» কমরেড বিমল বিশ্বাস, লাল সালাম

প্রকাশিত: ১১. জুলাই. ২০২০ | শনিবার

কমরেড বিমল বিশ্বাস ৭৫ এ পা রাখছেন। ১৯৪৬ সালের ১২ই জুলাই নড়াইল জেলা সদরের গোবরা গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।গোবরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়ে গোবরা পার্বতী বিদ্যাপীঠে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন।গোবরা পার্বতী বিদ্যাপীঠে থাকাকালীন ১৯৬২ সালে ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন এবং ১৯৬৩সাল থেকে ছাত্র ইউনিয়নের একজন কর্মী হিসেবে সংগঠনের কাজ শুরু করেন। স্থানীয়ভাবে ফুটবল,হকি,ব্যাডমিন্টন,তাস,দাবা ইত্যাদি খেলায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী পাশাপাশি তিনি আবার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। স্কুলজীবনেই অন্তত ৩৫টি নাটকে অভিনয় করেছেন, নাটক-নভেলের বই পড়ার প্রচন্ড আগ্রহ ছিল তাঁর।১৯৬৩সালে এসএসসি পাস করেন এবং নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৬ সালে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্কলারশিপ নিয়ে আইএসসি পাস করেন এবং ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াকালীন সময়ে ১৯৬৬-৬৭ সালে জিএস এবং ১৯৬৭-৬৮ সালে ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৮সালে বিএ পাস করে খুলনা সুন্দরবন ‘ল’ কলেজে আইন শাস্ত্রে ভর্তি হন কিন্তু পাকিস্তান সরকারের মিথ্যা মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। ফলে আইনের সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ছাত্র আন্দোলনের কারণে পাকিস্তান সরকার তাকে ১৯৬২সাল থেকে ১৯৬৮সালের মধ্যে চারবার কারাবন্দি করে। ১৯৬৫ সালে কমরেড বিমল বিশ্বাস তখনকার অবিভক্ত পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৭ সালের কমরেড বিমল বিশ্বাস পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন(মেনন গ্রুপ) বৃহত্তর যশোর জেলার পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।১৯৭০সালে মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে যান এবং একই বছর আগষ্ট মাসে তিনি পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল)-র যশোর জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১সালে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালের মিথ্যা মামলা ১৯৭২সালে জজ কোর্টের রায়ে বেকসুর খালাস হয়, একই বছর কেন্দ্রীয় কমিটির বিকল্প সদস্য নির্বাচিত হন এবং বৃহত্তর যশোর জেলার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪সালের ১৩ই মে তিনি গ্রেপ্তার হন।১৯৭৯সালের ২০নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ে বেকসুরভাবে মুক্তি পান।
জেল থেকে বেরিয়ে বিভক্ত (খন্ড-বিখন্ড)কমিউনিস্টদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৮২সালের ২৪ এপ্রিল বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি এম এল এবং কমিউনিস্ট লীগ ঐক্যবদ্ধ করে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ নামকরনে একটি পার্টি গঠন করেন এবং ১৯৮৩ সালে সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কমরেড হাজী বশির ও কমরেড শাহ আলম মানিকের দল(সাম্যবাদী দলের একটি অংশ) বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সঙ্গে মিলে যায়।১৯৮৬সালের অক্টোবর মাসে ওই সংঘটিত দলটির নাম রাখা হয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লীগ এবং তিনি তখন সর্বসম্মতভাবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে কমরেড অমল সেন ও নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পার্টি এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লীগ মিলে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ গঠিত হয়। ১৯৯০সালে কমরেড বিমল বিশ্বাস ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯২সালে ৪ঠা মে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (রনো-মেনন) এবং সাম্যবাদী দল ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তিনি ওই পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ছিলেন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির দীর্ঘ ১০ বছর সাধারণ সম্পাদক এবং ২০ বছর পলিটব্যুরো সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৮০সালে পাঁচটি কৃষক সংগঠন মিলে যে জাতীয় কৃষক সমিতি গঠিত হয়, দুই বার তার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কমরেড বিমল বিশ্বাস। ১৯৮২ সাল থেকে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে ৭দল গঠনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয় সেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, পরবর্তীতে ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯১৯সালের অক্টোবর পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।২০০০ সাল থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশ শান্তি আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।১৯৯৪সালে বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সাতটি দল মিলে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠন করা হয় এবং সেই ফ্রন্টের সমন্বয়ক হিসেবে তিনি ৭বার দায়িত্ব পালন করেন।১৯৯৮ সালে ১১ দল গঠনের উদ্যোগ নেন সেখানেও তিনি মোট ৯ বার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। ৫দল,৭দল,৮দল, ও ইস্যুভিত্তিক ১৪ দল গঠনে প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বর্তমানে তিনি ১৯৪৮ সাল থেকে কমিউনিস্ট আন্দোলনের তথ্য,তত্ত্ব ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান থেকে বই লেখার কাজে বিশেষ মনোযোগী আছেন।
আজীবন সংগ্রামী মানুষ কমরেড বিমল বিশ্বাসের জন্মদিনে সংগ্রামী শুভেচ্ছা। আমাদের প্রত্যাশা তিনি আরো অনেকদিন বেঁচে থাকবেন এবং অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান দ্বারা আমাদেরকে পরবর্তীতে পথ চলার সাহস জোগাবেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮০ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031