» মৌলভীবাজারে এবার গাছের গুড়িও তুলে নিলেন অধ্যক্ষ!

প্রকাশিত: ১৯. জুন. ২০২০ | শুক্রবার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
নিয়মবহির্ভূত ভাবে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে কলেজের অভ্যান্তরে বনবিভাগের অনুমতি না নিয়ে গাছ কাটার অভিযোগ উঠায় তা সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এ নিয়ে রীতিমত তোলপাড় সৃষ্টি হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন অধ্যক্ষ।

এবার বেআইনী উপায়ে গাছ কাটার বিষয়টি শেষ হতে না হতেই সেই গাছের গুড়িও তুলে নিলেন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল আলী।

জানা যায়,শুক্রবার (১৯জুন) ভোরের দিকে গাছের গুড়ি তার নির্দেশে তুলে নেয়া হয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাছের গুড়ি তুলে নেয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। কলেজের সাবেক শিক্ষক, জেলার সচেতন মহল, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাবেক শিক্ষার্থীরা নানা সমালোচনা করছেন। অধ্যক্ষের এমন কর্মকান্ডে তারা হতবাক। ইতিমধ্যে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

সরেজমিন শুক্রবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, গার্ড মুক্তার আলী ও মাষ্টার রোল শ্রমিক শফিকের তত্বাবধানে বিজ্ঞান ও স্কাউট ভবনের পূর্ব পাশ থেকে ১৮/২০ জন শ্রমিক তড়িঘরি করে গাছের মোড়া তোলে গাড়ি দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এগুলো কার নির্দেশে তোলা হচ্ছে জানতে চাইলে তারা বলেন, “প্রিন্সিপাল স্যারা এগুলো তোলার জন্য বলেছেন”। এসময় দেখা যায় অধ্যক্ষ্যের বাস ভবনের মেইন ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে অধ্যক্ষ্যের স্ত্রী কর্মচারী মুক্তার ও শফিককে ফোনে নানা নির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর শ্রমিকরা অনেকটা তড়িঘরি করে কয়েকটা গুড়ি ফেলে চলে যায়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) জাতীয় পরিষদের সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়কারী নাট্যজন আ.স ম সালেহ সুহেল বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কখনো গাছ কাটা অনুমোদন করেনা সুতরাং আমরা বিষয়টি নিয়ে সুষ্টু তদন্ত দাবী করছি,কারন তদন্ত হলেই পুরো বিষয়টি বেড়িয়ে আসবে। তিনি বলেন, একটি গাছ কাটলে যেখানে ১০টি গাছ লাগাতে হয় সেখানে কোন আইনের তোয়াক্কা না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ কাটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল আলী’র ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৭০ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031