» করোনাভাইরাস ও আমাদের পর্যটন

প্রকাশিত: ২০. এপ্রিল. ২০২০ | সোমবার

ফয়সল রাজু

সারা পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে ভয়াবহ আতংকের নাম করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯। চীনের উহান থেকে এই ভাইরাসের বিস্তৃতি ।যা বর্তমানে পৃথিবীর ২১০টি দেশের প্রায় বিশ লক্ষ আক্রান্ত এবং এক লক্ষ বত্রিশ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর হয়েছে। এই ভাইরাস কোভিড ১৯ এ বলা চলে সারা বিশ্ব অচল। যার ফলে লকডাউন এবং কর্মহীন হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত ১৫৭২ জনের মতো আক্রান্ত এবং ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সরকার জনগণকে ঘরে থাকার জন্য বার বার অনুরোধ জানিয়েছে এবং এর জন্য অফিস-আদালত শিল্প কলকারখানায় যেমন ছুটি ঘোষণা করেছেন। তেমনি সরকার প্রধান বারবার কৃষি উৎপাদন যেন অব্যাহত থাকে সেই পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন এবং তা যথাযথ তদারকির নির্দেশ দিচ্ছেন। তাতেও মানুষের নিশ্চিত হতে পারছেনা। অনেক নিন্ম আয়ের মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেন এবং মধ্যবিত্তরা উৎকন্ঠার মধ্যে দিন পার করছেন। মানুষজন এক অনিশ্চয়তায় দিকে এগুচ্ছে ।
বাংলাদেশে বিভিন্ন শিল্পের মতো বিকাশমান পর্যটন শিল্পও কোভিড ১৯ প্রভাবে স্হবির ও ক্ষতিগ্রস্ত ।
বাংলাদেশে পর্যটনের ভরা মৌসুমে কোভিড ১৯ বাংলাদেশে সংক্রমিত হয়েছে । ডমেস্টিক ট্যূরিজম তো ক্ষতিগ্রস্ত সাথে ইনবাউন্ডও। আউটবাউন্ড এর কথা সেই একই ।পর্যটন সম্পর্কিত সকল কর্মকাণ্ডই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স এসোশিয়েশন এর সভাপতি বিশিষ্ট ভ্রামানিক আশরাফুজজামন উজ্জ্বল বলেন,বর্তমানে সমগ্র বিশ্বের চিত্রই পরিবর্তন করে দিয়েছে।এযেন শিল্পী রং তুলির আচড় যা কল্পনা করা যায় আসলে বাস্তবতা এরকমই।তাই পরামর্শ দিয়ে বলেন এই পরিস্হিতিতে ধৈর্য্য ধারন,মনোবল যেন অটুট থাকে তার জন্য হাল্কা শারিরীক ব্যায়ম ও বাসার দৈনন্দিন কাজ ছাড়াও পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর,বিনোদনের মাধ্যম হউক তা কবিতা আবৃত্তি বই পড়া নতুবা ভালো ছবি দেখে সময়টা আননদময় করা।


তাছাড়া ও বিশিস্ট পর্যটন ব্যক্তিত্ব,গবেষক জনাব তৌফিক রহমান এর নেতৃত্বে প্যাসেফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন পাটা বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা হুবুহু তুলে ধরা হলো
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প খাত ওয়ারী ফেব্রুয়ারি থেকে জুন , ২০২০ পর্যন্ত পাঁচ মাসে সার্বিক পর্যটন শিল্পে ৯,৭০৫ কোটি টাকার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং প্রায় ৩,০৯,৫০০ জন তাদের চাকুরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। এর মাঝে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বাদে অন্যান্য বেসরকারি এয়ারলাইন্সে ৬০০ কোটি টাকা এবং কর্মহীন প্রায় ২,০০০ জন, হোটেল/রিসোর্ট এবং রেস্তোরায় প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা এবং কর্মহীন প্রায় ২,৫০,০০০ জন, ট্রাভেল এজেন্সিতে ৩,০০০ কোটি টাকা এবং কর্মহীন প্রায় ১৫,০০০ জন, ট্যুর অপারেশনে ৪,০৫০ কোটি টাকা (ইনবাউন্ড, আউটবাউন্ড ও ডমিষ্টিক) এবং কর্মহীন প্রায় ৪১,০০০ জন, পর্যটন পরিবহণ ও পর্যবাহী জাহাজে ৫৫ কোটি টাকা এবং কর্মহীনের সংখ্যা হবে প্রায় ১,
৫০০ জন।ঈদ বোনাস, অফিসের ভাড়া ও ইউটিলিটিস প্রদানই প্রধান খরচ। এসব বিবেচনায় পাটা সরকারের কাছে পরবর্তী তিন বছরের জন্যে ৩,০০০ কোটি টাকার অর্থ যোগানের সহায়তা চেয়েছে। এছাড়াও ২০২০-২০২১ সালের বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ, করোনাভাইরাস পরবর্তী আন্তজার্তিক প্রচার ও পণ্য উন্নয়নের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, পুনরায় কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত ইউটিলিটি বিল মওকুফ এবং সংস্থা ও কর্মচারীদের কমপক্ষে ২ বছরের জন্যে আয়কর হ্রাসের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ পরিসংখ্যান শুধু মাত্র বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট।ভয়াবহ পরিস্থিতি পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মহল মনে করেন সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা ছাড়া এশিলপ ক্ষতিগ্রস্ত হবে পূর্ন মাত্রায়। তাই এখনই সহযোগিতা প্রয়োজন,প্রয়োজন প্রনোদনার,প্রয়োজন দীর্কাঘমেয়াদী সহজ শর্ত ঋন।আমাদের পর্যটন শিলপের সাথে যুক্ত অভিজ্ঞ জনেরা মনে করেন এ শিল্প প্রান পেতে সময় লেগে যাবে ।তার উপর এবার হজ্জের অনুষ্ঠানিক কার্যক্রম একপ্রকার অনিশ্চিত ।অন্যন্য দেশও কোভিড করাল ছোয়ার বাইরে না এবং শেষ কোথায় তাও কেউ জানে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে ইতালী ট্যূর অপারেটরদের সাথে কথা বলেছি,শুনেছি সরকারের সহযোগিতা বিদ্যমান আছে এবং কর্মচারীদের সহজ শর্তে তার ঋন দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ সরকারের আশু সুদৃষ্টিই কেবল পারে পর্যটন শিল্প এবং এর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকলকে আশ্বস্ত করতে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির এই মহাদুর্যোগে বিভিন্ন শিল্পের জন্যে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। আমাদের প্রার্থণা ,আমরাও আবেদন করি এই মহাদূর্যোগে দেশের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্থ শিল্পের মতই পর্যটন শিল্পও সরকারের সুদৃশটিতে বেঁচে থাকবে সরকারের যথাযথ আনুকূল্যে পাবে।

লেখক ঃপর্যটন কর্মী ও কার্যকরী সদস্য ,বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স এসোশিয়েশন ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৮৭ বার

Share Button

Calendar

July 2020
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031