» কাজী আরেফ এর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশ জাসদ

প্রকাশিত: ১৬. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | রবিবার

জাতীয় নেতা কাজী আরেফ আহমেদ এর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল – বাংলাদেশ জাসদের উদ্যোগে শনিবার বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল – বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি জনাব শরীফ নুরুল আম্বিয়া।
বাংলাদেশ জাসদের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আহমেদ তফছিরের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করেন ঐক্যন্যাপ সভাপতি জনাব পঙ্কজ ভট্রাচার্জ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন সভাপতি জনাব জিয়াউদ্দিন তারেক আলী, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক জনাব নাজমুল হক প্রধান, গণফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক সাংসদ মফিজুল ইসলাম খান কামাল, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমীক জোট সভাপতি আবদুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সর্বজনাব করিম সিকদার, মনজুর আহমেদ মনজু, জাতীয় কৃষক জোট সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বাংলাদেশ জাসদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলার সভাপতি আবদুস সালাম খোকন, বাংলাদেশ জাসদ ঢাকা মহানগর পূর্ব জেলার সভাপতি আসাদুজ্জামান জাকির, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গৌতম শীল সহ বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি জনাব শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, “কাজী আরেফ ছিলেন স্বাধীনতার রূপকারদের একজন। সিরাজুল আলম খান ও আব্দুর রাজ্জাক এর সঙ্গে মিলে নিউক্লিয়াস গঠন করেছিলেন স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুজ্জীবনের রাজনীতিতে তার ভূমিকা অম্লান হয়ে থাকবে।
এখন ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় থাকার স্বার্থে হেফাজত ও অন্যান্য মৌলবাদীদের সংগে যে পর্যায়ের আপোষ করেছেন, তাতে অর্জিত বিজয় বিপন্ন হতে চলেছে। সরকারের আদর্শিক দুর্বলতা অগ্রহণযোগ্য বিএনপি-জামাত অক্ষশক্তিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। দেশ এখন অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং গণতন্ত্রের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি, লুন্ঠন, সম্পদ পাচার এই সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়ে প্রশংসনীয় উন্নয়নকে চাপা দিতে চলেছে। নির্বাচনে শতকরা পঁচিশ ভাগের বেশী মানুষ অংশগ্রহণ করছে না। শাসনব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক ভিত্তি অতি নিম্মপর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে। গণতন্ত্রের সংকট থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে হবে। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে তা সংকটকে ঘনীভূত করবে মাত্র।
কাজী আরেফ খারাপ সময়েও হতাশ হতেন না। পথ খুঁজে নিতেন। গঁৎবাধা রাজনীতি ও বিত্ত বৈভব অর্জনের দালালীর রাজনীতির পথ বিশ^াস করতেন না। কাজী আরেফের প্রেরণা নিয়ে বাংলাদেশ জাসদ জাতি ও জনগণের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করবে।”
বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক জনাব নাজমুল হক প্রধান এমপি বলেন, “কাজী আরেফ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মধ্যেই আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। কাজী আরেফ হত্যা ষড়যন্ত্রের নেপথ্য নায়ক চিহ্নিত করতে আমরা এই হত্যাকান্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছি।”
উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ তথা নিউক্লিয়াসের অন্যতম সদস্য, বিএলএফ বা মুজিব বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ও ছাত্রলীগের সমন্বয়ক, মুক্তিযুদ্ধের নির্ভীক সংগঠক ও জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় পুর্নজাগরণ ও গণআদালতের অন্যতম উদ্যোক্তা, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাতীয় বীর কাজী আরেফ আহমেদ এবং কুষ্টিয়া জাসদ সাবেক সভাপতি লোকমান হোসেন, দৌলতপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এড্যা. ইয়কুব আলী, দলের সদস্য ইসরাইল হোসেন ও শমসের মন্ডল সহ পাচঁজনকে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুরের কালিদাসপুরে সন্ত্রাসবিরোধী এক জনসভায় ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এক দল সশস্ত্র দূর্বৃত্ত গুলি করে হত্যা করে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৬ বার

Share Button