» কারাবন্দিদের আইনী সহায়তায় হবিগঞ্জে এলএএইচপি’র কার্যক্রম

প্রকাশিত: ২২. জানুয়ারি. ২০২০ | বুধবার

অসহায় কারাবন্দিদের আইনী সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে হবিগঞ্জে কার্যক্রম শুরু করলো মানবাধিকার সংস্থা লিগ্যাল এসিসটেন্স টু হেল্পলেস প্রিজনার্স এন্ড পার্সনস (এলএএইচপি)। অসহায় কারাবন্দিদের মামলা বিনামূল্যে পরিচালনার জন্য হবিগঞ্জে ৫ সদস্যের প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। হবিগঞ্জ জজ কোর্ট, সেমিনার কক্ষে গত ১৩ জানুয়ারী ২০২০, বিকেল ৪ ঘটিকায় আয়োজিত “অসহায় কারাবন্দিদের আইনী সহায়তা ও দুঃস্থ নাগরিকের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব” শীর্ষক সেমিনারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হবিগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, আমজাদ হোসেন এলএএইচপি’র কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো নিবন্ধিত অসহায় কারাবন্দিদের আইন সহায়তা প্রদানকারী বেসরকারী সংস্থা এলএএইচপি হবিগঞ্জ জেলাতে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। এলএএইচপি অসহায় কারাবন্দিদের বিনামূল্যে আইনী সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে মানব কল্যাণে ভূমিকা রাখছে। সংস্থাটি জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা বোর্ড কর্তৃক, মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের লিগ্যাল এইড কমিটিতে বেসরকারী সংস্থার সদস্য হিসেবেও মনোনয়ন পেয়েছে। আবার সরকারের পাশাপাশি বিনামূল্যে আইনী সেবাকে দেশব্যাপী বিস্তৃত করার স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা দেশীয় বেসরকারী সংস্থা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে। আমি মনে করি, এলএএইচপি’র আইন সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলার অসহায় কারাবন্দি এবং নাগরিকগণ বিনামূল্যে আইন সহায়তা গ্রহণের মাধ্যমে উপকৃত হবেন। সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় আমরা তা করব। এএলএএইচপি’র কার্যক্রমকে সার্বিকভাবে সহায়তা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

এলএএইচপি’র প্রধান সমন্বয়ক অঞ্জন করের সঞ্চালনা ও পরিচালনায় উক্ত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মর্জিনা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জনাব এস. এম.ফজলুল হক , হবিগঞ্জ জেলা এডভোকেট সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোঃ বদরু মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রুহুল হাসান শরীফ। প্রত্যেকেই তাদের বক্তৃতায় এএলএএইচপি’র কার্যক্রমকে সার্বিকভাবে সহায়তার আশ্বাস দেন। এলএএইচপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার এনামুল কবির ইমনের সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এলএএইচপি’র নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া। প্রধান আলোচক হিসেবে এলএএইচপি’র নির্বাহী পরিচালক জনাব রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া বলেন, এলএএইচপি এনজিও বিষয়ক ব্যুরো নিবন্ধিত একটি মানব কল্যাণ ও সেবামূলক সংস্থা, যার নিবন্ধন নং-২৫৪৪। বিগত ১০.১২.২০১৫ ইং তারিখে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার স্মারক নং- জাঃআঃসঃপ্রঃসঃ ০১/২০১৫-২২৬৬ যুক্তপত্রের মাধ্যমে এলএএইচপি অবগত হয়েছে যে, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা বোর্ড কর্তৃক, মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের লিগ্যাল এইড কমিটিতে বেসরকারী সংস্থার সদস্য মনোনয়ন পেয়েছে। এই সংস্থার আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে বিগত ১১.০৫.২০১৬ ইং তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সাক্ষরিত হয়েছে। সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমান অবদি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বিনামূল্যে আইনী সেবাকে দেশব্যাপী বিস্তৃত করার লক্ষ্যে উৎসাহ প্রণোদনা হিসেবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা এলএএইচপি’কে ‘সেরা দেশীয় বেসরকারী সংস্থা-২০১৯’ মনোনয়ন প্রদান করে। ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান দিবস, ২০১৯ইং উপলক্ষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ‘সেরা দেশীয় বেসরকারী সংস্থা’র পুরষ্কার গ্রহণ করেন এলএএইচপি’র চেয়ারম্যান এডভোকেট তৌফিকা করিম। বর্তমানে এলএএইচপি ঢাকাসহ মোট ২২ (বাইশ) টি জেলায় নিয়োজিত মানবাধিকার কর্মী তথা বিজ্ঞ প্যানেল আইনজীবীগণের মাধ্যমে গরীব, দুঃস্থ ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের আইনগত সহায়তা প্রদান করছে।
সভাপতির বক্তব্যে এলএএইচপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব ব্যারিষ্টার এনামুল কবির ইমন বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা অসহায় মানুষের সেবা করতে চাই। ডিসেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত ৫৯৭ জন অসহায় কারাবন্দিকে বিনামূল্যে কারামুক্ত করার মাধ্যমে এলএএইচপি দেশব্যাপী বিনামূল্যে আইন সহয়তা প্রদানকারী বেসরকারি সংস্থা হিসেবে অধিক সমাদৃত হয়েছে। বর্তমানে ২২ টি জেলায় কাজ করলেও আমরা অচিরেই দেশের সব কটি জেলায় আমাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেবার ক্ষেত্রে আঙ্গীকারবব্ধ। আমরা চাই অন্যান্য জেলার মতো, হবিগঞ্জ জেলার সকল সুবিধাবঞ্ছিত ও অসহায় কারাবন্দিরা যেন এলএএইচপি’র হাত ধরে কারামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবন লাভ করে। সেই লক্ষেই হবিগঞ্জ জেলাতে এলএএইচপি যাত্রা শুরু করেছে।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জনাব এস এম নাসিম রেজা, যুগ্ন জেলা জজ জনাব কাজী মিজানুর রহমান ও জনাব মোহাম্মদ শহীদুল আমিন, সিনিয়র সহকারী জজ, হবিগঞ্জ সদরের জনাব মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর জেলা জজ জনাব জিয়া উদ্দিন মাহমুদ ও জনাব মোহাম্মদ হালিম উল্লাহ চৌধুরী, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম তানিয়া কামাল, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোছাঃ শাহিনুর আক্তার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-০১ জনাব মোহাম্মদ সুলতান উদ্দিন প্রধান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-০২ জনাব তৌহিদুল ইসলাম, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-০৩ জনাব রাজিব আহমেদ তালুকদার সহ হবিগঞ্জ জেলা এডভোকেট সমিতির কার্যকরী সদস্যবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, লিগ্যাল এসিসটেন্স টু হেল্পলেস প্রিজনার্স এন্ড পার্সনস (এলএএইচপি) এনজিও বিষয়ক ব্যুরো নিবন্ধিত একটি মানব কল্যাণ ও সেবামূলক সংস্থা, যার নিবন্ধন নং-২৫৪৪। সরকারের পাশাপাশি বিনামূল্যে আইনী সেবাকে দেশব্যাপী বিস্তৃত করার স্বীকৃতিস্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এলএএইচপি’কে ‘সেরা দেশীয় বেসরকারী সংস্থা-২০১৯’ মনোনয়ন প্রদান করে। ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান দিবস, ২০১৯ইং উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ‘সেরা দেশীয় বেসরকারী সংস্থা’র পুরষ্কার গ্রহণ করেন এলএএইচপির চেয়ারম্যান এডভোকেট তৌফিকা করিম, যিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অন্যতম কার্যকরী সদস্য। এলএএইচপির চেয়ারম্যান এডভোকেট তৌফিকা করিমের তুখোড় নেতৃত্বে এলএএইচপি ডিসেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত ৫৯৭ জন বিনা বিচারে আটক অসহায় কারাবন্দিকে কারামুক্ত করেছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৩১ বার

Share Button