শিরোনামঃ-


» খালেদার কারাবাসের দুই বছর: নেতাদের দায়ী করেছেন তৃণমুল

প্রকাশিত: ১২. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | বুধবার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার: দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে গত শনিবার।

প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে দেশের প্রধান দুই দলের একটির নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দেশেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন দশককাল, সেই নেত্রীর শেষ বয়সে দীর্ঘদিনের কারাবাস মেনে নিতে পারছেন না কর্মীরা। দুর্নীতির সাজায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের দুই বছর পূর্তিতে দ্রুত তার মুক্তি চাওয়ার সঙ্গে এতদিনে তাকে ‘বের করতে না পারার জন্য’ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়ী করেছেন তৃণমুল নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ ।

সরকারের সঙ্গে ‘যে কোনোভাবে বোঝাপড়ার’ মাধ্যমে নেত্রীকে কারাগার থেকে মুক্ত করার কথা বলেছেন তাদের কেউ কেউ। আর দলটির শীর্ষ নেতাদের কথায় স্পষ্ট, তারা এখনও এ বিষয়ে কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছেন না।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। প্রথম ১৩ মাস ছিলেন পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে। সেখানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত বছরের ১ এপ্রিল চিকিসার জন্য খালেদাকে নিয়ে আসা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। গৃহকর্মী ফাতেমাকে নিয়ে এখনও ওই হাসপাতালের কেবিন ব্লকে আছেন তিনি। আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত খালেদা জিয়া ‘গুরুতর অসুস্থ’ এবং এখন তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটা-চলা, এমনকি খেতেও পারেন না বলে স্বজনদের ভাষ্য। এভাবে চলতে থাকলে খালেদার জীবনশঙ্কা তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা। ওই হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সুষ্ঠু চিকিৎসা হচ্ছে না অভিযোগ করে তাকে বিশেষায়িত কোনো বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার দাবি করে আসছেন বিএনপি নেতারা।

তবে তাদের দাবি নাকচ করে সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, দেশের সেরা হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে খালেদার, রাজনৈতিক কারণে তার অসুস্থতা নিয়ে বাড়িয়ে বলছেন দলের নেতারা। খালেদা জিয়াকে নিয়ে দলটির নেতাদের উদ্বেগ নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হাসপাতালে ‘রাজার হালেই’ আছেন বিএনপি নেত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে যা-ই বলা হোক না কেন, তাতে ভরসা পাচ্ছেন না বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা। অবিলম্বে নেত্রীর মুক্তির ব্যবস্থা করতে দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পুরান ঢাকার পান দোকানি বিএনপিকর্মী আলী আক্কাস এই প্রতিবেদককে বলেন, “৩৭ বছর ধরে আমি বিএনপির রাজনীতি করি, কখনও নেতা হইনি। আমি মনে করি, ম্যাডাম বিএনপির জীবনীশক্তি, কর্মী-সমর্থকদের মনের শক্তি। তাকে নেতারা দুই বছরেও কেন মুক্ত করতে পারলেন না, কেন সেই বিষয়টি বারবার আমার মাথায় ঘুরপার করছে । আক্কাস আরও বলেন- “আমি নেতাদের কাছে একটাই আবদার করতে চাই, যেভাবেই হোক সরকারের সাথে একটা লাইন করে ম্যাডামকে বের করে আনুন, তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

অপরদিকে খালেদার বিষয়ে নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গুলিস্তান হকার্স মার্কেটের ফুটপাতের শার্ট বিক্রেতা বিএনপির এক তৃনমূল পর্যায়ের কর্মী মো. হাফিজ বলেন, “যারা নেতা তাদের কাজটা কী? কেন সরকারের সাথে তারা ম্যাডামের মুক্তির ব্যাপারে একটা কিছু করতে পারলেন না?, ” জানি, এই সরকারের দয়া-মায়া বলে কিছু নাই। তারা কোর্ট-কাচারিকে বন্দি করে রেখেছে। কিন্তু এ রকম পরিস্থিতিতে কীভাবে একটা রাস্তা পাওয়া যাবে, তা তো নেতাদেরই ঠিক করতে হবে।” রাজধানী শান্তিনগরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী কুলসুম বেগম বলেন, “দেশনেত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়া বিএনপির বাতিঘর। যেভাবেই হোক তার মুক্তির পথ জলদি বের করতে হবে। দুই বছর গেছে, কত মাস গেছে, দিন গেছে, রাত গেছে, আর কত অপেক্ষায় থাকব আমার নেত্রীর জন্য?” খুবই কষ্ট হচ্ছে আমার ” মা ” প্রিয় নেত্রীর জন্য ” একথা বলার সাথে সাথে কুলসুম চোখের পানি ঝরঝর করে ফেলতে থাকেন । খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনা করে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল করে বিএনপি। পল্টন জামে মসজিদে দোয়া শেষে বেরিয়ে বিএনপির কর্মী আমজাদ হোসেন বলেন, “জানি না, ম্যাডাম কেমন আছেন? আজ মনে প্রাণে চোখের পানি ফেলে দোয়া করেছি উনি যেন সুস্থ থাকেন” আর অতিসম্প্রতি তিনি যেন আমাদের সকলের নিকট মুক্তি লাভ করে ফিরে আসেন। চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবিতে গত রবিবার ও সোমবার সকালে ঢাকার শাহবাগ, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

এদিকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বেআইনিভাবে বিচার ব্যবস্থাকে করায়ত্ত্ব করে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়েছে এবং এখন তাকে তার সাংবিধানিক যে প্রাপ্য জামিন পাওয়া সেটাও দিচ্ছে না। আমরা বার বার আদালতে গিয়েছি কিন্তু সেটা কী হয়েছে আপনারা সবই জানেন, দেখছেন। “আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের মধ্যে আছি, আমরা আন্দোলন করছি। দেশনেত্রীর ওপর যে নির্যাতন চলছে তার দুই বছরপূর্তি গত শনিবার ৮ ফেব্রুয়ারি আমরা নয়া পল্টনে সমাবেশ করেছি ।

” ‘গুঞ্জন’ – আর গুঞ্জন:_ খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সর্বশেষ জামিন আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ খারিজ করে দেওয়ার পর আপাতত আইনি পথে তার মুক্তির সুযোগ নেই।

কিন্তু গত ২৪ জানুয়ারি হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে এসে তার বোন সেলিমা ইসলাম এ বিষয়ে সরকারের কাছে ‘বিশেষ আবেদন’ করার ইঙ্গিত দেন।

তিনি বলেছিলেন, “আমরা এখনও আবেদন করিনি। আমরা ভাবছি আবেদন করব। তবে এখনও ঠিক করিনি এটা। কারণ তার যে শরীরের অবস্থা। এভাবে চলতে গেলে বেশি দিন উনাকে জীবিত অবস্থায় আমরা বাসায় নিয়ে যেতে পারব না। যে কোনো সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।” এরপর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, আবেদন করলে ‘প্যারোলে মুক্তি’ পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন খালেদা জিয়া।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯২ বার

Share Button

Calendar

February 2020
S M T W T F S
« Jan    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829