» গ্রন্থটি কবিতার ইতিহাসে অনন্য স্বাক্ষর হয়ে থাকবে

প্রকাশিত: ১৭. ফেব্রুয়ারি. ২০১৯ | রবিবার

কবি আনিস মুহম্মদ এর অনুবাদে এবং অধ্যাপক আহমেদ রেজা সম্পাদিত গৌরব প্রকাশন থেকে প্রকাশিত পিস এণ্ড হারমনি গ্রন্থে ৭১ জন বিশিষ্ট কবির ৭১ টি অনুপম কবিতা সন্নিবেশিত করে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন উৎযাপনের পর এক অনুষ্ঠান গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দৃষ্টিপ্রতিবন্দ্বী মানুষদের সাথে ব্লাইন্ড এ্যাডুকেশন এন্ড রিহেবিলিট্যাশন ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (বার্ডো) এর সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী বলেন, বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশকে বিশ্বের মাঝে আত্মমর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করছেন। ’৭৫ এর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে অজস্র মৃত্যুবাণ উপেক্ষা করে তিনি অবিচলভাবে মাতৃভূমির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ৭১ বাঙালির জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ একটি সংখ্যা। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বছর এই ৭১ জন বিশিষ্ট কবির ৭১ টি অনুপম কবিতা সন্নিবেশিত করে কোন দেশের রাষ্ট্রনায়কের ৭১তম জন্মদিন উৎযাপন নিসন্দেহে বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। মানবতার জননী শেখ হাসিনার জীবনের জীবন ও কর্মের এমন কোন দিক নেই যা কবিতাসমূহে উঠে আসেনি। দ্বিভাষিক এ গ্রন্থটি কবিতার ইতিহাসে অনন্য স্বাক্ষর হয়ে থাকবে। বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার যে মহাকর্মযজ্ঞে ধরিত্রী কন্যা শেখ হাসিনা নিয়োজিত রয়েছেন, জনগণের চিরকালীন প্রতিনিধি হিসেবে কবিদের হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা নিশ্চয় তাঁকে নিরন্তর অনুপ্রেরণা জুগাবে মর্মে আমি বিশ্বাস করি। এ অসামান্য গ্রন্থটির পরিকল্পনা, সংকলন ও অনুবাদের জন্য আনিস মুহম্মদ এবং ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনার জন্য আহমেদ রেজাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন ও ভালোবাসা জানাই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম বলেন, পিস এন্ড হারমনি গ্রন্থে ৭১টি অনুপম কবিতা সন্নিবেশের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ৭১ তম জন্মদিনে তাঁকে ৭১টি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর যে প্রয়াস তা সত্যিই অভিনব ও অভূতপূর্ব। সবাইকে নিয়ে কবিতা হয়না; কবিতা হয়ে উঠার বিষয়। কবিতার বিষয় হওয়া মানে মানুষের মণিকোঠায় অমর হয়ে থাকবেন। শেখ হাসিনা আমার ছাত্রী হলেও তিনি যে কবিতার বিষয় হয়ে উঠেছেন এ জন্য আমি শিক্ষক হিসেবে গর্বিত। শেখ হাসিনাকে উপলক্ষ করে হলেও কবিতাসমূহে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, বাংলার প্রকৃতি, নদী, ফুল, পাখি ইত্যাদি নৈসর্গিক দৃশ্যাবলী অনিবার্যভাবেই উঠে এসেছে। কারণ বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, আর গ্রাম-বাংলার মানুষ, প্রকৃতি এবং দেশকে উন্নয়নের মহাসোপানে উন্নীত করার মহাকারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি দুর্লভ একটি গ্রন্থ।
গ্রীন বাংলা কোয়ালিশন এর কনভেনর শামসুল মোমেন পলাশ বলেন, গ্রন্থে সন্নিবেশিত ৭১ টি অনুপম কবিতার ইংরেজি অনুবাদের মাধ্যমে শেখ হাসিনার শান্তি ও মানবতার দর্শন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়। তিনি যে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও প্রগতির অগ্রনায়ক এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানের মহান কারিগর তাও কবিতাসমূহে প্রতিভাত হয়েছে। ইংরেজিতে এ গ্রন্থের প্রাঞ্জল অনুবাদ শুধু শেখ হাসিনার নয়, সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করছে, যার বৈষয়িক মূল্যও কম নয়।
বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব তানভীর হোসেন প্রবাল বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ। শেখ হাসিনা মানেই শান্তি, সম্প্রীতি, মানবপ্রেম ও প্রগতির উৎসব।
নারী উদ্যোক্তা ফারহানা হাকিম বলেন, এ গ্রন্থের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক মূল্যবোধ, শান্তি, প্রগতি ও উন্নয়নের কর্মযজ্ঞসহ তাঁর চরিত্রের নানা আলো ও বিভার বিচ্ছুরণ কাব্যপ্রেমিক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এতে জননী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বলতর হচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই।
নারীনেত্রী আকলিমা জাহান বলেন, ড. স্যামুয়েল জনসন ‘প্রিফেস টু শেক্সপীয়ার’ প্রবন্ধে লিখেছেন, শেক্সপীয়ার এমন এক বিরল প্রতিভা যিনি তাঁর অনন্য প্রতিভার অসামান্য প্রস্ফুটনে তাঁর দুঃখ-দারিদ্র-কষ্ট-যন্ত্রনা-বিচ্ছেদ-বিরহ এমনভাবে দূর করেছেন যেমন করে ভোরের বেলায় সারারাতের শিশির এক ঝাঁটকায় ঝরে পড়ে তেজস্বী সিংহের কেশর থেকে। ঠিক তেমনিভাবে অসীম ধৈর্য্য সাহস ও দুরদৃষ্টির সাথে মানবতার আলোকবর্তিকা হাতে সকল দুঃখ-কষ্ট-আঘাত-ষড়যন্ত্র- শোক কাটিয়ে উঠে ফিনিক্স পাখির মতো জ¦লে পুড়ে বারবার জেগে উঠে তিনি বিশ্বশান্তির অগ্রদূত হিসেবে নিজেকে প্রতিভাত করেছেন।
কবি আসলাম সানী বলেন, অন্যদিকে, মায়ানমারের সামরিক জান্তা ও সরকারের চরম নিষ্ঠুরতার শিকার বাকরুদ্ধ রোহিঙ্গা মানুষের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ভাষা পেয়েছে কবিদের অনুপম কবিতায়। মানবতার জননী শেখ হাসিনা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজ মাতৃভূমি থেকে নির্বাসিত নিপীড়িত-নির্যাতিত ১০ লক্ষেরও অধিক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে মানবতার যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসের বিরল। এ গ্রন্থে সন্নিবেশিত ৭১টি কবিতায় কবিদের কলমের কালিতে মূর্তমান হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনার চারিত্রিক মাধুর্য্য, মানবতাবোধ ও শান্তির দর্শনের অভূতপূর্ব বিভা।
ইয়াল এসোসিয়েটস এর পরিচালক নুসরাত জাকিয়া বলেন, ‘কষ্টকে বুকে চেপে কীভাবে তুমি/বাংলার কবিতা হয়ে যাও’ – পান্না কায়সার। ‘কী চমৎকার রমণী মা কিংবা প্রেয়সী/একটি কবিতাও এ নামে হতে পারে/কিংবা একটি কবিতারই এ নাম।’ – রবীন্দ্র গোপ ।কবিদের ভাষা ও ভাবনা কী অসাধারণ! আর সে প্রকাশ যদি হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে, তবে বুঝতে হবে দেশের মানুষ চিরস্থায়ীভাবে শেখ হাসিনাকে তাদের হৃদয়বেদীতে অধিষ্ঠিত করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহেদা বেগম বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা সমকালীন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক। মানবতার জননী, চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ, শান্তির অগ্রদূত ইত্যাদি নানা অভিধায় তিনি আজ অভিষিক্ত। কবিতাসমূহের নিপুণ ইংরেজি অনুবাদে তাঁর জীবন ও কর্মের যে কাব্যিক বয়ান উঠে এসেছে তা দেশ ও বিদেশের কাব্যপ্রেমিক মানুষের কাছে তাঁকে অমর করে রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।
বঙ্গনিউজ লাইভ টিভির চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান জয় বলেন, গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মানবতার জননী শেখ হাসিনাকে নিবেদিত একাত্তরটি কবিতা। তাঁর একাত্তরতম জন্মদিনে একাত্তরটি কবিতা নিবেদন যেন তাঁকে একাত্তরটি ফুলের তোড়া উপহার প্রদান। তা সত্যিই অভিনব। কোন সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানকে নিয়ে এ ধরণের উদ্যোগ আধুনিক ইতিহাসে এর আগে দেখা যায়নি। ইংরেজিতে অসাধারণ অনুবাদে এই একাত্তরটি কবিতার মাধ্যমে বিশ্বসভায় শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি উত্তোরত্তর উজ্জ্বল হবে মর্মে আমি আশা করি।
মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যন ড. আবুল আজাদ বলেন, পিতৃ-মাতৃ-ভ্রাতৃ ও ভ্রাতৃবধূসহ স্বজন হারানোর ব্যথা তো তাঁর জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে আছেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাত্রে পিতা-মাতা-ভাই-ভাবীসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয় সবাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় পৃথিবীর কোন অর্থ-বিত্ত-বৈভব কি শেখ হাসিনার স্বজনহারানোর শোক প্রশমিত করতে পারে? পারে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে নিবেদন এ গ্রন্থে সন্নিবেশিত ৭১টি কবিতায় দেশের বরেণ্য ৭১ জন কবি হৃদয়ের অর্ঘ্য দিয়ে সে শোক কিছুক্ষণের জন্যও ঢেকে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে এ মহতী উদ্যোগকে আমি অভিনন্দন জানাই। এবং এ অসামান্য গ্রন্থটির পরিকল্পনা, সংকলন ও অনুবাদের জন্য আনিস মুহম্মদ এবং ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনার জন্য আহমেদ রেজাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন ও ভালোবাসা জানাই।
গ্রন্থটির উদ্যোক্তা, সংকলক, অনুবাদক ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আনিস মুহম্মদ বলেন, জোসেফ কনরার্ড কঙ্গো দেখেছেন আকাশ হতে বিমানে চড়ে। তাই তার উপন্যাস ‘হার্ট অব ডার্কনেস’ এ নদী তার কাছে সাপের মতো, বক্রাকার, পেঁচানো, গা ছমছম করা, রহস্যময়। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ^বিখ্যাত লেখক নবগুয়ে থিয়োঙ্গো নদীর পাড়ে বসে নদীকে অবলোকন করেছেন, নদীতে ভেসে সাঁতরিয়ে কাদামাটি গায়ে মেখে নদীর পলিমাটি বিধৌত জমিতে ফসল ফলিয়ে, সেই ফসলের রস আস্বাদন করে বড় হয়েছেন। নদী তাই তাঁর কাছে স্তন্যদায়ী মায়ের মতো। কবিমনের সর্বোচ্চ ভাবাবেগের স্বতঃস্ফুর্ত বহিপ্রকাশ কবিতা। কবিতায় সবসময় সত্যকথন প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশ কবির দেশ, কবিতার দেশ। বাংলাদেশ পাখির দেশ, নদীর দেশ। আমাদের কবিতায় আর গানে আমাদের ভালোবাসা আর প্রতিবাদ, শ্রদ্ধা আর দ্রোহ, শংকা আর সাহস প্রকাশ করি অসংকোচে, নান্দনিক সৌকর্যে। এদেশের বিশিষ্ট প্রায় সব কবি কবিতা লিখেছেন আমাদের পরম প্রিয় নেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনাকে নিয়ে। কবিদের ভাবনা, আকাঙ্খা, স্মৃতি, স্বপ্ন, কল্পনা ও পরিকল্পনা আমাদের প্রিয় কান্ডারী শেখ হাসিনাকে ঘিরে। শেখ হাসিনার চরিত্রের নানান আলো আর বিভা, শোক ও দু:খ, আনন্দ আর অগ্রযাত্রা মূর্ত হয়েছে চঊঅঈঊ অঘউ ঐঅজগঙঘণ (ঝবাবহঃু-ড়হব ংবষবপঃবফ ঢ়ড়বসং ফবফরপধঃবফ ঃড় ঝঐঊওকঐ ঐঅঝওঘঅ) কাব্যগ্রন্থে সংকলিত একাত্তরটি কবিতায়।এ গ্রন্থের একাত্তরটি অনুপম কবিতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন ও কর্মের যে কাব্যিক বয়ান প্রকাশিত হয়েছে, এর আলোর বিচ্ছুরণে নিশ্চয় দূর হবে অন্ধকার আর উজ্জ্বলতর হবে আমাদের প্রাণপ্রিয় সোনার বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে প্রায় একশত জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছাত্র-শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ব্লাইন্ড এ্যাডুকেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (বার্ডো) এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ সাইদুল হক বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১০ লক্ষাধিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছে। কেউ জন্মগত, কেউ অসুখে আক্রান্ত হয়ে, কেউ দূর্ঘটনার শিকার হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষদের পৃথিবীর বিখ্যাত উপন্যাস, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ইত্যাদি পড়ে রসাস্বদনের সুযোগ খুবই কম; এমনকি এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষেরা অধিকাংশই বই পড়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত। এছাড়াও, অমর একুশে বইমেলা-২০১৯ এ অংশগ্রহণের আনন্দ উপভোগের সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩১৬ বার

Share Button

Calendar

November 2020
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930