» গ্যাস সরবরাহের সব পুরনো লাইন তুলে দেয়ার পরিকল্পনা

প্রকাশিত: ০৯. জুন. ২০১৯ | রবিবার

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন- বিইআরসির কাছে দেওয়া হয়েছে । পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহের সব পুরনো লাইন তুলে নতুন লাইন বসানো এবং সব মিটার প্রি-পেইড করার পরিকল্পনাও রয়েছে ।

রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে সচিবালয়ের এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেন, বাসাবাড়ি ও আবাসিক ক্ষেত্রে গ্যাস ব্যবহার আমরা নিরূৎসাহিত করছি। আমরা একটা বড় প্রকল্প নিচ্ছি ঢাকা শহরসহ সকল জায়গায় পুরনো গ্যাস লাইন উঠিয়ে নতুন লাইন করব, সেখানে প্রি-পেইড মিটার বসাব।

দুই লাখ গ্যাসের মিটার সংযোগ গেছে। আমরা আবেদন করেছি জাইকাকে সহযোগিতা করার জন্য, প্রি-পেইড গ্যাস মিটার বাসাবাড়িতে ব্যাপকভাবে একশ পারসেন্ট দেওয়া যায় কিনা, সেটার ব্যবস্থা আমরা নিতে যাচ্ছি।

এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী গ্যাসের সব মিটার দ্রুতই প্রি-পেইড করার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে গত বছর তোড়জোড় শুরু করেও ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্যাসের দাম বাড়ানার পথ থেকে সরেছিল সরকার। তবে ভোটের পর বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসি গণশুনানি করে, যার সবগুলোতেই দাম বাড়ানোর বিরোধিতা আসে। বিষয়টি আদালতেও গড়ায়।

গ্যাসের দাম সমন্বয়ের পক্ষে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, গ্যাসের দামটা সমন্বয় করা দরকার, আমি বারবার বলে আসছি। বার্ককে (বিইআরসি) আমরা গ্যাসের দামের বিষয়টি সাবমিট করেছি। এখন সম্পূর্ণ বার্কের ওপর নির্ভর করছে তারা গ্যাসের দাম সমন্বয় করবে কিনা? প্রাইস সমন্বয়ের জন্য আমরা গত বছর থেকে অপেক্ষায় আছি।”

শিল্প ও গৃহস্থলী উভয় ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয় দিয়েছে জানিয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব জায়গায় কিছুটা সমন্বয়ের জন্য বলেছি।

আমরা গত বছরের অগাস্ট মাস থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করেছি। ১০০ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট), ২০০ এমএমসিএফ, ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করেছি। এই গ্যাসের মূল্য আমাদের নিজস্ব গ্যাসের চেয়ে অনেক বেশি। সরকার নিজস্ব গ্যাসের ওপর প্রচুর পরিমাণ সাবসিডি (ভর্তুকি) দেয়। গ্যাসে বছরে ছয় হাজার কোটি টাকার মত সাবসিডি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, গ্যাসে আমরা ১৪ হাজার কোটি টাকার মত ব্যয় করে ফেলেছি। এখন সামনে আরও ১৪ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এই টাকাটা আসবে কোথা থেকে? গ্রাহকের কাছ থেকে তো আগের দামে সেই টাকা আসছে না। সুতরাং যদি সমন্বয় না করা হয়, সেক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেবে।

বার্ক সরকারের চাহিদামত দাম সমন্বয় করলেও ভর্তুকি দিতে হবে জানিয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমন্বয় না করলে সরকারকে চলতি অর্থবছরে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা টার্গেট অনুযায়ী এগোচ্ছি । টার্গেট থেকে আমরা অতিরিক্তই থাকব এবারও বিদ্যুতে। আমাদের টার্গেট হল ২১ সাল ধরে তারপর ৩০ সাল। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ২০৪১ সালের প্ল্যানটা আমরা করে ফেলেছি।

ভবিষ্যতের জন্য মাতারবাড়িতে ল্যান্ড বেইজ টার্মিনাল এবং ল্যান্ড বেইজ এলপিজি টার্মিনাল- দুটি পোর্ট হলে গ্যাসের ক্ষেত্রে দাম অনেক সাশ্রয়ী হবে। এলপিজিও সাশ্রয়ী মূল্যে আমরা বাজারে দিতে পারব। এটা করতে সময় লাগবে। ৪/৫ বছর সময় লাগবে এই ধরনের ডিপ সি টার্মিনাল করতে।”

কোল টার্মিনাল করতে বেসরকারিভাবে জাপানের কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে জানিয়ে বিপু বলেন, আমরা মাতারবাড়িতে একটি কোল টার্মিনাল করতে চাই। কয়লা এনে ওখানে রাখা হবে, ওখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় যাবে। এটা নির্মাণের ফিজিবিলিস্টি স্টাডি হয়েছে।

মাতারবাড়িতে এক্সটেনশন প্রজেক্ট করার জন্য জাপান আরও দুই বিলিয়ন ডলার দেবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৫ বার

Share Button

Calendar

August 2019
S M T W T F S
« Jul    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031