» করোনা ভাইরাসের মোকাবেলায় মিডিয়ার মূল শক্তি এখন অনলাইন

প্রকাশিত: ২৩. মার্চ. ২০২০ | সোমবার

করোনা ভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবেলায় মিডিয়ার মূল শক্তি এখন অনলাইন । এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন (বোমা)র নির্বাহী সভাপতি সৌমিত্র দেব বলেন, সাংবাদিকতা সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ পেশা ।করোনা ভাইরাসের কারণে ঝুঁকিটা আরো বেড়েছে । প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়ার অনেক সীমাবদ্ধতা । সেখানে অনেক লোকবল ও দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটা খবর প্রকাশ অথবা প্রচার করতে হয়। কিন্তু অনলাইনে যে কোন খবর নিমেষের মধ্যে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়া যায় । আর সে কারনে সব মিডিয়াই একটি অনলাইন সংস্করণ রাখে । অনলাইন মিডিয়াই এখন একমাত্র ভরসার জায়গা । এটাই এখন মূলধারা ।
ট্যাবলয়েড দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সম্প্রতি তার সাংবাদিকদের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন। সেখানেও বলেছেন অনলাইনের শক্তির কথা ।তিনি খোলা চিঠিতে লিখেছেন ,

‘সালাম নেবেন। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। সবাই জানেন, আমরা এক মহাদুর্যোগের মধ্যে আছি। জীবনকালে আমরা কেউ এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। তাই চ্যালেঞ্জটা বেশি। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব অনেক। আমরা এই পেশায় যোগদানের মাধ্যমে শপথ নিয়েছিলাম মানুষকে সত্যটা জানাবো। আপনারা এই কাজটিই করবেন। পেশাটা ঝুঁকিপূর্ণ। দুটি উপসাগরীয় যুদ্ধ কাভার করেছি। ভয় আমাকে দমাতে পারেনি। কিন্তু এখন এক অজানা ভাইরাসের ভয়ে দুনিয়া কাঁপছে। আমরা কেউই নিরাপদ নই। এরমধ্যেও আমাদেরকে কাজ করতে হবে। তাই বলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নয়। যেখানে যে অবস্থায় থাকুন অফিসকে জানান। মনে রাখতে হবে, আপনার দেয়া একটা তথ্য অনেকের জীবন বাঁচাতে পারে। আমাদের শক্তি অনলাইন। দ্রুত খবরটা আপনার সহকর্মীর কাছে পৌঁছে দিন। এই মুহূর্তে শৃঙ্খলা মেনে চলাটা জরুরি। আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি। নিরাপদে থাকবেন। অন্যকেও থাকতে বলবেন।’

চ্যালেঞ্জিং পেশা সাংবাদিকতা। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দুর্যোগে মানুষকে পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দিতে বারবার জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন সাংবাদিকরা। তবে এবারের পরিস্থিতি অন্যরকম । সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক নিজেই আক্রান্ত হতে পারেন করোনা ভাইরাসে ।

বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাস দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর মিডিয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্বব কিন্তু এই তথ্য সংগ্রহ করতে কত সাংবাদিক ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে আছেন সে হিসেব কারো কাছে নেই।

এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস পরিস্থিতির প্রতিবেদন করতে গিয়ে ২৯ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চীনের দায়িত্বরত ৭ জন সাংবাদিক রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যু খবর না পেলেও গত ৫ মার্চে আমেরিকায় এনআরসি সম্মেলনে যোগ দেয়া সাংবাদিকদের কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারা সবাই করোনা আউটি-ব্রেকের নিউজ কাভার করে এসেছিলেন।

বাংলাদেশে সাংবাদিকরা এই ভাইরাসে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। উন্নত দেশে সাংবাদিকরা সুরক্ষা পোশাক নিয়ে রিপোর্টিংয়ের কাজ করলেও বাংলাদেশে তা সম্ভব হচ্ছে না। বেশি ঝুঁকিতে আছেন টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকরা।

ইতিমধ্যে অনেক সাংবাদিক করোনাভাইরাসে শঙ্কায় হোম কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৯ বার

Share Button