» কৃষকের অ্যাপ

প্রকাশিত: ২৯. জুন. ২০২০ | সোমবার


সুমন মেহেদী

কৃষকের জন্য সুসংবাদ বৈকি। ন্যায্য পাওনা থেকে কৃষকের বঞ্চিত হওয়ার দিন ফুরিয়ে আসছে। আর ভোগান্তির মাশুল গুনতে গুনতে জীবন পার করে দিতে হবে না। প্রযুক্তির কল্যাণ এখন কৃষকের কল্যাণে যুক্ত হয়ে কৃষিজীবী মানুষের জীবনে নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাতে যাচ্ছে। মামননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নের্তৃত্বাধীন কৃষি ও কৃষকবান্ধব সরকার এই দুরবস্থা লাঘবে দীর্ঘদিন ধরে সচেষ্ট। তারই অংশ হিসেবে বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী জনাব সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঠিক দিক নির্দেশনায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্য অধিদপ্তর মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য ঠেকাতে আমন- ২০১৯ মৌসুম থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

কৃষকের অ্যাপটি মূলত স্মার্টফোনে ব্যবহারোপযোগী একটি অ্যাপ্লিকেশন/ সফটওয়্যার। এটি ডিজিটাল ধান/ খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যেটি শুধু মাত্র কৃষকরা ব্যবহার করবে। কৃষক যেন আঙ্গুলের ছোঁয়ায় সরকারি সেবা পেতে পারে, সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই অ্যাপ্লিকেশন/ সফটওয়্যারটি তৈরি করা হয়েছে। এটি গুগল প্লেস্টোর থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়। ইতোমধ্যে পাইলটিং এর অর্ন্তভুক্ত ১৬টি উপজেলার ১ লক্ষ ৫৮ হাজার এর বেশি কৃষক এ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন আবেদন করেছে। কৃষক নিবন্ধনের শেষ তারিখ ছিল ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ এবং ধান বিক্রয়ের আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯। এরপর ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কম্পিউটার ভিত্তিক লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের কারিগরি সহযোগিতায় অ্যাপটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

কৃষক তার মুঠোফোনে ইন্টারনেট চালু করে তিনটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবেন। অ্যাপগুলো হলো, কৃষকের জানালা, “কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা ও বালাইনাশক নির্দেশিকা তিনটি অ্যাপের মাধ্যমে কৃষককে তার প্রয়োজনীয় তথ্য ও সমস্যার সমাধান দিবে। এই অ্যাপগুলো কৃষককে তার ফসলের সমস্যা বুঝাতে ও সমাধান দিতে কাজ করবে। এছাড়াও আমরা যারা বাড়ি ঘরের ছাদে বাগান করে থাকি তাদের জন্যও অ্যাপগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তারমধ্যে একটি অ্যাপ হলো ‘কৃষকের জানালা’ অ্যাপটিতে সবজি-ফলমূলসহ সকল কৃষিজ কাজের সকল সমস্যার সমাধান আছে। অ্যাপটিতে রোগের ছবি দেওয়া আছে যাতে যেকেউ সহজেই ফসলের রোগ ধরতে পারে এবং যথাযথ সমাধান করতে পারে।

কৃষক ঘরে বসেই এই অ্যাপের মাধ্যমে সরকারের কাছে ধান বিক্রয়ের আবেদন করতে পারবেন। কৃষক আবেদন করার পর আবেদনটি কি অবস্থায় আছে তিনি তা এই অ্যাপের মাধ্যমে জানতে পারবেন। কৃষক যদি কৃষক নির্বাচনি লটারিতে বিজয়ী হন এবং বরাদ্দাদেশ পান সেটিও তিনি ঘরে বসেই জানতে পারবেন। কৃষক যখন ধান সরবরাহ করবেন তখন তিনি অ্যাপের মাধ্যমে জানতে পারবেন তার WQSC এর অবস্থা কি? এছাড়াও তিনি মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে তার আবেদনের অবস্থা জানতে পারবেন। এটির নিবন্ধন প্রক্রিয়া খুবই সহজ। নিবন্ধন শুধু মাত্র একবারই করতে হবে। নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট কৃষকের জাতীয় পরিচয় পত্রটি নির্বাচন কমিশন থেকে যাচাই (অনলাইনে) করা হয়ে থাকে।

ধান/ খাদ্য শস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের সাথে (কৃষকের অংশ) নিবিড়ভাবে কাজ করে। প্রথমে কৃষক নিবন্ধন আবেদন করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিবন্ধন আবেদনটি যাচাই বাছাই করে অনুমোদন করলে সংশ্লিষ্ট কৃষক ধান বিক্রয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার পর কৃষক নির্বাচনি লটারি অনুষ্ঠিত হয়। সেই লটারিতে কৃষক নির্বাচিত হলে তিনি ধান জমা দেওয়ার জন্য বরাদ্দাদেশ পাবেন। বরাদ্দাদেশে উল্লেখ থাকে কি পরিমাণ ধান কোন এলএসডিতে সরবরাহ করতে হবে। ধান সরবরাহ করা হলে সংশ্লিষ্ট কৃষকের WQSC এর প্রক্রিয়া শুরু হয়। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক WQSC মঞ্জুর করলে কৃষক ব্যাংক থেকে তার প্রাপ্যতা/ টাকা বুঝে নিবেন।

এটি ব্যবহারের ফলে সরকারি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে TCV (Time-Cost-Visit) সূচক বৃদ্ধি পাবে। পূর্বে যেমন কৃষককে ধান বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্যের জন্য উপজেলা অফিসে যেতে হতো। বর্তমানে কৃষক ঘরেব সেই সে সকল তথ্য পেয়ে যাবেন। ধান বিক্রয়ের জন্য পূর্বে কৃষকদের অনেক হয়রানি করা হত। যেহেতু কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে কৃষক সকল তথ্য জানতে পারছে, সেহেতু হয়রানি অনেকাংশে কমে যাবে। কৃষকের বরাদ্দাদেশ জারি হলে তা ঘরে বসেই দেখা যাবে, এটার জন্য উপজেলা খাদ্য অফিসে গিয়ে খোঁজ নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এছাড়াও এটি ব্যবহার করে কৃষক তার মতামত বা অভিযোগ করতে পারবেন। যেহেতু জাতীয় পরিচয়পত্র নির্বাচন কমিশন থেকে যাচাই করা হয়ে থাকে তাই ভূয়া জাতীয় পরিচয়পত্রধারী কেউ নিবন্ধিত হতে পারবে না।

বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্নের বাস্তবায়নে এটি এক বিরাট পদক্ষেপ। এই ডিজিটাল খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম এবং কৃষকের অ্যাপ, যা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ও তত্বাবধানে প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে অ্যাপটি শুধু মাত্র এন্ড্রয়েড স্মার্ট মোবাইলে ব্যবহার করা যাই। ভবিষ্যতে ফিচার ফোনের (সাধারণ মানের) জন্য তৈরি করার পরিকল্পনা আছে। এছাড়া কৃষককে প্রাপ্যতা বুঝে নেয়ার জন্য ব্যাংকে যেতে হয়। এক্ষেত্রে কৃষকের প্রাপ্যতা তার মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে সরাসরি চলে যাবে। ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে সফল হলে এই অ্যাপটি দিয়ে গম বা অন্যান্য ফসলও ক্রয় করা যাবে। এছাড়া কৃষকের ডেটাবেইস তৈরি হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো কৃষকও যাচাই (অনলাইন) করা সম্ভব হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৯৯ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031