» গণমাধ্যমের অবস্থা করুণ থেকে করুণতর হচ্ছে: মান্না

প্রকাশিত: ২০. মে. ২০১৯ | সোমবার


মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দীকী তালুকদার:

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন,এই সরকারের অধীনে গণমাধ্যম চরম অস্থির সময় পার করছে।যত দিন যাচ্ছে, গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যম কর্মীদের অবস্থা আরো শোচনীয় হচ্ছে। সরকার গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরেছে।এই সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে,স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের অবস্থা আরো করুণ থেকে করুণতর হবে।
মাহমুদুর রহমান মান্না সোমবার (২০মে) বিকালের

দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ হলে অনুষ্ঠিত ”গণমাধ্যমে চলমান অস্থিরতা নিরসনে করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে কথাগুলো বলেন। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফাউন্ডেশন-বিআরজেএফ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ডিইউজে সদস্যও বিএফইউজের কাউন্সিলর মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদারের পরিচালনায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। প্রকৌশলী আ,হ,ম মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিক এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ডিইউজে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান,ডিআরইউ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোরসালীন নোমানীও শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন, দোয়াও মোনাজাত করেন মাওলানা ইব্রাহিম খলিল।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণে একমাত্র চাটুকার গণমাধ্যমগুলো টিকে আছে। অনেকে টিকে থাকতে সরকারের চাটুকারিতার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ফলে মানুষ গণমাধ্যম থেকে বস্তনিষ্ঠ সংবাদ থেকে বঞ্চিত।এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না।
বেআইনিভাবে সংবাদকর্মীদের ছাটাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক গণমাধ্যম থেকে হঠাৎ করে অনেকের চাকুরী চলে যাচ্ছে।এতে বহু সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী মানবেতর জীবন-যাপন করছে।চাটুকার অনেক গণমাধ্যম সরকারের কাছ থেকে সকল ধরণের সুযোগ-সুবিদা নিলেও সাংবাদিকও কর্মীদের বেতন-ভাতা ঠিকমতো দিচ্ছে না। ওয়েজ-বোর্ড অনু্স্মরণ করছে না। এটা খুবই অনাকাঙ্খিত।

সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে সদ্য প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর কথা তুলে ধরে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন,মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি দেশও জাতি অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাষী ছিলেন, অন্যায়ের কাছে কখনো তিনি মাথা নত করেননি।জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাহফুজ উল্লাহ যে অবদান রেখেছেন,তা সত্যিই অতুলণীয়।তাঁর মতো সাংবাদিকের প্রয়োজন ছিল চলমান এই অস্থির সময়ে।

সাগর-রুনির প্রসঙ্গ টেনে নাগরিক ঐক্যের এই নেতা বলেন,সাগর-রুনির নির্মম হত্যাকান্ড এবং বিচার না হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়,এই সরকারের অধীনে মুক্তও বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতা কোনভাবেই চর্চা করা সম্ভব।সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মান্না আরও বলেন- মানুষ প্রত্যাশা করে সরকারি বেসরকারি,বহুজাতিক বা ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যাদের কাজের সঙ্গে জনগণের স্বার্থ জড়িত গণমাধ্যম তাদের কাজের ওপর নজরদারি রাখবে। বাংলাদেশে গেল দুই দশকে গণমাধ্যমের মালিকানার ধরন কিন্তুু পুরোপুরি পাল্টে গেছে। একদিকে মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীনতা মত প্রকাশের অন্তরায়। বর্তমানে চলছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে। বর্তমানে চলছে সংবাদপত্রের অন্ধকার সময়।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন,শুধু গণমাধ্যম নয়;সকল সেক্টরেই আজ চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ চরম কষ্টে আছে। দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিসহ নানা কারণে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই সরকার দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থ বলেন তিনি উল্লেখ করেন।

বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ বলেন- আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামও নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পেছেন যে আকাঙ্খাগুলো প্রেরণা ও নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে তার অন্যতম ছিল গণতন্ত্র ও বাকব্যত্তির স্বাধীনতা মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা তথা মুক্ত গণমাধ্যম,অর্থনৈতিক মুক্তি সুশাসন প্রতিষ্ঠা,শোষণ বঞ্চনা থেকে পরিত্রাণ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য।সভ্য সমাজে গণতন্ত্রও গণমাধ্যম হাত ধরাধরি করে চলে একটি অপরটির পরিপুরক।
ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন- সাংবাদিকদের অধিকার আদায় বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা পেশার মর্যাদার সম্মুন্নত রাখা সংবাদকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি সর্বোপরি দেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ভিত্তি রচনায় মহান লক্ষ্য সামনে নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফাউন্ডেশন তার অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করে তুলবে। তারিসাথে সাংবাদিকদের অধিকার আদায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পাশাপাশি দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠাও স্বৈরাচার পতনে সর্বপরি ভূমিকা পালন করবে এই মফস্বল সাংবাদিক ফাউন্ডেশন।
ডিইউজে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর প্রধান বলেন গণতন্ত্রও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বর্তমানে কোন অবস্থায় রয়েছে, তা সচেতন মানু্ষ মাত্রই সেটা কমবেশি জানেন।সুষ্ঠু নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পথে অন্তরায় অনেক।প্রতিকুলতার পাথর ঠেলে উজান স্রোতের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে মিডিয়ার কর্মীরা।প্রকৃত প্রস্তাবে রাজনীতিই সব কিছুর মুল,নিয়ন্তাও নিয়ামক।সেই রাজনীতিই যখন রুগণ ও দূর্দশাকবলিত হয়ে পড়ে তখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ঈপ্সিত বিকাশ অবধারিত ভাবেই বাধাগ্রস্ত হয় তবে কখনই চিরস্থায়ী হয় না।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী আ,হ,ম মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিক বলেন,এই সরকারের অধীনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনভাবেই আশা করা যায়না। খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই নেত্রীকে কারাগারে বন্দি রেখে তারা শুধু ক্ষান্ত হয়নি;সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সাথে নির্মম আচরণ করা হচ্ছে কারাগারে।তাঁকে কেরানীগঞ্জের বিশেষ আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা সরকারের আরেক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি বলেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৯ বার

Share Button

Calendar

June 2019
S M T W T F S
« May    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30