» করোনা মোকাবিলায় যে সব পদক্ষেপ সরকারের

প্রকাশিত: ০৬. জুলাই. ২০২০ | সোমবার


ফারহান মাসুক জিম

করোনার প্রভাব সারা বিশ্বের সকল হিসাব – নিকাশকে সম্পূর্ণ উলটপালট করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। আমাদের মতো ঘন বসতিপূর্ণ জনবহুল দেশে করোনার বিস্তার ভয়াবহ হবে তা সহজেই অনুমেয়। করোনা আমাদের দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতিতে থমকে দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মোটাদাগে কৃষি, সেবা ও শিল্পখাতে ভাগ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী দেশের অর্থনীতিতে এখন সেবা খাতের অবদান প্রায় ৫০ শতাংশ। এছাড়া শিল্পখাতে ৩৫ শতাংশ এবং কৃষিখাতে ১৪ শতাংশের মতো। ইতিমধ্যে করোনার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিল্প ও সেবা খাত। বাংলাদেশ আশা করেছিল ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৮.২ থেকে ৮.৩ শতাংশের মধ্যে। ফেব্রুয়ারি ২০ পর্যন্ত সে পথে ছিল আমাদের অগ্রসরমান অর্থনীতি। করোনার কারণে পৃথিবীর সব দেশের মতো আমাদেরও শুরু হলো পিছনে চলা। বিশ্বব্যাংক বলছে করোনার কারণে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে ২ থেকে ৩ শতাংশ হতে পারে। যদিও বিশ্বব্যাংক দক্ষিণ এশিয়ায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১.৮-২.৮ শতাংশ হবে মর্মে পূর্বাভাস দিয়েছে।

সম্প্রতি আম্পান ঘূর্ণিঝড় দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করা হয়েছে যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যা ধারণা করা হয়েছিল তার থেকে অনেক কম হয়েছে। কোভিড-১৯ এর প্রাদূর্ভাবের প্রেক্ষিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে আসায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

করোনার মহামারি দেখা দেওয়ার সাথে সাথে কাল বিলম্ব না করে প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় হার না মানা মনোবল নিয়ে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিতে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জীবন ও জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে বলেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন “প্রতিটি জায়গায় মানুষের কষ্টটা দূর করাটাই লক্ষ্য। সেটাই চাই। এত বেশি মানুষ, হয়ত অনেক বেশি দিতে পারব না। কিন্তু কিঞ্চিৎ পরিমাণ দিলেও যেন দিতে পারি, কেউ যেন বঞ্চিত না হয়।” বিশ্বব্যাপি এহেন দূর্যোগের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে বাঁচাতে এবং অর্থনীতিকে সচল রাখতে দ্রুত যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সেগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

অর্থনৈতিক খাতকে পুনরুদ্ধারে সরকার ১ লক্ষ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন যা জিডিপির ৩.৭ শতাংশ। ছিন্নমূল মানুষের জন্য ৮১১ কোটি টাকার বিভিন্ন ভাতা এবং সারাদেশে নির্বাচিত ৫০ লক্ষ উপকারভোগী পরিবারের প্রত্যেককে ২ হাজার ৫ শত টাকা করে বিশেষ অনুদান যা সরাসরি বিশেষ ব্যবস্হায় উপকারভোগীর মোবাইলে প্রেরণ করা হয়েছে। গৃহহীনদের জন্য ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকার বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে।

পূর্বে ১০ টাকা কেজি দরের ৫০ লাখ রেশন কার্ডের সাথে আরও ৫০ লাখ রেশন কার্ড মোট এক কোটি রেশন কার্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রতি কার্ডধারীকে প্রতিমাসে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এ সুবিধার আওতায় এসেছে দেশের পাঁচ কোটি মানুষ।

কর্মহীন অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তার জন্য ৪ লাখ টন চাল এবং ১ লাখ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিজন উপকারভোগী ১০ কেজি করে চাল বিনামূল্যে পাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৪ মেঃ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ১ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার ৯০৪। উপকারভোগী মানুষের সংখ্যা ৭ কোটি ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫ জন। ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪৩ টি মসজিদকে ১২২ কোটি ২ লক্ষ ১৫ হাজার টাকার বিশেষ অনুদান দেয়া হয়েছে। কওমি মাদ্রাসাগুলোকে ১৭ কোটি টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে। ৪ হাজার ৫৬৯ টি ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার ও চৌকিদারদের ৬ কোটি টাকার বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়েছে। নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ৪৬ কোটি টাকার বিশেষ অনুদান প্রদান করা হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকিকরণের জন্য ২ শত কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮৫ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031