» করোনাভাইরাস, মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই

প্রকাশিত: ২৯. জানুয়ারি. ২০২০ | বুধবার

করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই ।
এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে । চীনের মূল ভূখণ্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ১ দিনেই বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি।

চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার নতুন করে আরও প্রায় দেড় হাজার মানুষের দেহে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

কেবল চীনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে, যা সার্স ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যার চেয়েও বেশি।

আর চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে আরও ১৭ জায়গায় অন্তত ৭০ জনের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৫ জনে।

তবে চীনের বাইরে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো এ ভাইরাসে কারও মৃত্যুর তথ্য এখন পর্যন্ত আসেনি।

নতুন এ করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে চাপ বাড়ছে বেইজিংয়ের ওপর। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার কথাও ভাবতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ভাইরাস ছড়ানোর ভয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বিমান পরিবহন সংস্থা এরইমধ্যে চীনের পথে ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোও তাদের কর্মীদের চীনে যাতায়াতের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

নভেল করোনাভাইরাস বা ২০১৯-এনসিওভি এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে।

২০০২ সালে সার্স এবং ২০১২ সালের মার্সের মতই একই পরিবারের সদস্য এ নভেল করোনাভাইরাস, যারা ছড়াতে পারে মানুষ থেকে মানুষে।

এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে।

তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া, রেসপাইরেটরি ফেইলিউর বা কিডনি বিকল হওয়ার দিকে। পরিণতিতে ঘটতে পারে মৃত্যু।

মানুষের দেহে ভাইরাস সংক্রমণের পর লক্ষণ দেখা দিতে পারে এক থেকে ১৪ দিনের মধ্যে। কিন্তু লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ার আগেই এ ভাইরাস ছড়াতে পারে মানুষ থেকে মানুষে। আর এ কারণেই চীনে এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

চীনের হুবেই প্রদেশের যে শহর থেকে এই ভাইরাস ছড়ানো শুরু হয়েছে, সেই উহান এবং আশপাশের কয়েকটি শহর কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের শহর যেন পরিণত হয়েছে প্রায় ভুতুড়ে শহরে। জরুরি সেবার গাড়ি ছাড়া প্রায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল সেখানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভাইরাস ছড়ানো ঠেকাতে হুবেই প্রদেশের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের বাস চলাচল একপ্রকার বন্ধ করে দিয়েছে চীন সরকার। ফলে প্রায় ৬ কোটি মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। হুবেই থেকে যারা বেইজিং বা সাংহাইতে যাচ্ছেন, তাদের ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

আরও কয়েকটি বড় শহরে পাবলিক বাস, ট্যাক্সি ও রাইড শেয়ারিং সেবা বন্ধ রয়েছে। স্কুল ও দোকানপাটও আপাতত খুলছে না। সাংহাই ও হংকংয়ে ডিজনিল্যান্ডও আপাতত বন্ধ । তিব্বতে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বছরের এমন এক সময়ে চীনে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, যখন চন্দ্রবর্ষের উৎসবে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়ত করে। ফলে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগও বেড়ে গেছে অনেক। নববর্ষের ছুটি দুদিন বাড়িয়ে দিয়ে অনেক সরকারি দপ্তরের কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২২১ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031