» গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল বকেয়া রাখার সুযোগ শেষ ঃবিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০. জুন. ২০২০ | বুধবার

রাষ্ট্রীয় সেবা গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল বকেয়া রাখার সুযোগ আর থাকছে না। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এই সুযোগ দিয়েছিল সরকার ।

চলতি জুন মাসের মধ্যেই বকেয়াসহ সব বিল পরিশোধ না করলে গ্রাহককে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

বুধবার সচিবালয় থেকে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিল বকেয়া রাখার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়বে না। কারণ ইতোমধ্যেই কোম্পানিগুলোর প্রচুর বকেয়া পড়ে গেছে। গত তিন মাসে গড়ে ১০ শতাংশ বিলও আসেনি।

জুনের পর বিল বাকি থাকলে মহামারীর এই সময়ে সংযোগ কেটে যাবে কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে যে নিয়ম আছে সেই নিয়ম অনুযায়ী হবে।

তিন মাসের বিল একসঙ্গে দেওয়াটা চাপ হয়ে যাবে- এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই বার্ডেন হবে। এজন্য আমরা আগেই বলেছিলাম প্রস্তুত থাকতে। গ্রাহকদের প্রতি মাসের বিল দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা বলেছিলাম পরের মাসে বিল দিলেও সারচার্জ লাগবে না। কিন্তু আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বিলগুলো পরিশোধ করতে হবে। এরপর একদিন পার হলেই সারচার্জ দেওয়া লাগবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত মার্চের শেষ দিকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানায়। প্রায় দুই মাসের ওই লকডাউন পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে ব্যাংক চালু থাকলেও বিল পরিশোধের জন্য সেখানে গিয়ে ভিড় করা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।

তখন সব শ্রেণির মানুষকে অভয় দিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের বিদ্যুৎ বিল বিলম্ব ফি ছাড়াই পরে জমা দেওয়া যাবে।

আর গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকরা কোনো ধরনের বিলম্ব ফি ছাড়াই ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের বিল জুন মাসের সুবিধাজনক সময়ে পরিশোধ করতে পারবেন বলে বলা হয়েছিল।

এদিকে এই তিন মাসে গ্রাহকদের কাছে যে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয়েছে তা খরচের চেয়ে ‘আস্বাভাবিক বেশি’ বলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিযোগ আসছে।
এই বিষয়ে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অনুমাননির্ভর এসব বিল দেখে বিচলিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ সশরীরে গিয়ে মিটার না দেখে অনুমান করে কিংবা এক বছর আগের বিলের সঙ্গে মিল রেখে এই বিলটি করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে সমন্বয় করে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগে প্রায় তিন কোটি ৮০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। অনেকের এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলেও পরে সেটা সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। কারও বেশি সমস্যা হলে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এর প্রতিকার চাইতে পারেন। তাতেও কাজ না হলে আমার মেইলে অভিযোগ জানাতে পারেন।

অস্বাভাবিক বিলের বিষয়ে ইতোমধ্যেই ১০ থেকে ১২টি মেইল পাওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১৬ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031