» কোন রুচির পরিচয়ে বিজয়ের মাসেই মানচিত্র বিকৃত করে?

প্রকাশিত: ২৭. ডিসেম্বর. ২০১৭ | বুধবার

ডিসেম্বর বাংলাদেশের ‘বিজয়ের মাস’। ১৯৭১ সালের এই মাসেরই ১৬ তারিখে পাকিস্তানের দখল থেকে মুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছিল স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলন সার্থক করতে এবং বাঙালিদের জন্য পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পিছনে ‘মুক্তিযুদ্ধে’ ভারতের অবদানের বিষয়ে সকলেই অবগত। এই ইতিহাস বাংলাদেশ সরকার স্বীকার করে নেয়৷

কিন্তু, সেই দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্রের ফেসবুক পেজে ভারতের বিকৃত মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে৷ সংবাদপত্রটি এতটাই জনপ্রিয় ও গঠনশীল যে তাদের মতো সংবাদ প্রতিষ্ঠানের কাছে এই ধরণের কাজ অনভিপ্রেত৷

ভারতের বিকৃত মানচিত্র প্রকাশ করেছে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ওই পত্রিকার পক্ষ থেকে প্রকাশিত মানচিত্রে জম্মু-কাশ্মীরের অনেকটা অংশ বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব দিকের কিছুটা অংশ এবং উত্তর-পশ্চিমের একটা বড় অংশ দেখানো হয়েছে পাকিস্তানের অঙ্গ হিসেবে। এই অঞ্চলটি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর হিসেবে পরিচিত৷ এবং অঞ্চলটিকে ভারত নিজেদের অংশ বলেই মনে করে৷ কী করে প্রথম আলো এমন কাজটি করল তা বোধগম্য হচ্ছেনা অনেক পাঠকের৷

চলতি মাসের ২৫ তারিখে অর্থাৎ বড়দিনের দিন একটি সংবাদ প্রকাশ করে ওই সংবাদপত্র। ফেসবুকে প্রকাশিত ওই সংবাদে লেখা হয়েছিল ‘ভারতে পর্যটক ভিসায় চিকিৎসা বিভ্রাট’ এরপর একটি প্রতিবেদন ও তার সঙ্গে প্রকাশ করা হয় ভারতের বিকৃত মানচিত্র৷

প্রতিবেদনে লেখা হয় ‘কলকাতা বা চেন্নাইয়ের হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীরা পর্যটক হলে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। পুরনো রোগীদের ক্ষেত্রেই বেশি করে প্রযোজ্য হচ্ছে এই নিয়ম। এ প্রসঙ্গে কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট অনুপ ভক্তকে মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘ঘটনা সত্যি। পর্যটক ভিসা নিয়েও যদি কেউ এখানে এসে অসুস্থ হয়, তবু আমাদের ভর্তির ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশ সে রকমই।’ তবে পর্যটকেরা অসুস্থ হলে তাঁদের জন্য চিকিৎসার সুযোগ থাকছে বলে তিনি জানান’।

অন্য কোনও দেশের রোগীদের ভারতে চিকিৎসার জন্য ভরতি সংক্রান্ত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনীতিক বোঝাপড়ার অঙ্গ। সেক্ষেত্রে রোগী ভরতি নিয়ে অভিযোগ মীমাংসার সমাধান কূটনৈতিক পর্যায়ে হতে পারে। দুই দেশের কূটনৈতিক কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ভুক্তভোগীদের দেশের শীর্ষ স্থানীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদন প্রকাশ করার অধিকারও রয়েছে। কিন্তু, সেই সংবাদপত্র কেন পড়শি রাষ্ট্রের মানচিত্র বিকৃত করল, এই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

সীমান্ত নিয়ে এখন সমস্যা বিশেষ না থাকলেও তিস্তা সহ একাধিক নদীর জলবন্টন নিয়ে সমস্যা রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের৷ কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার চালিয়ে উভয়পক্ষই বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করে চলেছে। তাই বলে মানচিত্রের বিকৃতি! তাও আবার কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অঙ্গ হিসেবে দেখিয়ে। এর পিছনে কী অন্য কোনও ইঙ্গিত রয়েছে? প্রথম আলোর মতো পত্রিকার এমন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই৷

সৌজন্যে: কলকাতা 24×7

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৭১৪ বার

Share Button