» কামাল লোহানীর মৃত্যতে এলএএইচপি’ চেয়ারম্যান -এর শোক

প্রকাশিত: ২২. জুন. ২০২০ | সোমবার

রেডটাইমস ডেস্কঃ করোনায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার (২০ জুন) সকালে মারা গেছেন বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল লোহানী (৮৬)। মেধা ও মননে সমৃদ্ধ এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী, আইন সহায়তা প্রদানকারী বেসরকারী মানবাধিকার সংস্থা এলএইচপি’র চেয়ারম্যান ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্মানিত সদস্য তৌফিকা করিম,এডভোকেট।

জুন, ২১ (রবিবার) এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য ভাষাসৈনিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী কেবল একজন ব্যাক্তিই ছিলেন না; তিনি ছিলেন প্রগতিশীল চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মানে সোচ্চার এক জলন্ত ইতিহাস। স্বদেশ ও স্বদেশের মানুষের প্রতি গভীর দায়বোধ এবং প্রিয় ভাষার প্রতি অপার মমত্ববোধ থেকে তিনি নিজেকে যুক্ত করেছিলেন বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনে। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়- একজন সাংস্কৃতিক যোদ্ধা হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে রেখেছেন অসামান্য অবদান। স্বাধীনতার পূর্বে এবং পরবর্তীতে অন্যায়- অবিচার, সাম্রাজ্যবাদ কিংবা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন সবসময়। তার চিন্তা-চেতনায় সদা বিরাজমান ছিলো- দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গলের কথা। পেশাগত জীবনে একজন সাংবাদিক হিসেবে তিনি যেমন ছিলেন নির্ভীক তেমনি সাংস্কৃতিক সংঘটক হিসেবেও তিনি রেখে গেছেন সাবলীলতার সাক্ষর। শুদ্ধ সংস্কৃতির ক্রমবিকাশের মাধ্যমে তিনি সমাজ পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন- সেই দেখানো স্বপ্নের পথ ধরেই হয়তো আগামী প্রজন্ম ছিনিয়ে আনবে সাবলীল ও সমৃদ্ধ সমাজব্যবস্থা। ভাষা আন্দোনল থেকে মুক্তিযুদ্ধ, শুদ্ধ সংস্কৃতি কিংবা অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং প্রগতিশীল সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে মানুষের এতো অবদান; তিনি আজ ওপারে। আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। তার মৃত্যুতে দেশ একজন রত্ন হারালো।

এলএএইচপি’র চেয়ারম্যান, তৌফিকা করিম,এডভোকেট মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য যে, কামাল লোহানী দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ও কিডনির জটিলতা ছাড়াও হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের সমস্যাতেও ভুগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৭ জুন সকালে তাকে হেলথ এ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তার কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর তাকে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারী হাসপাতাল থেকে শুক্রবার বিকেলে তাকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার সিভিয়ার নিউমোনিয়া ছিল। পাশাপাশি উচ্চ ডায়াবেটিকস, কিডনি ও হার্টেও সমস্যা ছিল। মূলত তার মাল্টি অর্গান ফেইলর ছিল। ২০ জুন ২০২০, শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর মহাখালীতে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩০২ বার

Share Button