করোনাভাইরাস ঃ চিকিৎসা নিয়ে হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০২০

করোনাভাইরাস ঃ চিকিৎসা নিয়ে হয়রানির শিকার  সাধারণ মানুষ

করোনাভাইরাসের কারণে চিকিৎসা নিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ ।
জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীদের অনেকে চিকিৎসা পাচ্ছেন না । তাদের কভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে বিদেশফেরত ও এ ধরনের কারও সংস্পর্শে না আসায় কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে।

ফেইসবুকে এ ধরনের অভিযোগ ছড়ানোর পর বুধবার আইইডিসিআরে গিয়ে রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল থেকে সেখানে পাঠানো কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

আইইডিসিআরও বলছে, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে এ ধরনের রোগীকে পাঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এখন প্রকাশ্য হয়ে গেছে। সমস্যাটি সমাধানে চেষ্টা করছেন তারা।

গত ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান শহরে প্রথম দেখা দেওয়া নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা বাংলাদেশে শুধু আইইডিসিআর-এ হয়ে থাকে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো স্বজন সম্প্রতি বিদেশ থেকে এসেছেন বা রোগী যদি গত এক মাসের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে এমন দেশ ভ্রমণ করেন তাহলে তারই পরীক্ষা করবেন তারা।

দুপুরে মোহাম্মদপুর থেকে আইইডিসিআরে আসা এক রোগী জানান, মঙ্গলবার ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে নভেল করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে যেতে বলেন। তবে রাত বেশি হওয়ায় কাল আসতে পারেননি।

তিনি বলেন, বুধবার আইইডিসিআরে আসার আগে আবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তখনও তারা একই পরামর্শ দেন।

বনানীর একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী উবায়দুলও আইইডিসিআরে এসেছেন নভেল করোনাভাইরাসের পরীক্ষার জন্য। তিনি জানান, সর্দি-জ্বর থাকায় মঙ্গলবার তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানকার চিকিৎসক তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যেতে বলেন।

সানজিদা চৈতি নামে একজন এক ফেইসবুক পোস্টে দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, গত শনিবার রাতে তার মায়ের পিঠ ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড কাশি ও জ্বর আসে। দুদিন বাসায় রেখে সোমবার রাতে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। সেখান থেকে তার মায়ের নভেল করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে বলা হয়।

হিস্ট্রি শুনে বলল, করোনাভাইরাসের জন্য সরকার নির্ধারিত চারটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে একেবারে সব ইনভেস্টিগেশন করতে। আর তা না হলে উনারা কিছু ব্লাড টেস্ট আর চেস্ট এক্সরে করে দেখেবে তারপর রিপোর্ট নিয়ে বাসায় চলে যেতে হবে।

পরীক্ষাগুলো করার পর স্কয়ারের চিকিৎসক জানান, তার মায়ের নিউমোনিয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।

তারা বলেন, আম্মুকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। আমরা আম্মুকে মেডিসিন দেওয়ার কথা বললাম, কিন্তু ডক্টর বলল যা করার কুর্মিটোলাতে করবে। আগে রোগীর কভিড-১৯ পরীক্ষা করাতে হবে।

এরপরে আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করলে তারা নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষা কোনোটই করেননি বলে জানান সানজিদা চৈতি।

শ্বাসতন্ত্রের রোগ নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর রোগী ফিরিয়ে দেওয়ার তথ্য আইইডিসিআরও পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, “এ ঘটনা অনেক দিন ধরেই হচ্ছিল। চিকিৎসকরা কেন যান না, হয়ত তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি থাকতে পারে যে, আমরা যেহেতু রোগীর সংস্পর্শে যাব তখন কী হবে?

সেক্ষেত্রে চিকিৎসকদের উৎসাহিত করার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। আমাদের পরিচালক (হাসপাতাল) এ বিষয়টি বিশেষভাবে দেখছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2020
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

http://jugapath.com