» এস পি হারুণ কি নারায়ণগঞ্জের “সিংঘম” ছিলেন ?

প্রকাশিত: ০৮. নভেম্বর. ২০১৯ | শুক্রবার

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুণ অর রশীদ কি নারায়ণগঞ্জের “সিংঘম” ? তার নামে শহরের মোড়ে মোড়ে টানানো হয়েছে ব্যানার। লেখা হয়েছে ‘বাংলার সিংহাম’ । ভারতীয় হিন্দী ছবি “সিংঘম” এ নীতিবান পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অজয় দেবগন । ১১ মাসের দায়িত্বে সংবাদের শিরোনামে এসে আজ সেই সিংঘমের সঙ্গে তুলনীয় হতেছেন তিনি । বিদায় সংবর্ধনায় কাঁদলেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন ।

মাসদাইর পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের দেওয়া সংবর্ধনায় তিনি বলেন, আমি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কাজ করেছি, আইনের স্বার্থে কাজ করেছি। এ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, এটা একটা ষড়যন্ত্র। তদন্ত হলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

বৃহস্পতিবার এ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করার সময় আবেগ আক্রান্ত হয়ে পড়েন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এক পর্যায়ে তাকে কাঁদতেও দেখা যায়।

হারুন বলেন, পুলিশের ভেতরে তিনি ‘চেইঞ্জ’ আনতে চেয়েছিলেন। আর তাতে সফল হয়েছেন বলেই তার বিশ্বাস।

পুলিশ এখন আগের থেকে অনেক বেশি সাহসী। তারা এখন বুঝতে শিখেছে কীভাবে মোকাবেলা করতে হয়। অপরাধ ও অপরাধী দমনে কীভাবে কাজ করতে হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ তিন বার ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার নির্বাচিত হলেন।

হারুন বলেন, আমি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় দেব না আগেই বলেছিলাম। আমি যেখানেই যাই, যেখানেই থাকি, এদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন গত জাতীয় নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পান। তার মাস তিনেক আগে তাকে গাজীপুর থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছিল।

হারুন এক সময় ঢাকা মহানগর পুলিশে ছিলেন। তখন বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুকের উপর হামলার ঘটনায় আলোচিত হন।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছিল বিএনপি।

নারায়ণগঞ্জে ১১ মাসের দায়িত্বে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেন হারুন।

হকার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ বেশ কিছু পদক্ষেপে তিনি যেমন প্রশংসিত হন, তেমনি নারায়ণগঞ্জের অনেক প্রভাবশালীর সঙ্গে টক্করে গিয়ে তিনি নতুন নতুন আলোচনার জন্ম দেন।

এই প্রেক্ষাপটে কিছুদিন আগে শহরের বিভিন্ন সড়কে এসপি হারুনের ছবিসহ ব্যানার দেখা যায়, যেখানে তাকে বলিউডি সিনেমার নায়কের সঙ্গে তুলনা করে বলা হয় ‘বাংলার সিংহাম’।

এ সপ্তাহের শুরুতে এক ঘটনায় হঠাৎ করেই এসপি হারুনের বদলির আদেশ আসে। নারায়ণগঞ্জ থেকে সরিয়ে তাকে পাঠানো হয় পুলিশ সদর দপ্তরে।

পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার এম এ হাশেমের ছেলে আমবার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজের স্ত্রী ও সন্তানকে গত শুক্রবার ভোররাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আটকের বিষয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন হারুন। তিনি দাবি করেছিলেন, ওই গাড়ি থেকে ইয়াবা, মদ ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ আসে, চাঁদা না পেয়ে শওকত আজিজের স্ত্রী-সন্তানকে ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে ধরে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে গিয়েছিলেন এসপি হারুণ।

ইন্টারনেটে এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে রোববার হারুনের বদলির আদেশ আসে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হবে বলেও ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বদলির আদেশ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন হারুন।

পরে পুলিশ লাইন্সে বিদায় সংবর্ধনায় তিনি বলেন, অপরাধী যখন ফেঁসে যায়, মামলা হয়, গ্রেপ্তার হয়, অথবা তদবির করে ব্যর্থ হয়, তখন তারা একটিই কথা বলে, ‘পুলিশ আমার কাছ থেকে টাকা চেয়েছে।’ সম্ভবত পুলিশের ওপর দোষ চাপানোর এটাই সহজ কাজ।

বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার । তিনি বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। জামায়াত-শিবির আমার চাকরি খেয়ে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবার চাকরিতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। সারা জীবন আমি স্বাধীনতার পক্ষে ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকব।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৪৯ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031