» করোনাভাইরাস, সামাজিক দূরত্ব বজায়ের পরামর্শ

প্রকাশিত: ২২. মার্চ. ২০২০ | রবিবার

প্রাণঘাতী নোভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার (সোশাল ডিসটানসিং) জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি বর্ধন জং রানা।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের বাসভবনে বৈঠকের পর একথা বলেন তিনি।

এই ভাইরাস মোকাবেলায় এখন বাংলাদেশের প্রতি তাদের পরামর্শ কী- সাংবাদিকদের সে প্রশ্নের জবাবে বর্ধন জং রানা বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি এরইমধ্যে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার প্রারম্ভিক অবস্থা থেকে এগিয়েছে। এখন আমাদের ২০টি কেস ও দুজনের মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে।

এখন আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলছি।

এক্ষেত্রে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি বলেন, “ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। যেসব দেশ থেকে লোকজন বাংলাদেশে আসছিল তাদের অধিকাংশের আসা বন্ধ করা হয়েছে।

“এখন পরামর্শ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা অর্থাৎ অনেক মানুষের এক জায়গায় হওয়া উচিত হবে না।”

এর জন্য এরইমধ্যে সরকারের অনেক বৈঠক, অনুষ্ঠান বাতিল করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব যাতে বজায় রেখে চলা হয় সেজন্য মনোযোগ দেওয়া ও শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত বলে তারা মনে করছেন।

বাংলাদেশকে ‘লকডাউন’ করার পরামর্শ আছে কি না সে প্রশ্নের জবাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি বলেন, “এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমরা যা বলছি তা হল, ডিসটানসিংয়ের ক্ষেত্রে আপনারা যদি তা করেন তাহলে এটা সংক্রমণকে ধীরগতির করবে।”

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

বাংলাদেশে শনিবার পর্যন্ত নভেল করোনাভাইরাসসৃষ্ট কভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ জনে পৌঁছেছে, আর এই রোগে মারা গেছেন দুইজন।

করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে শনাক্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসেছেন, এমন সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বিদেশ ফেরত সবাইকে হোমে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শনিবার জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ৫০ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন। আর বিদেশফেরতদের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ২৬৪ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে আলোচনায় ডাকার জন্য মেয়র সাঈদ খোকনকে ধন্যবাদ জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি বর্ধন জং রানা। এর আগে গত বছর ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপের সময়ও তাকে ডাকা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

এ সময় মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি আগামী দিনে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। তবে বাংলাদেশের মতো জনবহুল একটা দেশে কমপ্লিট লকডাউন ডিফিকাল্ট একটা বিষয়। তাছাড়া কত সময় পর্যন্ত লকডাউন থাকবে তার একটা বিষয় রয়েছে।

কত সময় পর্যন্ত পারশিয়াল লকডাউন করা যায়, ঢাকা বা অন্য কোথাও বা ইমারজেন্সি লকডাউন করা যায় কি না, তা আজকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে লকডাউন ও জরুরি অবস্থার বিষয়গুলো সামনে আসছে। এটা তো আমরা বললে হবে না। এটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয় রয়েছে। সরকার যদি ভালো মনে করে তাহলে দেশ ও জনগণের স্বার্থে অবশ্যই এটা করতে পারে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫৬ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031