» কুলাউড়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগমনের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন

প্রকাশিত: ০৫. নভেম্বর. ২০১৯ | মঙ্গলবার

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগমনের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান হয়েছে । সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত । তিনি বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ একজন বিশ্ব পরিব্রাজক । সাহিত্যের সব এলাকায় ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। এ ছাড়াও চিত্রশিল্প ও সংগীতবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই যুগে ভ্রমণের তেমন সুযোগ সুবিধা ছিলো না। তবু তিনি ৫টি মহাদেশ ভ্রমণ করেছেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, এশিয়ার যে কয়জন ব্যক্তিত্ব নোবেল পেয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ সবার সেরা। এজন্য তাঁর সৃষ্টিকর্মের বিশালত্ব উপলব্ধি করা উচিত। শেষ বয়সে লেখা ঐকতান কবিতায় রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, অনেক কিছু করার তিনি চেষ্টা করেছেন। সব সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন বাকিটা পূরণ করতে পারবে। এ প্রত্যাশার কথা রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতায় উল্লেখ করে গেছেন।

রবীন্দ্রনাথকে নতুনভাবে জানা যায়, চেনা যায় উল্লেখ করে তিনি সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথের বিশাল প্রতিভা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে চর্চা করলে বিশ্ব জ্ঞানভাণ্ডার উন্মুক্ত হবে নতুন প্রজন্মের কাছে এবং পড়াশুনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ বাড়বে।

এ দিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কুলাউড়া রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে ‘স্মারকস্তম্ভের’ ফলক উন্মোচন করা হয়। বেলা ১০টার দিকে জাতীয় ও উৎসব পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। দুপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন, রবীন্দ্র সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

শতবর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রুপা চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নেছার আহমদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনীতিবিদ আজিজুর রহমান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরীন, জেলা পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমদ। উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব মো. আব্দুল হান্নান।
জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরীন বলেন, ১০০ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ মৌলভীবাজার জেলায় এসেছিলেন,সেটা আমাদের জন্য এক গৌরবের ইতিহাস ।

সভার শুরুতে ‘রবীন্দ্রসাহিত্যে সিলেটের ব্যক্তি অস্মিতার প্রভাব’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্র লাল দাশ। এর ওপর আলোচনায় অংশ নেন সিলেটের মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সিলেটের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক প্রণব কান্তি দেব ও উদীচীর সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি এনায়েত হাসান মানিক।

অনুষ্ঠান শেষে রবীন্দ্রনাথের ওপর একটি স্মারক গ্রন্থেরও মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আতাউর রহমান, নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

রাত সাতটার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে দেশের বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

১০০ বছর আগে আজকের এই দিনে কুলাউড়া রেল জংশনে রবীন্দ্রনাথ রাত্রি যাপন করেছিলেন। সেখান থেকে সূচনা করা যায় শতাব্দী বিস্তৃত রবীন্দ্র স্মরণ। সেই সময় সিলেট থেকে অনেক রবীন্দ্রপ্রেমী কুলাউড়া গিয়েছিলেন রবীন্দ্রসান্নিধ্যে রাত যাপনের জন্যে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮৩ বার

Share Button

Calendar

November 2019
S M T W T F S
« Oct    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930