শিরোনামঃ-


» কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সারা দেশের স্বাস্থ্য সহকারীরা

প্রকাশিত: ২১. নভেম্বর. ২০২০ | শনিবার

নিয়োগবিধি সংশোধন করে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সারা দেশের স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা। তাদের দাবি পূরণে প্রজ্ঞাপন না হওয়া পযর্ন্ত এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে শুক্রবার (২০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ হেলথ্ এসিসট্যান্ট এসোসিয়েশন ।
স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক স্বাস্থ্য সহকারীদের এই কর্মবিরতির ফলে আগামী ৫ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনসহ দেশের ১ লক্ষ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকবে।
তাদের দাবি হলো, নিয়োগবিধি সংশোধনসহ ক্রমানুসারে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের বেতন গ্রেড ১৬তম থেকে যথাক্রমে ১১,১২ও ১৩তম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহবায়ক শেখ রবিউল আলম খোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিদর্শক সমিতির সভাপতি দিনেশ চন্দ্র মন্ডল, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগিয় মাঠ কর্মচারি এসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান পান্না, বাংলাদেশ হেলথ ইন্সপেক্টর সেক্টরাল এসোসিয়েশনের ক্রিড়া সম্পাদক মির আব্দুল কাদের কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব ওয়াসিউদ্দীন রানা, সংগঠনের সাধারন সম্পাদক জিয়াউল হাসান কাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক নেজাম উদ্দীন, মুখপাত্র জাকির হোসেন জগলুসহ দেশের ৬৪ জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহবায়ক শেখ রবিউল আলম খোকন বলেন, ৭০ দশকে পরীক্ষামূলক ভাবে এ সকল স্বাস্থ্য সহকারীদের শুধু বসন্ত ও ম্যালেরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এককভাবে প্রদান করেন। স্বাস্থ্য সহকারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে দেশ থেকে বসন্ত নির্র্মূল ও ম্যালেরিয়া রোগ নেই। ১৯৭৯ সালে ৭ এপ্রিল চালু করা হয় সম্প্রসারিত টিকাদানর কর্মসূচি (ইপিআই)। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ১ লক্ষ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রের কর্মসূচি একক ভাবে স্বাস্থ্য সহকারীদের উপর ন্যস্ত করা হয়। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য সহকারীগণ বর্তমানে ১০টি মারাত্মক সংক্রামিত রোগের (শিশুদের যক্ষ¥া, পোলিও, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি, ডিপথেরিয়া, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও হামে-রুবেলা) টিকা প্রদান করেন। আমাদের স্বাস্থ্য সহকারীরাই ২০১৩ সালে ২৫ জানুয়ারি ৯ মাস থেকে ১৫ বছর কম বয়সের ৫ কোটি ২০ লাখ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা সফল ভাবে প্রদান করেন।
তিনি আরোও বলেন, প্রজাতন্ত্রের পদোন্নতি বিধি অনুযায়ী একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৩ থেকে ৭ বছর পরপর পদোন্নতি পান। কিন্ত একজন স্বাস্থ্য সহকারী ২০ থেকে ২৫ বছরে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে পারে না। যদিও পদোন্নতি পান তাহলে স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে এমন সময় পদোন্নতি পান,যখন চাকুরির বয়স বাকি থাকে মাত্র ৫ থেকে ৬ মাস। তবে পদোন্নতি হলেও বেতন বাড়ে না এক পয়সাও। উপরন্তু বদলি করা হয় অন্য জেলা বা উপজেলায়।
শেখ রবিউল আলম খোকন বলেন, তৃণমূল এ স্বাস্থ্য সহকারীদের কাজের অর্জনেই বাংলাদেশ আজ টিকাদানে বিশে^ রোল মডেলে পরিনত হয়েছে এবং সরকার প্রধান পেয়েছে ৭টি পুরষ্কার। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনেশন এন্ড ইমুনাইজেশন মাননীয় প্রধানমস্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভ্যাকসিন হিরো উপাধিতে ভূষিত করেন। এ সম্মাননা গুলো অর্জনে একমাত্র কারিগর স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীগন।
তাছাড়া এ মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশে যেখানে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে সরকার নিদের্শনা দিয়েছিলেন এবং ঘোষণা করেছিলেন সাধারন ছুটি। আর সে অবস্থায় করোনা ভাইরাসের ঝুকি নিয়ে মাঠে থেকে জনগনকে স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ স্বাস্থ্য সহকারীরা টিকাদান করেন এবং করোনার প্রথম দিকে স্বাস্থ্য সহকারীরা বিদেশ ফেরতদের তথ্য সংগ্রহ করে স্ব স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করতে হয়েছে।
এছাড়াও বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার জন্য অনুরোধ ও পরামর্শ দিয়েছেন। তারা হোম কোয়ারান্টাইন অবস্থায় আছে কিনা তার ফলোআপও করেছেন এ স্বাস্থ্য সহকারীরাই। এছাড়া জ¦র,সর্দি,কাশি,শ^াসকষ্টজনিত রোগী সনাক্ত করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেছেন এবং সন্দেহজনক করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহে সহযোগীতা করেছেন। কিন্তু তাদের একটি মাক্স ছাড়া(নিজের অর্থায়নে ক্রয় করা) আর কিছুই ছিল না। ঝুকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমাদের ৮শতাধিক স্বাস্থ্য সহকারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে কয়েকজনের।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের এক মহাসমাবেশে আমাদের বেতন বৈষম্য নিরসনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০১৮ সালে ২ জানুয়ারি ততকালিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন।
এছাড়া চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আমরা হাম-রুবেলা ক্যাম্পইন বর্জন করলে স্বাস্থ্য মন্ত্রী,সচিব ও মহাপরিচালক মহোদয় আমাদের দাবি সমূহ মেনে নিয়ে লিখিত সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করেন। আমরা এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই। তাই আমাদের নিয়োগবিধি সংশোধন করে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে ইপিআই কার্যক্রম ও আসন্ন আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনসহ দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রের টিকাদান কার্যক্রম থেকে কর্মবিরতি পালন করবো।

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৯ বার

Share Button