলাম তখন। সেই ইচ্ছেও এবার পূরণ হল।

পিসির অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। তাই হয়তো অনেক দিন ধরেই পিসিকে দেখতে ভীষণ মন চাইছিল। নানু পিসির স্বামী আমাদের ঠাকুমায়ের ছোট কাকু হয়ার ফলে নানু পিসির আমাদের বেলঘরিয়ার বাড়িতে বাবার অন্য পিসতুত  ও জ্যাঠতুত ভাই বোনদের তুলনায় অনেক অনেক বেশি যাওয়া আসা ছিলো। নানু পিসির মা সুন্দর দিদুন (আমার বড় পিসির  ঠাকুমা) শেষ বয়স অবদি  আমার ঠাকুরদাকে ভাইফোটা দিতে আসতো। বুবুল দাদা আমার বাবার খুব বন্ধু ছিলো এবং বাবিল মামাদাদু আমার জ্যাঠুর (প্রদীপ) বন্ধু ছিলো। বাবিল মামাদাদু ও জ্যাঠুর দামাল দলে বিলু মামাদাদু এবং গৌতম মামাদাদুও ছিলো। গৌতম মামাদাদু ও নিতা মাসিঠাকুমা মদন মোহন ঘোষের পঞ্চম সন্তান মলিন মোহন ঘোষের সন্তান।তিনি তখনকার দিনে দার্জিলিং কলেজিয়েট স্কুল এবং কোলকাতার সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন যেই। সংসৃত কলেজিয়েট স্কুলে আমার বাবা ক্লাস ১১ এবং ১২ পরেছিল তার আগে নিমতা হাই স্কুলে ক্লাস ১০ অব্ধি পড়ার পরে।
আমি ডালখোলা, উত্তর দিনাজপুর থাকাকালীন যেমন রায়গঞ্জে মালা মাসিঠাকুমা ও বুবলি পিসির বাড়ি যেতাম (যেই পিসির বিয়ের সময় বড় মাসিঠাকুমায়ের ছোট ছেলে টিটু কাকু /বর্তমানে বাংলাদেশে প্রখ্যাত সাংবাদিক সৌমিত্র দেব আমাদের বাড়িতে এসে থেকেছিল মৌলবিবাজার থেকে এসে) ঠিক তেমনি শিলিগুড়িতে নিতা মাসিঠাকুমা, নানক কাকু,গৌতম মামাদাদু ও প্রাপ্তি পিসির বাড়িও গেছি অনেক।
বেনু গোপাল ঘোষের (আমার পিসেমশায় /আমার ঠাকুমায়ের, ছোটকাকু) লেখা কবিতা তখনকার দিনে এক নম্বর বাঙলা সম্বাদপত্রে স্থান পেতো।
বেনু পিসোর কাঠের বিজনেস ছিলো এবং আমার ঠাকুমাকে (তার ভাইঝি) একটা সুন্দর দেখতে কাঠের আলমারি বিনা মুল্যে বানিয়ে দিয়েছিলো। তার আমার ঠাকুমায়ের প্রতি ভালবাসাও যেন সেই আলমারির মধ্যে দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে এসেছিল। আমার ঠাকুমাকে নিজের বড় দাদার মেয়ে হিসেবে খুব স্নেহ করতো।
বাবিল মামাদাদু ও বুবুল দাদাও বেলঘরিয়ার বাড়িতে অনেক রাত কাটিয়েছে।

নানু পিসিকে ছোট পিসি ঠাকুমায়ের (বীণাপাণি দিদুন) ছোট মেয়ে সোনালী পিসির মারা যাওয়ার খবরটাও দিয়েছিলাম এবং রতু জ্যাঠুর( কবি নির্মলেন্দু গুন) বাংলাদেশের দুই দুট প্রধানমন্ত্রীর থেকে স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক পাওয়ার ব্যাপার এবং প্রথম বাঙালি ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সাথে দেখা হওয়ার ব্যাপারেও কথা বললাম। দাদুভাইয়ের বিবাহ পরবর্তী তোলা ছবিটাও দেখালাম যেটা এবার কবি জ্যাঠুর রচনাবলীর ফ্রন্ট কভারে জায়গা পেল যেটা বইমেলায় আসার আগে দুই দুট রাষ্ট্রপতির হাতে গেলো (প্রণব মুখার্জি ও আব্দুল হামেদ)। ঠাকুমায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের সময় আমি রূপালী পিসি সমেত ছোট পিসি ঠাকুমা ও বাসুদেব পিসে ঠাকুরদার যেই ছবিটার ছবি তুলেছিলাম সেই ছোবিটাও দেখালাম নানু পিসিকে। সেই ছবিটার ছবিটাও ঠাকুরদা ঠাকুমায়ের বিবাহ পরবর্তী তোলা ছবিটার পাসেই স্থান পেয়েছে কবি জ্যঠুর সেই রচনাবলীতে(তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ডে) ।
সবি পিসিকে বলা হল। তাতু জ্যাঠুর বিয়ের ছবিতে যেখানে সোনালী পিসি আছে সেই ছবিও দেখানো হল নানু পিসিকে।
ছোট পিসি ঠাকুমায়ের সুন্দরতার বেপারে জিজ্ঞেস করাতে নানু পিসি গর্বের সাথে বলে “সুন্দর ছিলো কিন্তু আমার মায়ের মতন সুন্দর ছিলোনা। ” ঠিকি বলেছে নানু পিসি। কারণ তাই আমরা বড় পিসি ঠাকুমাকে সুন্দর দিদুন বলে ডাকতাম।

নানু পিসির সাথে ছবি তুলতে চাইছি দেখে পিসি আমাকে কিস করে। তবে সেল্ফি দুটি তার আগের মুহুর্তর উঠেছে। কিসটা না হয় আমার মনের ভিডিও ক্যামেরাতে থাক। নানু পিসি এও বলে যে আমিই বেলঘরিয়ার বাড়িতে সবথেকে বেশি যেতাম যখন আমি নানু পিসিকে বলি যে ফেসবুকে পরি পিসিকে দেখলে নানু পিসির কথা মনে পরে। সুরুতেই নানু পিসিকে প্রণাম করার সময় নানু পিসি বলে বসে “এই তুই আমাকে পিসি বলে কবে থেকে ডাকতে শুরু করলি? ”
পরী পিসির সাথে ফেসবুকে আলাপ হওয়া এবং বড় পিসি ঠাকুমায়ের বড় সন্তান মানস জ্যাঠুর ছোট ছেলে গুড্ডু দাদার আমাদের পাটনার বাড়িতে প্রায় এসে থাকা এবং অসীম জ্যাঠুর পাটনা আসার কথা নিয়েও কথা হল। পরি পিসির ফেসবুকে লেখা যে পড়তে ভালো লাগে সেই নিয়েও বাবা কথা বলছিল।
অসিম জ্যাঠু তাসমানিয়ায় ইতিহাসের বড় প্রফেসার। ইতিহাস অসিম জ্যাঠুর রক্তে।
নানু পিসি,অসিম জ্যাঠুদের কাকু নিহার রঞ্জন রায় কলকাতা মিউজিয়ামের কিউরেটর ছিলো এবং প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে তার লেখা বইও আছে । তিনি ভারতের এক নাম করা ইতিহাসবিদ। উনার কথা উইকিপিডিয়াতেও লেখা হয়েছে। অসীম জ্যাঠু ২০০৭ শালে পাটনায় ঐতিহাসিক খুদা বক্স গ্রন্থাগার দেখতে আসাত। কিন্তু সেই কাজ পরবর্তীকালে বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণে আর জ্যাঠুর পাটনা আসা হয়নি। অসীম জ্যাঠুকে বুবুল দাদা, সুমনা বউদি ও নানু পিসির সাথে শেষ দেখেছি জ্যাঠতুত দিদির বিয়েতে। ইতিহাস নিয়ে আমায় আগ্রহী দেখে জ্যাঠুর আমায় খুব ভালো লেগেছিল। জ্যাঠু দিই কন্যা তানিয়া ও কানায়াইয়ার কথাও জ্যাঠু জ্যাঠিমায়ের কাছে শুনেছি। জ্যাঠিমারও আমায় ততটাই ভালো লেগেছিল যতটা আমার জ্যাঠিমাকে ভালো লেগেছিলো। অসীম জ্যাঠুর বড় মামাদাদুর (রঞ্জু মামাদাদুর দাদা) সাথে বোধ হয় ভালো পরিচয় ছিলো।দুইজনে পোজ দিয়ে ছবি তোলে আমার ক্যামেরার সামনে ।সেই ছবিও ফেসবুকে পোষ্ট করেছি অনেক আগে। অসীম জ্যাঠু ক্যাংগারুর দেশ থেকে কৃষ্ণনগর এলে পিসি ঠাকুমা, আবোন জ্যাঠু, চার্চিল জ্যাঠু, মানস জ্যাঠু, সিউলি পিসি, বুড়ি পিসি, নানু পিসি পরী পিসি সবাইকে নিয়ে নাকি বেলঘরিয়া আসতো। বাবার কাছে এসব শোনা। তখনি বোধ হয় বড় মামাদাদুর ( রঞ্জু মামাদাদুর দাদা)সাথে আলাপ হয়ে থাকবে।
বড় পিসে ঠাকুরদা নিশিত রঞ্জন রায় তখনকার দিনের ব্যারিস্টার ছিলো।

আমার ভাইপো রিতরুপ কাকু টিউশনে গেছিলো। হ্যা ও আমার বাবার মামাতো ভাইও হয় আমার পিস্তত ভাইপো হওয়ার পাশাপাশি। ক্লাস ১০ হল ওর। এবার মাধ্যমিক দেবে। সুমনা বউদি ও বুবুল দাদার সাথে যা মিষ্টি সময় কাটলো। সেটা বোঝানোর শব্দ নেই আমার। বউদি ভারি মিষ্টি দেখতে, ঠিক ২০১২সালে যেমন দেখেছিলাম। দাদাও একই রকম আছে। বাবীল মামাদাদু দিল্লি গেছিলো তাই এইবার আর দেখা হল না। ২০০১৫ শালে ঠাকুমায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে চার্চিল জ্যাঠু, জ্যাঠিমা ও নানু পিসির সাথে শেষ দেখি।
চার্চিল জ্যাঠু রাইটার্সে কাজ করাকালীন রঞ্জু মামা দাদূর সহকর্মী ছিলো। চার্চিল জ্যাঠুর ছেলে কল্লোল রায় দাদা ও নাতি আদিত্য। ফেসবুকে মানস জ্যাঠুর শ্রাদ্ধে সবাইকে দেখেছি;গুড্ডু দাদার দাদা সুতানু দাদাকেও। সুমনা বউদিকে হারমোনিয়াম বাজাতেও দেখেছি সেই উপলক্ষে।সুমনা বউদি যত মিষ্টি ততই গুনি।

নানু পিসি, বাবিল মামাদাদু, বুবুল দাদাদের বাড়ি আমার বাবা অনেক অনেক বার গেছে ঠাকুমায়ের সাথে বাবা মায়ের বিয়ের আগে । পরী পিসির বাড়িও কখনো গিয়ে থাকবে কারণ ফেসবুকে পরী পিসির কাছে শুনেছি যে সোনালী পিসি (বাবার ছোট পিস্তত দিদি) নাকি বেণিয়াপুকুরে পরী পিসির বাড়ি অনেক এসেছে। এখন বুবুল দাদারা গরিয়াহাটে থাকে। আমরা ২৪ ফেব্রুআরি মাদার ওয়াক্স মিউজিয়াম ঘুরে পিসিকে দেখতে গেলাম।দাদা বউদির সাথেও সেই উপলক্ষে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগলো।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৪৬ বার

Share Button

Calendar

September 2018
S M T W T F S
« Aug    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30